Templates by BIGtheme NET
Home / রাজনীতি / সাকার ফাঁসি নিয়ে বিএনপির কোনো প্রতিক্রিয়া নেই

সাকার ফাঁসি নিয়ে বিএনপির কোনো প্রতিক্রিয়া নেই

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি নিয়ে আজ সোমবার পর্যন্ত বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার ভাবনাও নেই দলে।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরীর ফাঁসি নিয়ে দলটিতে দৃশ্যমান কোনো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নেই। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া দেশে ফেরার সাত ঘণ্টার মাথায় সাকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

বিএনপির নীতিনির্ধারণে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা এ তথ্য জানান। যদিও শনিবার রাতে সাকা চৌধুরীর সঙ্গে কারাগারে শেষ দেখা করে তার পরিবারের সদস্যরা সরাসরি খালেদা জিয়ার বাসায় যান। এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠান।

বিএনপির একজন নেতা বলেন, ওই বিবৃতিতে বিএনপির নিজস্ব কোনো বক্তব্য ছিল না। তাতে কেবল পরিবারকে উদ্ধৃত করে বলা হয় যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি। প্রতিটি কথাই ছিল সাকা চৌধুরীর পরিবারকে উদ্ধৃত করে। এই বিবৃতির এক ঘণ্টা পর ফাঁসি কার্যকর হয়। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত বিএনপি কোনো বক্তব্য বা দলীয় অবস্থানের কথা জানায়নি। অবশ্য গতকাল বিকেলে চট্টগ্রামে সাকা চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের গায়েবানা জানাজায় বিএনপির স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

গতকাল বিএনপির দায়িত্বশীল অন্তত পাঁচজন নেতার সঙ্গে কথা বললেও তারা কেউই সাকা চৌধুরীর প্রসঙ্গে তেমন কিছু বলেননি। তারা মূলত দল পুনর্গঠনে পরবর্তী চিন্তাভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, ‘তার (সাকা) জন্য মাগফিরাত কামনা করা ছাড়া আমাদের এখন আর কিছু করার নেই।’ আরেক নেতা বলেন, সাকা চৌধুরীর বিষয়টা তাদের জন্য স্পর্শকাতর। কারণ তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, তাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। দলের ডানপন্থী নেতাদের মধ্যে তিনি একজন।

তাই সর্বোচ্চ আদালতে তার রায় পুনর্বিবেচনা খারিজ হওয়ার পর কৌশলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন একটা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তাতে বলেছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাকা চৌধুরীর অবদান ছিল। তিনি এ-ও বলেছিলেন, সাকা চৌধুরীর আইনজীবীরা বলেছেন যে তিনি ন্যায়বিচার পাননি।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন দেশে ফিরতে দেরি হওয়ায় সরকারি দলের নেতারা প্রচার করেছিলেন যে তিনি আর দেশে ফিরছেন না। এ রকম প্রচারণায় বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা মাস খানেক ধরে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপে ছিলেন। এর দুই মাস পর গত শনিবার বিকেলে খালেদা জিয়া দেশে ফেরেন। এরপর দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। নেতারা মনে করছেন, এখন দলের পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া গতি পাবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে আরও কিছু সিদ্ধান্ত হবে।

দেশে ফেরার পর খালেদা জিয়া গতকাল রোববার পর্যন্ত বাসা থেকে বের হননি। এখন পর্যন্ত দলের কোনো নেতার সঙ্গে সেভাবে আলাপ করেননি। তার গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়, দু-এক দিনের মধ্যে তিনি কার্যালয়ে বসা শুরু করবেন।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, চিকিৎসার বাইরে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য আছে বলে মনে করছেন দলের নেতা-কর্মীরা। কারণ, লন্ডনে খালেদা জিয়া তার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন। এখন তিনি দল গোছানোতেই মনোযোগ দেবেন। নেতা-কর্মীরা আশা করছেন, পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের বিভিন্ন শাখা, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন ত্বরান্বিত হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়ার বিষয়েও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি। যদিও দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বিষয়েও চেয়ারপারসন দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে নেতারা আশা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মাত্র দেশে ফিরেছেন। তিনি শিগগির দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল ঠিক করবেন।

খালেদা জিয়া লন্ডনে যাওয়ার আগে গত ৬ আগস্ট চিঠি দিয়ে জেলা পর্যায়ের সব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল বিএনপি। সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নভেম্বরের মধ্যে সব জেলা কমিটি চূড়ান্ত করে ডিসেম্বরে দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার চিন্তা ছিল। কিন্তু এখনকার বাস্তবতায় তা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তারা আশা করছেন, দলীয় চেয়ারপারসন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন রূপরেখা ঠিক করবেন।

যদিও বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন মনে করেন, চেয়ারপারসনের ফেরার সঙ্গে পুনর্গঠনের গতি পাওয়া না-পাওয়ার সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, সারা দেশে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় করছে। এ পরিস্থিতিতে সম্মেলন নিয়ে স্বাভাবিকভাবে এগোনো যাচ্ছে না।

দলীয় অন্য একাধিক সূত্র জানায়, কয়েকটি কারণে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া এগোতে পারেনি। এর মধ্যে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারকে একটা বড় কারণ বলে দাবি করেন বিএনপির নেতারা। এর বাইরে দলীয় কোন্দল একটা বড় কারণ। যার ফলে অনেক জায়গায় কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ভোটে না গিয়ে কেন্দ্র থেকে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি করে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো জেলায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে সেখানে দলের শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন নেতারা। এত দিন খালেদা জিয়া দেশে না থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful