Templates by BIGtheme NET
Home / সম্পাদকীয় / সিলেটি-ননসিলেটি বিভাজন প্রমোট করছেন গাফফার চৌধুরী

সিলেটি-ননসিলেটি বিভাজন প্রমোট করছেন গাফফার চৌধুরী

কয়েকদিন আগেও এমন একটা সময় ছিলো যখন আবদুল গাফফার চৌধুরীর মতো ‘ট্রেডমার্কড’ গুণীজনকে সম্মান জানাতে বিশেষ কোনো দল বা মতের অনুসারী হওয়ার প্রয়োজন হতো না।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’– এই একটিমাত্র গান লিখেই যিনি হয়েছিলেন বিখ্যাত, গঠনমূলক সমালোচনাধর্মী কলাম হাতখুলে লিখে যিনি ছিলেন দেশে-বিদেশে প্রবল জনপ্রিয়, বছর খানেক ধরে কী এমন জটিল-কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন তিনি! ‘না ফেরার দেশে’ যাবার আগে কেন তিনি বারেবারে ‘নায়ক থেকে ভিলেন’ রূপে আবির্ভূত হচ্ছেন, তা বোধগম্য হচ্ছেনা তার কাছের মানুষদের কাছেই।

আবদুল গাফফার চৌধুরীর বয়স হয়েছে সন্দেহ নেই। যেহেতু প্রবাসে থাকেন যুগ যুগ ধরে, তাই একটু যত্নবান হলেই পারতেন জীবনের শেষবেলায় শেষদিনগুলি প্রবাসীদের ভালোবাসায় সিক্ত থেকে সসম্মানে কাটিয়ে দিতেন, এমন আক্ষেপ তারই ভক্ত-অনুরাগীদের।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বয়সের ভারে হোক আর অজানা কোনো অতৃপ্তি থেকে হোক, মাইক্রোফোন পেলেই আজকাল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন তিনি। লাগামহীন উল্টাপাল্টা অযৌক্তিক, অপ্রাসঙ্গিক, এমনকি আত্মঘাতী কথাবার্তা বলছেন। নন-প্রোডাক্টিভ সব বেহুদা বাক্যব্যয় করে আবার পরক্ষণেই হয় ‘আংশিক অস্বীকার’ করছেন না হয় বলছেন ‘আমার বক্তব্যের অপব্যাখা করেছে অপশক্তি’।

বয়োবৃদ্ধ আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্য বিলেতের মনোবিজ্ঞানী বা সাইকোলজিস্টদের কোনো ‘প্রেসক্রিপশান’ আছে কি-না, তা ভালো বলতে পারবেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বা যারা তাকে কাছে থেকে চলতে-ফিরতে দেখাশোনা করেন তারা। বছরের শেষে তাকে নিয়ে প্রবাসীদের উদ্বেগের কারণটি হচ্ছে, দূর প্রবাসে কমিউনিটির কল্যাণধর্মী সৃষ্টিশীল কথাবার্তা না বলে বেকুবের মতো তিনি যেভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন দুর্গন্ধময় ‘ইজম’ তথা আঞ্চলিকতার বীষবাষ্প, তা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করছে ইদানিং। সিলেটি-ননসিলেটি বিভাজনকে তিনি মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রমোট করেছেন চলতি ডিসেম্বরেই লন্ডনে ‘চ্যানেল আই ইউকে’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে।

আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্মদিন উপলক্ষে ‘চ্যানেল আই ইউকে’ তাদের ‘স্ট্রেইট ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানটি সেদিন উৎসর্গ করে শ্রদ্ধাভাজন এই ভাষাসৈনিকের সম্মানে। সম্মান-সমাদরের প্রতিদান হিসেবে তিনি চ্যানেলটির লন্ডনসহ ইউরোপ জুড়ে লাখো দর্শক-শ্রোতাদের এমন স্ট্রেইট সম্মানই দিলেন, চলছে এখন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

‘সিলেটিরা লাঙ্গল-টু-লন্ডন সংস্কৃতির ধারকবাহক, বিলেতে ভালো সব কাজগুলো করেছে অশিক্ষিত সিলেটিরা। আলাস্কায় গিয়ে দেখি সিলেটিরা পানের দোকান খুলে বসেছে। আবদুল গাফফার চৌধুরীর এমনসব বাজে ডায়ালগ সেদিন শুধু চ্যানেল আইয়ের ভাবমূর্তির বারোটা বাজায়নি, সেই সাথে হতবাক করেছে বিলেতসহ গোটা ইউরোপের নতুন প্রজন্মকে, যারা ভালোবাসেন নিজেদেরকে বাঙালি বা বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে।

আবদুল গাফফার চৌধুরীর হয়তো জানা নেই, বিলেতের সীমানা পেরিয়ে গোটা ইউরোপের নতুন প্রজন্ম ২০১৬ সালের দ্বারপ্রান্তে এসে মোটেও প্রস্তুত নয় নিজেদেরকে সিলেটি-ননসিলেটি হিসেব পরিচয় দিতে। ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই তাকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবার। মুখে লাগাম লাগাবার তার এখনই যে উপযুক্ত সময়।

নইলে লাঠিতে ভর করে কাল ইতালী বা গ্রীসে গিয়ে এই গুনীজনই বলবেন, ‘ফরিদপুইরা-শরীয়তপুইরা-নোয়াখাইল্লারা লাঙ্গল-টু-রোম-মিলান-এথেন্স সংস্কৃতির ধারকবাহক’। আঞ্চলিকতা বা ইজমকে প্রবাসে যারা মনেপ্রাণে ঘৃণা করেন, তারা চান আবদুল গাফফার চৌধুরী যাতে জীবনের শেষ দিনগুলো ভালোয় ভালোয় কাটিয়ে দিতে পারেন। যুদ্ধাপরাধীদের মতোই ফুলের মালার পরিবর্তে কফিনে একদিন যাতে ছেড়া জুতো-সেন্ডেল নিক্ষেপ করতে না হয়, জীবদ্দশায় সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যে তারই।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful