Templates by BIGtheme NET
Home / জাতীয় / ২৪৫ পৌরসভায় ভোট ডিসেম্বরে

২৪৫ পৌরসভায় ভোট ডিসেম্বরে

মধ্য নভেম্বরেই নির্বাচনের উপযোগী ২৪৫ পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের যে কোনো দিন হতে পারে ভোট গ্রহণ। তবে সব পৌরসভায় একই দিনে ভোট নেওয়া হবে কি-না সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। ইসি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ। এটা ইসির জন্য এক দুঃসাহসিক যাত্রা হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন তারা।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলেও এখন পর্যন্ত তারা আইনের কপি হাতে পাননি। তবে হাতে সময়
কম থাকায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ তারা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই পৌর নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীর খসড়া তৈরির কাজেও হাত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আচরণবিধির খসড়ার কাজও চলছে। ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনী আইন (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২) আরপিওর আলোকেই পৌর নির্বাচনের বিধিমালা প্রস্তুত করা হবে। কারণ এবারের নির্বাচনের অনেকটা কাজ জাতীয় নির্বাচনের মতোই হবে।
গতকাল মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সমকালের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, নতুন পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনে কমিশনকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। সেটা ধরে নিয়েই সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হচ্ছে। তিনি জানান, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে পৌর নির্বাচনের ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে একই দিনে সব পৌরসভার ভোট নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ৩২৩টি পৌরসভার মধ্যে এবার ২৪৫ পৌরসভায় ভোট নেওয়া হবে। ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) হিসাব অনুযায়ী ৩২৩ পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ৯৯ লাখের মতো। এই ভোটারদের জন্য ব্যালট পেপার ছাপা নিয়েই চিন্তিত ইসি। ইসির যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলী জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের জন্য তিন রঙের তিনটি ব্যালট হবে। সব ব্যালটেই দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম উল্লেখ থাকবে। দলীয়ভাবে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌর নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচনী বিধিমালা ও আচরণবিধিমালা সংশোধন করতে হচ্ছে। সেটা নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য কিছুটা সময় হাতে পাওয়া গেলেও পৌর নির্বাচনের জন্য ইসিকে দ্রুতই প্রস্তুতির কাজ শেষ করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত আইন প্রণয়নের কাজ শেষ হবে, ততই ইসির জন্য সুবিধা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, আগে পৌরসভায় একজন ভোটারের জন্য মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে তিন ধরনের ব্যালট ছাপানো হতো। কিন্তু এবার দলীয়ভাবে নির্বাচনে ২৪৫ পৌরসভার ৭৫ লাখ ভোটারের জন্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার ধরনের দুই কোটি ২৫ লাখ ব্যালট ছাপাতে হবে। প্রতিটি পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড ধরে ইসি এই হিসাব করলেও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে তারা জানিয়েছেন। কারণ এর মধ্যে অনেক পৌরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা প্রায় ২০টির মতো। দেশে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছাড়াও স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন।
ডিসেম্বরেই নির্বাচনের উপযোগী ২৪৬টি পৌরসভার মধ্যে রয়েছে_
খুলনার ৩২টি : মিরপুর, ভেড়ামারা, কুমারখালী, খোকসা, কুষ্টিয়া, চালনা, পাইকগাছা, দর্শনা, জীবননগর, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, হরিণাকু ু, শৈলকূপা, নওয়াপাড়া, মনিরামপুর, বাঘারপাড়া, চৌগাছা, কেশবপুর, যশোর, কালিয়া, নড়াইল, মোরেলগঞ্জ, মংলা পোর্ট, বাগেরহাট, মাগুরা, গাংনী, মেহেরপুর, কলারোয়া ও সাতক্ষীরা পৌরসভা।
চট্টগ্রামের ৩৯টি : চান্দিনা, লাকসাম, দাউদকান্দি, বরুড়া, চৌদ্দগ্রাম, হোমনা, খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙ্গা, হাজীগঞ্জ, ছেঙ্গারচর, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি, কচুয়া, মতলব, সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, মিরসরাই, পটিয়া, রাউজান, বারইয়ারহাট, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকু ু, বসুরহাট, চৌমুহনী, হাতিয়া, চাটখিল, দাগনভূঞা, ফেনী, পরশুরাম, লামা, বান্দরবান, আখাউড়া, রাঙামাটি, লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও রায়পুর পৌরসভা।
ঢাকার ৬৮টি : কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ, হোসেনপুর, কটিয়াদী, বাজিতপুর, ভৈরব, করিমগঞ্জ, শ্রীপুর, গোপালগঞ্জ, টুঙ্গীপাড়া, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, জামালপুর, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ধনবাড়ী, মধুপুর, টাঙ্গাইল, মির্জাপুর, ভূঞাপুর, সখীপুর, গোপালপুর, কালিহাতী, ধামরাই, সাভার, তারাব, সোনারগাঁ, মদন, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা, দুর্গাপুর, কেন্দুয়া, মাধবদী, মনোহরদী, নরসিংদী, বোয়ালমারী, নগরকান্দা, ফরিদপুর, কালকিনি, শিবচর, মাদারীপুর, সিংগাইর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মিরকাদিম, মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল, ভালুকা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ, নান্দাইল, ফুলপুর, ফুলবাড়িয়া, পাংশা, রাজবাড়ী, গোয়ালন্দ, নকলা, নালিতাবাড়ী, শেরপুর, শ্রীবরদী, নড়িয়া, ডামুডা্যা, জাজিরা, ভেদরগঞ্জ ও শরীয়তপুর।

বরিশালের ১৯টি :নলছিটি, পিরোজপুর, স্বরূপকাঠি, কলাপাড়া, কুয়াকাটা, আমতলী, বেতাগী, পাথরঘাটা, বরগুনা, মুলাদী, গৌরনদী, মেহেন্দীগঞ্জ, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন, দৌলতখান ও ভোলা।
রংপুরের ২০টি :কুড়িগ্রাম, নাগেশ্বরী, উলিপুর, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা, সুন্দরগঞ্জ, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর, বীরগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, সৈয়দপুর, জলঢাকা, পঞ্চগড়, বদরগঞ্জ, লালমনিরহাট ও পাটগ্রাম পৌরসভা।
রাজশাহীর ৫০টি : রহনপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শিবগঞ্জ, নাচোল, আক্কেলপুর, কালাই, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নজিপুর, নলডাঙ্গা, গোপালপুর, গুরুদাসপুর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, নাটোর, চাটমোহর, সাঁথিয়া, সুজানগর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, পাবনা, ঈশ্বরদী, শেরপুর, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, সান্তাহার, কাহালু, ধুনট, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জ (বগুড়া), বগুড়া, কাঁকনহাট, আড়ানী, মুণ্ডুমালা, কেশরহাট, গোদাগাড়ী, তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, তানোর, কাটাখালী, চারঘাট, দুর্গাপুর, নওহাটা, পুঠিয়া, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বেলকুচি ও কাজীপুর পৌরসভা।
সিলেটের ১৭টি :কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, কুলাউড়া, বড়লেখা, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ, ছাতক, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ, দিরাই, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ, চুনারুঘাট, মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসব পৌরসভার নির্বাচিত পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ দিনে আড়াই শতাধিক পৌরসভায় নির্বাচন হয়। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন অনুযায়ী প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদ পৌর পরিষদের। গত ১৭ জুন পৌরসভার তালিকা চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল ইসি। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি তালিকা কমিশনের কাছে রয়েছে। একই সঙ্গে ইসির মাঠ পর্যায়ের কমকর্তাদের কাছ থেকেও তালিকা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৪৫টি পৌরসভার তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসি।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful