Templates by BIGtheme NET
Home / বিনোদন / শুটিংয়ে হিম শীতের ঝিম ধরা গল্প

শুটিংয়ে হিম শীতের ঝিম ধরা গল্প

শীত মানেই হিমহিম কনকনে ঠাণ্ডার অনুভূতি। আর এসময় জীবনযাত্রা হয়ে পড়ে স্থবির। কথায় বলে—’মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে’। শুধু বাঘ নয়, পৌষ-মাঘে যখন কনকনে শীত পড়ে তখন অনেক মানুষও কাঁপে। কিন্তু শীত শুধু হাড়ই কাঁপায় না; নানান বৈচিত্র্য আর মজাদার উপহারের ডালি নিয়েও আসে। শহরে লাখ লাখ মানুষের বসতি। অগণিত বিজলী বাতি। সেই সাথে নিয়ন আলোর ঝলকানি। অনেক দোকানপাট আর কলকারখানা। তাই শহরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা কম। একটু পিছনে ফিরে যাওয়া যাক- অধিকাংশ মঙ্গলকাব্যে নায়িকাদের বারো মাসের দুঃখ বর্ণনা-সূত্রে শীত ঋতুর আবির্ভাব। এরপর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও লিখেছিলেন, শীতের স্পর্শে, উত্তুরে হাওয়ার ছোঁয়ায় কবি চৈতন্য লেগেছে প্রেমের শিহরণ শীতের আবহ কবিকে করেছে, উন্মনা  ও আকুল, ডেকেছো আজি, এসেছি সাজি, হে মোর লীলাগুরু, শীতের রাতে তোমার সাথে কী খেলা হবে শুরু! কিন্তু পাঠক আমরা রূপালী পর্দার তারকাদের বিভিন্ন দৃশ্যে দেখি তারা বৃষ্টিতে ভিজছেন কিংবা ঝর্ণায় ভিজছেন, কিংবা কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যেও পুকুরে নেমেছেন। কিন্তু এর পিছনের গল্প বা অভিজ্ঞতা ততটা সুখের নয়। কনকনে হিমশীতল ঠাণ্ডার মধ্যেও তাদের সে দৃশ্য শুটিং করতে হয়েছে। আর সেসব অভিজ্ঞতা নিয়েই কথা বলেছেন প্রিয়.কমের সঙ্গে।

শাকিব খান

অনেকের কাছে বর্ষাকালটা অনেক বেশি পছন্দের। কিন্তু আমার কাছে শীতের সময়টা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দের। সকালটা অনেক সুন্দর! এসময় জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। শীতটা উপভোগ করা যায়। আমি গতানুগতিক ধারার মধ্যে বসবাস করতে চাই না। শীতের সকালের কুয়াশাটা অনেক বেশি মিস করি। গান শুনি। সময় পেলে নিজে রান্না করি। এছাড়া গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভে যাই। কিন্তু যখন শুটিংয়ের সিকোয়েন্সের কোন গান বা দৃশ্যে ঝর্ণার কিংবা বৃষ্টিতে ভিজতে হবে। অথবা নদী কিংবা পুকুরের দৃশ্য থাকে। সেই সাথে কসটিউম অন্য সময়ের চেয়ে একটু কম থাকে। তখন কি যে কষ্ট করতে হয়। তা বলে বোঝানো যাবে না। আমি এরকম  দৃশ্যে  কত ছবিতে যে অভিনয় করেছি- তার হিসেব নেই। এমনও দেখা গেছে একই শট পরিচালকের ইচ্ছেমত হয়নি বলে ভিজে ভিজে বেশ কয়েকবার দিতে হয়েছে। এখন এ বিষয়টাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এছাড়া সবার সহযোগিতাও পাই।

অপু বিশ্বাস

শীতের সময়টাতে শুটিং করতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হয়। আর তা যদি হয় পানি সম্পর্কিত তাহলেতো কথাই নেই। এ নিয়ে ভয়াবহ অনেক অভিজ্ঞতা আছে। একটা ঘটনা বলি- ‘প্রেমিক পুরুষ’ ছবির শুটিংয়ে আমরা কক্সবাজার গিয়েছি। তখন প্রায় ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে। কনকনে শীত। আমরা সেখানে পৌঁছেছি বিকেলের দিকে। এরপর পরিচালক এসে আমাকে বললেন ‘আপনারতো বৃষ্টিতে ভেজার একটি দৃশ্য রয়েছে। এছাড়া অল্প কিছু দৃশ্য বাকি রয়েছে। তাহলে আমাদের ছবির কাজটুকু শেষ হয়ে যাবে।’ তারপর আমি বললাম ঠিক আছে। তখন বাতাস মনে হচ্ছে বরফ ছুঁয়ে ছুঁয়ে আসতেছে। পরিচালক বললেন, ‘কোন সমস্যা নেই দিদি। আমরা গরম পানির ব্যবস্থা করে দিব।’ এরপর যখন পরিচালক বললেন,  ‘অ্যাকশন’। আর যখন পানি এসে গায়ে পরল তখন মনে হল বরফ গায়ে ঢেলে দেওয়া হয়েছে। যা আমার জন্য ভয়াবহ একটি অভিজ্ঞতা ছিল। এভাবেই শুটিং করলাম। আর কেন জানি যত ভেবে চিন্তে শিডিউল দিতাম তা কেমন করে যেন নভেম্বর, ডিসেম্বর, কিংবা জানুয়ারির সময় পড়ে যেত। আর গ্রামের দৃশ্য থাকলেতো বেশিরভাগ সময় হোতাপাড়ায় শুটিং হত। আর এ জায়গাটিতো গ্রাম এর মত। যার কারণে শীত আরও বেশি লাগত। কিন্তু তারপরও কাজটি আমার কাছে সবকিছুর আগে প্রাধান্য পায়।  তবে বিষয়টি উপভোগেরও।

আনিসুর রহমান মিলন

‘প্রেম করব তোমার সাথে’ ছবিতে আমি আর মম অভিনয় করছিলাম। আর তখন গানটি ছিল বৃষ্টি ভেজা গান। আর সেখানেতো কিছু করার নাই করতে হবে। আর তখন না করলে দুইমাস পিছিয়ে যাবে। আর পরিচালকও বারবার অনুরোধ করছিলেন। ভাই একটু কষ্ট হলেও করে দেন। গরম পানির ব্যবস্থা করব। তারা যে গরম পানির ব্যবস্থা করেছে তাতে ভেজার পরে আমি আর মম  কাকের মত চুপসে গেলাম। বাহাদূর নামে একজন প্রোডাকশন বয় ছিল। সে ফুটন্ত গরম পানি, মানে যে কোন মানুষের গায়ে লাগলে ফোসকা পরে যাবে। সে বেশ বড় বড় দুটি তোয়ালে ডুবিয়ে মুচড়িয়ে নিয়ে আসত। একটা শর্ট শেষ করতাম আর আমাদের গায়ে জড়িয়ে দিত। সেময় আমরা দুদিনে আঠার ঘণ্টা ঝর্ণার পানিতে ভিজে ছিলাম। এছাড়া বছর ছয়-সাতেক আগে আবুল হায়াতের একটি নাটকে পূবাইলে শুটিং করছিলাম। যেখানে হিরোর প্রবেশ হয় পুকুড় থেকে সে ডুব দিয়ে উঠবে। আবুল হায়াত ভাইকে কোন ভাবেই বোঝানো যাচ্ছে না। তারপর কোনভাবে বুঝিয়ে সেখানে ডুব দেয় প্রোডাকশন ম্যানেজার মনির। আর ভেজা শরীরে আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠছি। এভাবেই টেকনিক্যালভাবে কাজটি শেষ করেছি।

আরিফিন শুভ

শীত সম্পর্কিত কোনোকিছু এখন মনে পড়ছে না। ভীষণ চাপের মধ্যে আছি। তবে দেশের বাহিরে এ ধরনের একটি অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম।  সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়াতে মৃত্যুপুরী ছবির শুটিং করতে গিয়েছিলাম। সেখানের বরফ শীতল ঠান্ডাতে বেশ কাবু হয়েছিলাম। কারণ আমার যে কসটিউম আর যে ঠান্ডা তা কোন ভাবেই মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। এ ধরনের অভিজ্ঞতা আমার জীবনে কখনও হয়নি।

নওশাবা আহমেদ

আমার ‘আলগা নোঙর’ ছবির শুটিং গত বছরের ডিসেম্বর মাসে হয়েছিল। চিত্রনাটের‌্যর কারণেই চট্টগ্রামে কর্ণফূলী নদীতে করা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেসময় ভরা শীত। পানির মধ্যে নামতে হবে বা ভিজতে হবে। এ ধরনের বেশ কিছু দৃশ্য রয়েছে। আর শুধু আমাকে যাতে দেখতে সুন্দর লাগে- এজন্য আমার  লাইটম্যান, মেকআপম্যান, ক্রু-সহ শুটিং সংশ্লিষ্ট  সবাই সে শীতের মধ্যেও পানির মধ্যে নেমে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাকি যে মানুষগুলো আমাকে ক্যামেরায় ক্যাপচার করছে। তাদেরওতো কষ্ট করতে হচ্ছে। আর সে সময় বিষয়টা বেশ উপভোগ করেছিলাম। তাই সেভাবে কষ্ট লাগেনি। তারা আমার জন্য যে ধরনের কষ্ট করেছে। তা আমাকে খুবই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। এটা একটা টিম ওয়ার্ক। আমি যখন ভাল একটা শর্ট দিবো- তখন আমার লাইটম্যানও আমার জন্য তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতাটা করবে। সে সময় আসলে বোঝা যায়-কেন আমরা বাকি অন্যান সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা ?

আইরিন

আমাদের দেশে শীত কিংবা গরম এসময়গুলো বিবেচনা করে শিডিউল করা হয় না। যখন যেটা আসে তখনই সেটা করতে হয়। আর আমরা শিল্পীরা তা করিও। কিন্তু করতে গিয়ে শত কষ্ট মনে হলেও করে ফেলি। কখনও মনে হয়নি করতে পারব না। সর্বশেষ শীতে একটি ছবিতে গ্রামের দৃশ্যর পুরো অংশটি আমরা সেখানে দৃশ্যধারণ করেছি সেখানে এত ঠান্ডা। এত ঠাণ্ডা ছিল যা সহ্য করার মত নয়। আর আমার যে কসটিউমটা ছিল, শুধু সেটাই পরা ছিল। আর কিছু নয়। এ অভিজ্ঞতাটা আমার বাকি জীবন মনে থাকবে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful