Templates by BIGtheme NET
Home / সারাদেশ / ২৩৪ পৌরসভায় আজ ভোট গ্রহণ, ২২ টির ভাগ্য জানে না কেউ

২৩৪ পৌরসভায় আজ ভোট গ্রহণ, ২২ টির ভাগ্য জানে না কেউ

আইনি জটিলতায় আটকে পড়া ২২টি পৌরসভা বাদ দিয়েই ২৩৪টিতে শুরু হয়েছে নির্বাচন। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে হচ্ছে পৌর নির্বাচন। এতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও অংশ নিচ্ছে জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলগুলো। ফলে এ নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের আমেজ লক্ষ করা গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি মন্তব্য করলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সবাইকে অভয় দিয়েছে।

আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৩৪টি পৌরসভার তিন হাজার ৫৫৫টি ভোটকেন্দ্রের ২১ হাজার ৭১টি কক্ষে একযোগে ভোট নেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে ভোট গণনা। তারপর রাতেই জানা যাবে ভোটের ফলাফল।

তবে ২২ পৌরসভায় সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টির মামলায় আজ এগুলোতে নির্বাচন হবে না। কবে হবে তাও কেউ জানেন না।

ওই ২২টির মধ্যে ৯টিতে আছেন অনির্বাচিত প্রশাসক। মামলার কারণে তিনটির কার্যক্রম শুরুই হচ্ছে না। এ ছাড়া ছয়টিতে মেয়াদ পার করেও বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সেখানকার মেয়ররা। বাকি চারটিতে ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও মামলার কারণে হচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী দেশে পৌরসভা আছে ৩২৪টি। এর মধ্যে ৬৬টি পৌরসভার অনেকগুলোরই মেয়াদ শেষ হয়নি, কয়েকটি পৌরসভা নতুন।

মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র ছয় পৌরসভায়

মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ম্যাব) সভাপতি আবদুল বাতেন পাবনার বেড়া পৌরসভার মেয়র। ১৯৯৯ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি ১৬ বছরের বেশি ওই দায়িত্বে আছেন। মেয়াদ শেষেও ১১ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এই দায়িত্বে আছেন। এলাকা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে ২০০২ সালে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলায় নির্বাচন বন্ধ হয়, এরপর আরও কয়েকটি মামলা হয়।

যশোরের ঝিকরগাছায় ২০০১ সালের ২ এপ্রিল সর্বশেষ নির্বাচন হয়। ২০০৬ সালে মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু তার আগেই সীমানা-সংক্রান্ত তিনটি রিট করেন স্থানীয় তিন ব্যক্তি। মেয়াদ শেষ হলেও সাড়ে নয় বছর ধরে এ পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে না। ঝিকরগাছা পৌর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, মেয়র ও কাউন্সিলররা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে দিচ্ছেন না।

২০০৪ সালে নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে প্রথম নির্বাচন হয়। চার বছর আগে মেয়াদ শেষ হলেও ওই পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে না। পৌরসভা বিলুপ্তির সরকারি প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলায় নির্বাচন আটকে গেছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার নির্বাচন এ যাত্রায় হচ্ছে না এলাকা বর্ধিতকরণ সমস্যার কারণে। নওগাঁর ধামইরহাট পৌরসভার নির্বাচন ২০১১ থেকে মামলায় আটকে আছে।

রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার মেয়াদ শেষ হয় ২০১১ সালের মার্চে। সীমানা-সংক্রান্ত মামলার কারণে এত দিন নির্বাচন হয়নি।

৯ পৌরসভায় আছেন প্রশাসক

নরসিংদীর শিবপুর পৌরসভা হয় ২০০৬ সালের ২৫ জুন। কিন্তু স্থানীয় দুই ব্যক্তি পৌরসভার বিপক্ষে হাইকোর্টে রিট করলে ভোটার তালিকা আটকে যায়। গত বছর রিট তুলে নেওয়ার পরে আরও নতুন রিট হয়। নির্বাচন আটকে যাওয়ায় প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন সেখানকার ইউএনও।

বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভা হলেও সীমানার জটিলতার মারপ্যাঁচে নির্বাচন হচ্ছে না ১৫ বছর। উপজেলার কয়েকটি গ্রামকে পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে তিনটি রিট হয়। ২০০১ সালে পৌরসভা ঘোষণার পর থেকে প্রশাসক দায়িত্বে আছেন। সোনাতলা পৌরসভার আগুনাতাইর এলাকার একাধিক ভোটার অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় নির্বাচন বন্ধ করতে আওয়ামী লীগ কাউকে দিয়ে মামলা ঠুকে দেয়। এখন আওয়ামী লীগ নির্বাচনের পক্ষে হলেও বিএনপি তাদের লোক দিয়ে রিট করায় নির্বাচন আটকে গেছে।

পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভা হয় ২০০১ সালের ৭ মে। এরপর সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একের পর এক রিট আবেদন খারিজ হচ্ছে, আবার নতুন মামলা হচ্ছে। এখানে প্রশাসনের কর্মকর্তারাই প্রশাসক হন।

একই জেলার দেবীগঞ্জ পৌরসভা হয় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর। সেখানে এখন পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ ও ওয়ার্ড বিভক্তকরণের কাজ শুরু হয়নি। ফলে নির্বাচনও হবে না। ইউএনও প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভা ২০০১ সালে গঠিত হওয়ার পর একবারও নির্বাচন হয়নি। সরকার-সমর্থক একজন নেতা এখন সেখানকার প্রশাসক। পৌরসভা হওয়ার সময় এলাকা অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি জানিয়ে তিনটি মামলা হয়, যেগুলো চলমান।

কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌরসভা হয় ২০০২ সালে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন হয়নি। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সেখানকার একটি পক্ষ পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে চায় না। এ নিয়ে দুটি মামলা চলছে। বর্তমানে সেখানে ইউএনও প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভা হয় ২০১৩ সালে। সীমানা নির্ধারণ জটিলতায় নির্বাচন হয়নি। সেখানে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌরসভা হলেও ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হয়নি। স্থানীয় ইউএনও প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

দিনাজপুরের বিরল পৌরসভা হয় ২০১১ সালে। এখানে মামলা নিষ্পত্তি হলেও ওয়ার্ড বিভক্তকরণ হয়নি। ইউএনও প্রশাসকের দায়িত্ব।

উপযোগী হলেও নির্বাচন হচ্ছে না চারটিতে

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি। এরপর ২০১৩ সালে পৌরসভার সীমানা বাড়ানো হলে এক ব্যক্তির মামলায় নির্বাচন আটকে যায়।

যশোরের বেনাপোল পৌরসভা ২০১৩ সালে সীমানা বর্ধিত করার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্চ আদালতে রিট মামলা করেন।

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি পৌরসভার নির্বাচনও হচ্ছে না। জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, এই পৌরসভায় তিনটি ওয়ার্ড বর্ধিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে গেজেটের জন্য পাঠানো হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের সদর পৌরসভার নির্বাচনও একাধিক মামলায় আটকে আছে।

এই চারটিতেই আগামী মাসে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

তিন পৌরসভা শুরুই হয়নি

চাঁদপুরে নারায়ণপুর পৌরসভা হয় ২০১৩ সালে। কিন্তু মামলার কারণে পৌরসভার কার্যক্রম আটকে গেছে। বর্তমানে এটি না পৌরসভা, না ইউনিয়ন।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভা ২০১১ সালের জুলাই মাসে গঠন হলেও স্থানীয় এক ব্যক্তির মামলায় এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। রংপুরের পীরগঞ্জ ২০১৩ সালে পৌরসভা হলেও মামলার কারণে এটিরও কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। এদিকে ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে না সিটি করপোরেশন হতে পারে এমন সম্ভাবনা থাকায়।

এদিকে, আজকের নির্বাচনে ২৩৪ পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১২ হাজার ১৬৯ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৯৪৩ জন ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আট হাজার ৭৪৬ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে দুই হাজার ৪৮০ জন। মেয়র পদে রাজনৈতিকভাবে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২৩৩, বিএনপির ২২৩, জাতীয় পার্টি-জাপার ৭৪, জাতীয় পার্টি-জেপির ৬ জনসহ ২০টি রাজনৈতিক দলের ৬৫৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র ২৮৫ জন নির্বাচন করছেন। ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র পদে সাতজন এবং কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন। ২৩৪ পৌরসভায় মোট ভোটার ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২৮৪ জন এবং নারী ভোটার ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬০ জন।

এদিকে নির্বাচনে ২৩৪ জন রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ তিন শতাধিক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ২৩৪ পৌরসভায় ৬৬ হাজার ৭৬৮ জন কর্মকর্তা ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পৌর নির্বাচনে মাঠে থাকছেন এক হাজার ২০৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট। এর মধ্যে ৯৬৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২৩৫ জন। গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে আচরণবিধি তদারকিতে মাঠে কাজ করছেন ২৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকছে ভোটের পরও দুই দিন। নির্বাচনে মোবাইল ফোর্স হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত থাকছেন ৭৪ হাজার পুলিশ-আনসার-ভিডিপির সদস্য।

এছাড়া ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকাগুলোয় মোট ২৭৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া উপকূলীয় ছয়টি পৌরসভা মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, পাথরঘাটা, রামগতি, সন্দ্বীপ ও হাতিয়ায় কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে।

সারাদেশে ১ হাজার ৬১৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন, যা মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় অর্ধেক। বিভাগভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আছে খুলনা বিভাগে। এই বিভাগের ৪৮১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকা বিভাগে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৯৯১টির মধ্যে ৩৪৮টি। রাজশাহী বিভাগের ৮০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২৪৬টি। রংপুর বিভাগের ৩৩৮ কেন্দ্রের মধ্যে ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৮০টির মধ্যে ১৬৮টি। সিলেট বিভাগের ১৮৯ কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৪৬টি। আর বরিশাল বিভাগের ১৭৬ কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৮টি। বুধবার দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ২৩৪টি মেয়র, দুই হাজার ১৯৩টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ৭৩১টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ভোট নেওয়া হবে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful