Templates by BIGtheme NET
Home / বিদেশ / সিরিয়ায় ‘আইএস-বিরোধী’দের প্রশিক্ষণ দেয়ার সিদ্ধান্ত ‘ভুল রাজনীতি’, এবার তাই অস্ত্র সহায়তা!

সিরিয়ায় ‘আইএস-বিরোধী’দের প্রশিক্ষণ দেয়ার সিদ্ধান্ত ‘ভুল রাজনীতি’, এবার তাই অস্ত্র সহায়তা!

আবারও কথিত ভুলের সরল স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের। সিরিয়ায় সুন্নিপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে ভুল রাজনীতি উল্লেখ করে সেখান থেকে পিছু হটলো তারা। এবার সমরাস্ত্র সহায়তায় মনোযোগী হবার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন সূত্র। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস খবরটি নিশ্চিত করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, যোদ্ধাদের সিরিয়ার বাইরে আনার কৌশল আর অগ্রসর দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পর আইএস মোকাবিলায় ফিরিয়ে আনার যে নীতি ছিল তা ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তারা। প্রশিক্ষণ খাতে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। এরমধ্যে যে অর্থ অবশিষ্ট রয়েছে তা এবার লড়াইরত বাহিনীকে সমরাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করা হবে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে মার্কিন সূত্র।

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস ও প্রতিরক্ষা দপ্তরে কর্মকর্তাদের বরাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস আরও জানায়, বিদ্রোহীদের একেবারেই সাধারণ অস্ত্র সরবরাহ করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ট্যাংকবিধ্বংসী রকেট ও অন্যান্য শক্তিশালী অস্ত্র দেওয়া হবে না বলে দাবি করেছেন তারা। কারণ তারা ভীত যে, শক্তিশালী অস্ত্র দিলে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কাজে ব্যবহারের আশঙ্কা থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের উপ-জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বেনজামিন জে রোডস বলেন, ‘যেসব পক্ষ এসব কর্মকাণ্ডে (সন্ত্রাস) সম্পৃক্ত নয়, তাদের আমরা অস্ত্র দেব। এ ব্যাপারে আমরা খুব সচেতন।’

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, আমেরিকান সেনা কমান্ডারদের কাছে পরিচিত পক্ষগুলোই কেবল এসব অস্ত্র পাবে।’ প্রতিরক্ষা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ক্রিস্টিন ই. ওরমাথ বলেন, ‘এসব পক্ষের সঙ্গে আমরা কয়েক মাস ধরে কাজ করছি। তাদের ব্যাপারে এরই মধ্যে আমাদের দৃঢ় আস্থা তৈরি হয়েছে।’

মার্কিন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় চলতি বছর পাঁচ হাজার ৪০০ এবং ২০১৬ সালে আরো ১৫ হাজার বিদ্রোহীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। আসাদবিরোধী বিদ্রোহী সুন্নিগোষ্ঠী থুওয়ার আল-রাক্কার একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ভবিষ্যতে সামরিক সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে বিপুল আশ্বাস পেয়েছি। এরই মধ্যে আমরা কিছু অস্ত্র পেয়েছি।’

শুক্রবার পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের তরফে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ‘অভিযান স্থগিতে’র এই ঘোষণা আসে। প্রায় একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার আর যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালনের বৈঠকে উছঠে আসে সিরিয়া আর ইরাকের ইস্যু।

সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সমর্থনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশল পরিবর্তনের খবর এলো।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, বিদ্রোহীদের অনেকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়েই বেশি মনোযোগী। ওবামার শীর্ষ উপদেষ্টা ব্রেট ম্যাকগার্ক বলেন, ‘আমাদের নমনীয় হতে হবে। আমাদের নতুন বিষয় গ্রহণে সক্ষম হতে হবে।’ ‘ওই ছেলেদের (বিদ্রোহী) বাইরে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া ভালো হবে নাকি যুদ্ধের ময়দানে রেখেই তাদের অস্ত্র সহায়তা দেওয়া ভালো হবে?’ সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গেল সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড স্বীকার করে, সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সরবরাহ করা অস্ত্রগুলোর এক-চতুর্থাংশই আল-কায়েদার অনুসারী নুসরা ফ্রন্টের কাছে চলে গেছে। কেন্দ্রীয় কমান্ড আরো জানায়, ছয়টি ট্রাক ও গোলাবারুদসহ সিরিয়ার বিদ্রোহীরা নুসরা ফ্রন্টের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলে তারা পরে জানতে পারে। এই বিদ্রোহীদের সিরিয়ার বাইরে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। উপরন্তু  সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বারাক ওবামা বলেন, আইএস বিরোধী লড়াইয়ে আসাদের বাহিনীর বাইরে লোক পাচ্ছেন না তারা।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সিরিয়া বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু জে. ট্যাবলার বলেন, ‘বিরোধী ও আঞ্চলিক সমর্থকরা কর্মসূচিটি চান, তবে তারা লড়াইয়ে আইএসকে প্রাধান্য দিতে চান না। এছাড়া আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও অস্পষ্ট। ইরাক যুদ্ধের মতোই, লোকজন যা চায় তা না দিলে তারা আপনার পক্ষে লড়াই করবে, সেটা আপনি আশা করতে পারেন না। আমরা আবারও ভুল রাজনীতি করলাম।’

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful