Templates by BIGtheme NET
Home / সারাদেশ / ২১ ডিসেম্বর নাটোর মুক্ত দিবস

২১ ডিসেম্বর নাটোর মুক্ত দিবস

১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশের বেশিরভাগ এলাকা মুক্ত হয়ে বিজয় উল্ল­াস করলেও নাটোর ছিল অবরুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হানাদার পাকবাহিনী নাটোরের দিঘাপতিয়া গভর্নর হাউসে রাজশাহী বিভাগের সেক্টর হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেছিল। তাই নাটোর পাক-হানাদার মুক্ত হয়েছিল ২১ ডিসেম্বর।

নাটোরে একাত্তরের পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর দ্বিতীয় হেড কোয়ার্টার হওয়ার কারণে সেখানে অবস্থান করছিল পাকিস্তান সেনা বাহিনীর প্রায় আট হাজার সেনা সদস্য। বিজয় দিবসের পাঁচদিন পরে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী নাটোরে মিত্র বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পন করে। আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পনের পর নাটোর হয় মুক্ত। শুরু হয় বিজয় উল্লাস।

২৬ মার্চের কাল রাতে ঢাকায় অপারেশন সার্চ লাইটে অসংখ্য বাঙালী হত্যার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

একাত্তরের ২৯ মার্চ ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে এক প্লাটুন সেনা সদস্য পথ হারিয়ে লালপুর উপজেলার ময়নায় ঢুকে পড়ে। পুলিশ, ইপিআর, আনসার সহযোগে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধে মেজর আসলাম রাজাসহ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নয়জন এবং প্রায় অর্ধশত বাঙালী শহীদ হন। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ। সম্ভবত ময়না যুদ্ধের প্রতিশোধ এবং যোগাযোগ সুবিধার কারণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নাটোরে তাদের দ্বিতীয় হেড কোয়ার্টার প্রতিষ্ঠা করে। সমগ্র উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের যুদ্ধ নাটোর থেকে পরিচালনা করা হতো। শহরের ফুলবাগানে সিও অফিসে স্থাপিত হয় প্রধান কার্যালয়।

এছাড়া তৎকালীন গর্ভনর হাউজ, রানী ভবানী রাজবাড়ী, আনসার ক্যাম্প, পিটিআই এবং এন.এস কলেজে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধা নবীউর রহমান পিপলু বলেন, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পাকিস্তানের সেনা বাহিনী অবস্থান নেয়ায় নাটোর শহর ১৩ এপ্রিলের পর থেকে হয়ে পড়ে কার্যতঃ অবরুদ্ধ। ইতোপূর্বে নাটোর টাউন পার্কে খন্দকার আবু আলীর নেতৃত্বে গঠিত সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ এবং নাটোর রিক্রিয়েশন ক্লাব থেকে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কার্যক্রম মন্থর হয়ে পড়ে।

নাটোর শহরে সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারনে মুক্তিযোদ্ধারা নাটোর ছাড়তে শুরু করেন বলেন জানান মুক্তিযুদ্ধের এ অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক আব্দুর রউফ।

তিনি বলেন, নাটোরের মুক্তিযোদ্ধারা প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর মুক্তিযোদ্ধারা নাটোরে ফিরে আসতে শুরু করেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে খন্ড খন্ড বিজয় মিছিল হতে থাকে। ১৩ এপ্রিল থেকে ১৫ ডিসেম্বর নাটোর শহর পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ১৬ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা নিজেদের গুটিয়ে নেয়। এসময় উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে সেনাবাহিনী নাটোরে আসতে থাকে। নাটোরে আসেন মিত্র বাহিনী।

এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২১ ডিসেম্বর তৎকালীন গর্ভনর হাউজ তথা বর্তমান উত্তরা গণভবনে ১৪১ জন অফিসার, ১১৮ জন জেসিও, পাঁচ হাজার ৪৫০ জন সিপাহী ও এক হাজার ৮৫৬ জন প্যারামিলিশিয়া বাহিনী নিয়ে পাকিস্তান সেনা বাহিনীর অধিনায়ক মেজর জেনারেল নজর শাহ ও ব্রিগেডিয়ার নওয়াব আহম্মেদ আশরাফ আত্মসমর্পন করেন।

আত্মসমর্পন দলিলে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মিত্র বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল লসমন সিং। ১০ হাজার ৭৭৩টি অস্ত্রসহ জমা হয় ট্যাংক, মর্টারসহ অসংখ্য সাজোঁয়া যান। সকালের আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে কোন সিভিলিয়নের প্রবেশাধিকার ছিলনা বলে জানান এলাকার ঐ সময়ের যুবক বর্তমানে ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান। একই মত পোষন করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নাটোর জেলা শাখার কমান্ডার আব্দুর রউফ।

আত্মসমর্পনের খবর ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। সারাদিন ধরে শহরে চলে বিজয় মিছিল আর মুক্ত আকাশে গান ফায়ার। জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরিত হয় সারা শহর।

নাটোর মুক্ত দিবস উপলক্ষে শহরে নাটোরে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful