Templates by BIGtheme NET
Home / সম্পাদকীয় / সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে হবে

সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে হবে

বহির্বিশ্বের ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকায় থাকা ২৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এখন সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি জরিপ চালিয়ে এ আস্থা সূচকটি তৈরি করেছে। বিশ্ব অর্থনীতির চাকায় এখন আশানুরূপ গতি নেই। এর মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি সামনে বাড়তে পারে, আসতে পারে বিদেশি বিনিয়োগ—এমন আশাবাদ খুবই প্রত্যাশিত।

বাংলাদেশে রাজস্ব আয় বাড়ানোর জোর চেষ্টা চলছে, আয় বাড়ছেও। যোগাযোগ কাঠামো ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। অর্থনৈতিক নীতিও উদার। ফলে বিদেশিরা এবার বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন এবং রপ্তানি বহুমুখী হবে—এমন আশা এইচএসবিসির। তবে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিতে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে চাইলে বাংলাদেশকে আরো মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা। একে সতর্কবার্তা হিসেবেই আমাদের নেওয়া উচিত।

তৈরি পোশাক এখন আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য। রানা প্লাজা ধসের পর গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে নজরদারি বাড়ায় ঝুঁকি যেমন কমে এসেছে, পণ্যের মানও বাড়ছে। তাই সাময়িক ধাক্কা কাটিয়ে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক কেনার ব্যাপারে এখন আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী। নিঃসন্দেহে এটি স্বস্তির দিক। তবে ভারত, ভিয়েতনাম, চীনসহ কিছু দেশ এ খাতে আমাদের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী—এ বিষয়টিও আমাদের ভুললে চলবে না। আবার দেশের রপ্তানি বাজার মূলত তৈরি পোশাকভিত্তিক হয়ে আছে, বহুমুখীকরণ হচ্ছে না—বিষয়টি উদ্বেগজনক।

গার্মেন্ট খাত কোনো কারণে কখনো পিছিয়ে পড়লে বড় কোনো বিকল্প পণ্য কী আমাদের আছে? বিদেশে বড় বাজার ছিল বলে পাট একসময় সোনালি আঁশ বলে বিবেচিত হতো। সে বাজার আমরা হারিয়েছি; পাটের হারানো গৌরব উদ্ধারেও তেমন চেষ্টা নেই। গার্মেন্ট খাত বেশি সরকারি সুবিধা পায়। চামড়াসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন শিল্প খাতেও সুযোগ বাড়ানো উচিত, তবে তা যেন আর্থিক ও রাজস্বগতভাবে টেকসই হয়, এ নিশ্চয়তা দরকার। এইচএসবিসির প্রতিবেদন মতে, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল এই সময়ে তৈরি পোশাক খাত ছাড়া আরো সাতটি পণ্য রপ্তানি বাড়তে পারে। খাতগুলো হচ্ছে—কৃষি, কাঁচামাল, অন্যান্য শিল্পপণ্য, যোগাযোগ সরঞ্জাম, তেল, যন্ত্রাংশ ও রাসায়নিক পণ্য। তাই খাতগুলোতে মনোযোগ বাড়াতে হবে। যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করছে, ভালো কথা; কিন্তু বিনিয়োগের পথে বাধা কম নেই! গ্যাস, বিদ্যুৎ, ভূমি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ বিদ্যমান বাধাগুলো সহসাই দূর হবে এমন আশাও তো করা যায় না।

ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতির সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার রয়েছে সরাসরি সম্পর্ক। আমরা চলতি বছরের শুরুতে টানা হরতাল-অবরোধ চলাকালে দেখেছি পণ্য উত্পাদন করেও ব্যবসায়ীরা বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছতে পারছেন না। বন্দরগামী মালবাহী গাড়িতে নির্বিচারে আগুন দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন ট্রাকচালক তো আগুনে পুড়ে মারাও গেছেন। ব্যবসায়ীরা বারবার আকুতি জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সহিংস রাজনীতি বন্ধ হোক।

আমরা এমন রাজনৈতিক অচলাবস্থা আর চাই না। অর্থনীতি দেশের প্রাণ। এটিকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। দক্ষ জনশক্তি, সস্তা শ্রমসহ নানা কারণেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁরা শুধু অনুকূল পরিবেশ চাইছেন। এই পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই। তবে দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থ রয়েছে এমন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছতে হবে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful