Templates by BIGtheme NET
Home / জাতীয় / শেরে বাংলানগরে যাচ্ছে সচিবালয়

শেরে বাংলানগরে যাচ্ছে সচিবালয়

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় রাজধানীর তোপখানা থেকে শেরে বাংলানগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত এক রকম পাকাপাকি করে ফেলেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা। সচিবালয় নির্মাণ করতে গিয়ে পাশের চন্দ্রিমা উদ্যানে থাকা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর স্থানান্তরের দরকার হতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। কারণ জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি বিশ্বখ্যাত লুই আই কানের নকশার আলোকে সচিবালয় গড়ে তোলা হবে। এতে সেখানে কোনো কবর থাকার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এর আগে একনেকের একাধিক বৈঠকে বলেছেন, সবাই একমত হলে জিয়ার কবরসহ সংসদ ভবন এলাকায় থাকা কবরগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।

শেরে বাংলানগরে যাচ্ছে সচিবালয়

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ‘শেরে বাংলানগরে সচিবালয় নির্মাণ’ নামের প্রকল্পটি একনেক সভায় ওঠানোর জন্য গত ৭ অক্টোবর পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন। একই দিন প্রকল্পটি ১৩ অক্টোবরের একনেক সভায় ওঠানোর জন্য যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে কমিশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার অফিস করে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করেছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয়ে দৃষ্টিনন্দন ভবন, প্রশস্ত সড়কসহ থাকবে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। সচিবালয় ঘিরে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তৈরি করা হবে আলাদা সড়ক। উত্তরা, গাজীপুরসহ ওই অঞ্চল থেকে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা গ্রহীতারা যাতে মেট্রো রেলে করে সরাসরি সচিবালয়ে নামতে পারেন, সে জন্য বিদ্যমান মেট্রো রেলের রুটেও আনা হচ্ছে পরিবর্তন। গণভবনের পাশেই যেহেতু সচিবালয় হচ্ছে, তাই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য নেওয়া হচ্ছে আলাদা পরিকল্পনা। শেরে বাংলানগরে যানজট কমানোর অংশ হিসেবে গত মাসে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নিজ ক্ষমতাবলে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে থেকে গণভবন পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ককে আধুনিকায়ন ও প্রশস্ত করা’ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন।

সচিবালয় শেরে বাংলানগরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বেশ আগের। তবে বর্তমান সরকারের গত পাঁচ বছরে কখনো অর্থ সংকট আবার কখনো রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে সময় নেন নীতিনির্ধারকরা। তবে এই সময়ে নকশা পরিবর্তন ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে দফায় দফায়। ওইসব বৈঠকে সব কিছু চূড়ান্ত করার পর মঙ্গলবার একনেক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উঠছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিবছর যেখানে বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানকার ৩২ একর জায়গার ওপর প্রাথমিকভাবে নির্মিত হবে ১৪ তলা ভিতের ওপর চারটি ভবন। প্রতিটি ভবনই হবে ৯ তলাবিশিষ্ট। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে দুই হাজার ২১৩ কোটি টাকা। পুরো টাকাই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর ২০১৮ সালের মধ্যেই সচিবালয় নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। যদিও ২০০৯ সালে যখন প্রথমবারের মতো প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়, তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ১০২ কোটি টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে এখন সেই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দিগুণ হয়েছে।

এদিকে শেরে বাংলানগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণ করতে গিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর সরানো হবে কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো গাছ না কেটে বা কোনো স্থাপনা না সরিয়ে সচিবালয় নির্মাণ করা হবে।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একাধিক বক্তব্যে উঠে এসেছে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় যত কবর আছে, সবই সরিয়ে ফেলা হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গত বছরের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘লুই আই কানের নকশায় শেরে বাংলানগরের ওই জায়গা যদি সচিবালয়ের জন্য নির্ধারিত থাকে এবং সবাই যদি একমত হন, তাহলে সেখানে সচিবালয় স্থানান্তর করা হবে।’ ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘লুই আই কান যে নকশা করেছিলেন, সেই নকশায় জিয়াউর রহমানের মাজারের জন্য আলাদা জায়গা ছিল না। সেখানে সচিবালয় করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সেখানে (চন্দ্রিমা উদ্যান) জিয়াউর রহমানের মাজার করা হয়েছে। ফলে ক্রিসেন্ট লেকের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বার্থে সবাই যদি একমত পোষণ করেন এবং ওটা যদি সচিবালয়ের জন্য নির্ধারিত থাকে, তাহলে মাজার সরানো যেতে পারে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদও বলেছেন, ওখানে আসলে জায়গাটা খালি ছিল। সেখানে মাজার করার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। নিয়ম না মেনেই এই মাজার করা হয়েছে।’

এরপর গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী আবারও সংসদ ভবন এলাকায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজ, সাবেক মন্ত্রী সবুর খান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানসহ আরো কয়েকজনের কবর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য বরাবরই রাজনৈতিক বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর চেষ্টা করা হলে রাজনৈতিকভাবেই তা মোকাবিলা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য মতে, লুই আই কানের নকশার আলোকে বর্তমানে বাণিজ্য মেলার মাঠ ও সংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যানের কিছু অংশসহ ৩২ একর জমির ওপর নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নকশার আলোকে চারটি ব্লকে ভাগ করে সচিবালয় নির্মাণ করা হবে। সেখানে দুটি বড় ব্লকে ৩২টি বড় মন্ত্রণালয় এবং দুটি ব্লকে ১৬টি ছোট মন্ত্রণালয় স্থানান্তর করা হবে। মন্ত্রণালয়গুলোর নিজস্ব অনুষ্ঠান আয়োজনের সুবিধার্থে নতুন সচিবালয়ে থাকবে সম্মেলন কেন্দ্র ও মিলনায়তন। একই সঙ্গে ব্যাংক, ডাকঘর ও মসজিদ নির্মাণ করা হবে। থাকবে এক হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের দক্ষিণ দিক দিয়ে সার্ভিস রুট সচিবালয়ে ঢুকবে। কনভেনশন সেন্টারের দক্ষিণ পাশ অর্থাৎ চন্দ্রিমা উদ্যানের ভেতর দিয়ে সার্ভিস রুট নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শিল্প, পররাষ্ট্র, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বর্তমানে সচিবালয়ের বাইরে রয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এ কারণে অনেক সময় অপচয় হয়। এ ছাড়া যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতেও দেরি হয়। এ জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের জন্য নতুন সচিবালয় খুব দরকার। প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে নেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা শেরে বাংলানগরে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

‘শেরে বাংলানগরে জাতীয় সচিবালয় নির্মাণ’ শিরোনামের প্রকল্পটির ওপর গত ৬ জুন পরিকল্পনা কমিশনে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গৃহায়ণ ও গণপূত মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, একাধিক কর্মকর্তা সভায় বলেন, শেরে বাংলা নগরে সচিবালয় নির্মাণ করতে হলে তা সংসদ ভবনের উচ্চতার বেশি করা উচিত হবে না। তাঁরা বলেন, জাতীয় সংসদের উচ্চতা ১৫০ ফুট। স্থপতি লুই আই কানের নকশার আলোকে সচিবালয় নির্মাণ করতে হলে প্রস্তাবিত ভবনগুলো ৯ তলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেন একাধিক কর্মকর্তা। বাণিজ্য মেলার পাশেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনগুলো ৯ তলার মধ্যে রাখার যুক্তি তুলে ধরেন তাঁরা। সভার সিদ্ধান্তের আলোকে নতুন সচিবালয়ের জন্য যে চারটি ভবন নির্মাণ করা হবে, তার সবগুলোই ৯ তলা বিশিষ্ট করা হবে বলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত থেকে আশ্বস্ত করা হয়।

সূত্র মতে, ৬ জুনের ওই সভায় শেরে বাংলানগরে সচিবালয়ে নির্মাণ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কর্মপন্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচলের জন্য একটি বিস্তারিত সমীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে। তবে সে সমীক্ষা না করেই প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে। যদিও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়েও সমীক্ষাটি করা যাবে। সে জন্য প্রকল্প অনুমোদন না করার কোনো মানে হয় না।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful