Templates by BIGtheme NET
Home / খেলাধুলা / ২০১৫: রোনালদোর অর্জন, ফিফার বর্জন

২০১৫: রোনালদোর অর্জন, ফিফার বর্জন

ফুটবল গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা, যেকোনো সময়েই যে কোনো কিছু সম্ভব। এরই পরিক্রমায় ২০১৫ সালে মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে, দুজায়গাতেই নানান ঘটনার জন্ম দেয় ফুটবল। বছরজুড়েই স্মরণীয় সব ফুটবলীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন মেসি, রোনাল্ডোরা। পাশাপাশি ফুটবল অঙ্গনকে কলঙ্কিত করেছেন ব্লাটার-পুতিনরা। সব মিলিয়ে ঘটনাবহুল একটি বছরের শেষ প্রান্তে ফুটবল অঙ্গন। ফুটবলকে ঘিরে এই বছরের আলোচিত-সমালোচিত উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

চলুন ফিরে দেখি ফুটবলে ২০১৫ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো…

ব্যালন ডি’অর:

ব্যালন ডি’অর এর পুরষ্কার হাতে রোনালদো। ছবিঃ গেটি ইমেজ

কে সেরা, মেসি না রোনালদো? এই প্রশ্নে ২০১৪ সালের অসাধারণ পারফরম্যান্সে বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসির চেয়ে প্রায় দিগুণ ভোট পেয়ে এই পুরষ্কার বগলদাবা করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে দ্বিতীয় এবং ক্যারিয়ারে এটা রোনালদোর তৃতীয় ব্যলন ডি’অর। এর আগে ২০০৮, ২০১৩ সালে এই পুরষ্কার জিতেছিলেন তিনি। আর মেসি ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চারবার এই পুরষ্কার জিতেন। ২০১৫ সালের ফিফা ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও রয়েছেন পর্তুগিজ এই সুপারস্টার। এবার মর্যাদার এই পুরস্কারটি হাতে তুলতে পারলে চতুর্থবারের সাফল্যে লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেলতে পারবেন তিনি।

 

২৩ বছর পর আফ্রিকার ইতিহাস উলট-পালট:

২৩ বছর পর আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্যের মুকুট পুনুরুদ্ধার আইভরি কোস্টের। ছবিঃ সংগৃহীত

এই বছরেই প্রায় দুই যুগের খরা ঘুচিয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পুনরুদ্ধার করে আইভরি কোস্ট। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে ঘানাকে হারিয়ে ২৩ বছর পর আফ্রিকান নেশন্স কাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে ইয়াইয়া তোরের দল।  ৯ ফেব্রুয়ারি আফ্রিকান নেশন্স কাপ ফুটবলের জমজমাট ফাইনালে আইভরিকোস্ট পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৯-৮ গোলে পরাজিত করে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ঘানাকে।

ফিফা সভাপতি স্লেপ ব্লাটারের পদত্যাগ:

ফিফা কেলেঙ্কারিতে স্লেপ ব্লাটারের পদত্যাগ। ছবিঃ সংগৃহীত

এপ্রিলে ফিফার ঘুষ কেলেংকারি নিয়ে প্রথম বোমা ফাটার পরই বোঝা গিয়েছিল এ ঘটনা নাড়িয়ে দেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সব তথ্য। জানা যায়, অনেক আগেই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ফিফা। ২০১৮ সালে রাশিয়া এবং ফুটবলীয় সংস্কৃতির দেশ না হয়েও ২০২২ সালে কাতারকে বিশ্বকাপের আয়োজক করা নিয়েও প্রশ্ন উঠে। কোটি কোটি ডলারের এ দুর্নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তদন্ত শুরুর পর ফিফায় কয়েক দফা ধরপাকড় চলেছে। ফিফার নীতিনির্ধারকদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন। প্রবল চাপের মুখে ফিফাকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান সংস্থার সভাপতি সেপ ব্লাটার। এর ফলে ১৭ বছর পর ফিফায় ব্ল্যাটার-রাজ্যের অবসান হলো।

আফ্রিকার বর্ষসেরা ইয়াইয়া তোরে:

আফ্রিকার বর্ষসেরা পুরষ্কার পান ইয়াইয়া তোরে। ছবিঃ সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারিতে নিজ দেশের আফ্রিকান নেশন্স কাপ জয়ে তোরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ ছাড়া সিটির হয়েও তিনি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে চলেছেন। গত মৌসুমে সিটি দ্বিতীয় স্থান নিয়ে মৌসুম শেষ করে। এবারও শিরোপা লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত বেশ ভালভাবেই টিকে আছে সিটিজেনরা। বছর জুড়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখানোয় বিবিসি আফ্রিকান বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব জয় করে নিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির আইভরি কোস্টের মিডফিল্ডার ইয়াইয়া তোরে। এর আগে ২০১৩ সালে এই খেতাব জয় করেছিল ৩২ বছর বয়সী তোরে।

এশিয়ার শ্রেষ্ঠ অস্ট্রেলিয়া!:

এশিয়ার দেশ না হয়েও এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ছবিঃ ফক্স স্পোর্টস

এশিয়ার কোনো দেশ না হয়েও এএফসির সদস্য রাষ্ট্র হওয়ায় এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টের আয়োজকের দায়িত্ব পায় অস্ট্রেলিয়া। ঘরের মাঠে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্যের মুকুট পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সিডনিতে শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ২-১ গোলের ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় সকারুরা।

ইংলিশ লিগের চ্যাম্পিয়ন চেলসি:

চার বছর পর চেলসির শিরোপা জয়। ছবিঃ সংগৃহীত

দ্বিতীয়বারের মতো চেলসির দায়িত্ব নিয়েই লিগ শিরোপা এনে দেন কোচ হোসে মরিনহো। সেই সঙ্গে ব্লুজদের পাইয়ে দেন ক্যাপিটাল ওয়ান কাপের শিরোপাও। ২০০৯-১০ মৌসুমে লিগ শিরেপা জয়ের পর চারটি বছর এর দেখা পায়নি ব্লুজরা। ৩ মে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে তিন ম্যাচ হাতে রেখেই লিগ শিরোপা স্বাদ পায় ব্লুজরা। লিগে এটি তাদের চতুর্থ শিরোপা। অসাধারণ এই সাফল্যে মৌসুম শেষে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারও উঠেছিল পর্তুগিজ এই কোচের হাতে। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরু থেকেই দৈন্যদশা তার। চলতি মৌসুমে চেলসি যেনো নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে।

চিলির পৌষমাস, আর্জেন্টিনার সর্বনাশ!: 

প্রথমবারের মত কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে নেয় চিলি। ছবিঃ সংগৃহীত

কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে কখনো এই শিরোপা জেতেনি চিলি। অন্যদিকে ফুটবলের সব চেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে হেরে রানার্সাপ হওয়া আর্জেন্টিনা। এই দুই মাঠে নামলো কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টের ফাইনালে। শ্বাসরুদ্ধকর এই ফাইনালে চিলির সান্তিয়াগো ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মেসির আর্জেন্টিনাকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই আসরে শিরোপা জিতে সানচেজ-ভিদালরা। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর কোপা আমেরিকাতেও ফাইনালে এসে পরাজয় বরণ করতে হয় মেসি-আগুয়েরোদের।

বরখাস্ত মরিনহো:

মরিনহোকে বরখাস্ত করে চেলসি। ছবিঃ ডেইলি মেইল

পোর্তো, চেলসি, মিলান কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ। যেখানেই গেছেন সেখানেই সাফল্যের দেখা পেয়েছেন মরিনহো। অসাধারণ পারফরম্যান্সের সৌজন্যে ক্লাবকে শিরোপা উপহার দিয়েই নিজের কৌশলগত দক্ষতার পমাণ দিয়েছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো যোগ দিয়ে প্রিমিয়ার লীগেও সাফল্য পেয়েছেন পর্তূগীজ কোচ। কিন্তু গত মৌসুমে ব্লূজদের শিরোপা উপহার দেওয়া মরিনহোর চলতি মৌসুমটা কাটে একেবারেই বাজেভাবে। গতসপ্তাহে লিচেস্টার সিটির কাছেও হার মানে চেলসি। এর ফলে লীগের শেষ ষোল ম্যাচের ৯টিতেই পরাজয় দেখে প্রিমিয়ার লীগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেইসঙ্গে রেলিগেশন থেকে তাদের দূরত্ব কেবল ১ পয়েন্ট। আর দলের এমন অবস্থায় কোচের ব্যাপারে বৈঠকে বসে ক্লাব কতৃপক্ষ। আর সেই বৈঠকেরই ফলাফল বহিষ্কার! ২০০৭ সালে শেষ মুহুর্তে বরখাস্তের পর দ্বিতীয়বারের মতো লজ্জাজনকভাবে চেলসি থেকে বরখাস্ত হলেন মরিনহো।

ইতিহাস গড়ে ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা:

২০০০ সাল থেকে শুরু হয় ক্লাব বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট। ২০০৯ সালে এই আসরে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয় বার্সেলোনা। দুই বছর পর আবারও শিরোপা পুনরুদ্ধার করে কাতালান ক্লাবটি। এবার কী পারবে ইতিহাস গড়তে? এমস সমীকরণকে সামনে রেখে জাপানের ইয়োকোহামা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেতের মুখোমুখি হয়েছিলো বার্সেলোনা। মেসি-সুয়ারেজের গোলে রিভার প্লেটকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বের প্রথম ক্লাব হিসেবে তৃতীয়বার ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়ে বার্সেলোনা।

আট বছর নিষিদ্ধ ব্লাটার-পুতিন:

দুর্নীতির অভিযোগে এই বছরটি বেশ টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে কাটিয়েছে বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিভিন্ন দেশকে ঘুষের বিনিময়ে বিশ্বকাপের আয়োজক ও বিজ্ঞাপনসত্ত্ব থেকে দুর্নীতির জন্য সংস্থাটির অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে টানা পঞ্চম মেয়াদে ফিফা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন সেপ ব্ল্যাটার। তখন ব্লাটারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি মনে করা হচ্ছিল উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনিকে। কিন্তু গল্পের শেষ দৃশ্যে এসে হাতে হাত ধরে দু’জনই ডুবলেন! ২০ লাখ ডলারের একটি অবৈধ আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তা তদন্ত শেষে কয়েকদিন আগেই ব্লাটার ও প্লাতিনিকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফার নৈতিকতা কমিটি। এ নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই কর্মকর্তার ফুটবল-অধ্যায় কার্যত শেষ হয়ে গেল।

লিস্টার সিটির চমক:

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে লিস্টার সিটি। ছবিঃ মিরর

ক্লাব ফুটবলে ২০১৫ সালের সেরা চমক লেস্টার সিটি। পুঁচকে দলটি এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে! এই মৌসুমে খেলা ১৭ টি ম্যাচের ১১টিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিস্টার সিটি। তারা ড্র করেছে পাঁচটি ম্যাচে, হেরেছে একটিতে! ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে দলটি পয়েন্ট টেবিলেরে শীর্ষে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে আর্সেনাল। তাদের পয়েন্ট ৩৬।

এছাড়াও আর একটি ঘটনা এ বছর ফুটবলবিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্যারিসের স্টেডিয়ামের গেটে বোমা হামলা। এর জের ধরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ বাতিল হয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জিতেছে ফুটবলই।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful