Templates by BIGtheme NET
Home / খেলাধুলা / সেই মালদ্বীপও এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে!

সেই মালদ্বীপও এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে!

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়টি মালদ্বীপের বিপক্ষেই। ১৯৮৫ সালে ঢাকার দ্বিতীয় সাফ গেমসে মালদ্বীপকে নিয়ে রীতিমতো ছেলে-খেলা করেছিলেন আসলাম-কায়সার-ওয়াসিম-ইলিয়াসরা। ৮-০ গোলের সেই বিশাল জয়টি আজও গৌরবে উজ্জ্বল এদেশের ফুটবল ইতিহাসে। কিন্তু সময় বদলে গেছে। ভারত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি ফুটবল-সংস্কৃতিতে এগিয়ে গেছে অনেকটা পথ। যে দলটি এক সময় বাংলাদেশের কাছে ছিল ‘সহজ প্রতিপক্ষ’, তারাই এখন চলে যেতে বসেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ জয় পেয়েছে এক যুগ আগে। ২০০৩ সালে ঘরে মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়টা এসে​ছিল আরিফ খান জয়ের গোলে। সেবার প্রতিযোগিতার ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচটি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ গোলে ড্র থাকার পর বাংলাদেশ শিরোপা জিতেছিল টাইব্রেকার-ভাগ্যে। মালদ্বীপের বিপক্ষে আনন্দময় অভিজ্ঞতার সে-ই শেষ। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে দিল্লির সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল ​পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্র এই দেশটি।
আজ ত্রিবান্দ্রামে সাফ সুজুকি কাপে মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের বাঁচা-মরার লড়াই। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে ধরাশায়ী হওয়ার পর মালদ্বীপের বিপক্ষে কেবল জয়ই পারে বাংলাদেশের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে। এ যেন এক অগ্নিপরীক্ষা। প্রতিভার দিক দিয়ে যে দলটিকে ইতিমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে মেনে নিয়েছেন অনেকে, তাদের বিপক্ষে জিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াই বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে পাহাড় ডিঙানোর মতোই কঠিন এক চ্যালেঞ্জ।
১৯৮৪ সালে মালদ্বীপের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম সাক্ষাতে (কাঠমান্ডু সাফ গেমসে) বাংলাদেশ জিতেছিল ৫-০ গোলে। পরের বছর ঢাকায় ৮-০ গোলে জয়ের পর ১৯৯৩ সালে ঢাকায় ষষ্ঠ সাফ গেমসে মালদ্বীপের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল বাংলাদেশ। এরপর ১৯৯৫ ও ১৯৯৭ সালে মাদ্রাজ ও কাঠমান্ডুর দুটো লড়াইও ড্র হয় যথাক্রমে ‘০-০’ ও ‘১-১’ গোলে। ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফ গেমসে মালদ্বীপের কাছে প্রথম হার দেখে বাংলাদেশ, ২-১ গোলে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই সাফে প্রথমবারের মতো ফুটবলের সোনার পদক গলায় নিয়েছিল বাংলাদেশ।
২০০০ সালে মালদ্বীপের মাঠে (মালে) এখনো পর্যন্ত দুই দলের একমাত্র লড়াইটা ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ২০০৩ সালে ঢাকার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দুটো ম্যাচের পর সর্বশেষ দিল্লিতে তো হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে। পরিসংখ্যান বলছে মোট দশটি ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে ৩টিতে, মালদ্বীপ ২টিতে, বাকি ৫টি ম্যাচ শেষ হয়েছে অমীমাংসিতভাবে। জয়ের পাল্লাটা যদিও ন্যূনতম ব্যবধানে এখনো বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে, কিন্তু পরিসংখ্যান কিন্তু বর্তমানের চেয়ে অতীত ইতিহাসকেই বেশি করে তুলে ধরে।
এই দুই দেশের ফুটবলের বর্তমান অবস্থার তুলনামূলক চিত্র পুরোপুরিই মালদ্বীপের পক্ষে। জনপ্রিয়তায় মালদ্বীপে আর কোনো খেলাই ফুটবলের ধারেকাছে নেই। খেলাটিতে একটি বড় স্বপ্নকে সামনে রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে তারা। শক্ত ফুটবল সংস্কৃতির কল্যাণে ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্রে এখন প্রতিভাবান ফুটবলারের ছড়াছড়ি। তৃণমূল থেকে ফুটবলার তৈরি করে নিয়ে আসার ব্যাপারে মালদ্বীপ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন মুখী কার্যক্রমের সুফল এখন ভোগ করছে তাদের জাতীয় দল। আলী আশফাক, আহমেদ তরিকের মতো শয়তানের খেলোয়াড়েরা তাই ফুটবল নিয়ে মালদ্বীপের স্বপ্নকে আরও বিস্তৃতই করে।
আশি-নব্বইয়ের দশকে ফুটবলীয় মান বিচারে বাংলাদেশের ধারেকাছে ছিল না মালদ্বীপ। জাতীয় দলের পাশাপাশি আবাহনী-মোহামেডান ক্লাব পর্যায়ে বেশ কয়েকবারই মালদ্বীপের শীর্ষ ক্লাবগুলোকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে। সেই অবস্থার পরিবর্তন তো চোখেই দেখা যাচ্ছে। নিচ থেকে অনেক ওপরে উঠে গেছে মালদ্বীপ, আর বাংলাদেশের পতনটা যেন ঘটে চলেছে ধারাবাহিকভাবেই।
সেই পতন এমনই ভয়াবহ যে তা লজ্জায় মুখ ঢাকতে বাধ্য করে স্বদেশের ফুটবলপ্রেমী মানুষকে!

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful