Templates by BIGtheme NET
Home / স্বাস্থ্য / শীতে শিশুর জন্য বিশেষ যত্ন

শীতে শিশুর জন্য বিশেষ যত্ন

বড়দের তুলনায় শিশুদের সহনশীলতার ক্ষমতা সাধারণত কম থাকে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের মানিয়ে নেয়াটা বেশ কষ্টের।

আর তাই বছরের অন্যান্য সময় যেমনই হোক, শীতে তাদের রাখা চাই বিশেষ যত্নে। এসময় একটু অবহেলাতে হয়ে যেতে পারে বড় ধরণের সমস্যা। শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিশু মায়ের পেটে উষ্ণ তাপমাত্রায় থাকে। পৃথিবীর তাপমাত্রা তার কাছে একটু বেশি ঠাণ্ডা লাগে। তাছাড়া শিশুর শরীরে তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হতেও সময় লাগে। তাই যে শিশু কিছুদিন হলো পৃথিবীতে এসেছে তাকে উষ্ণ তাপমাত্রায় রাখা প্রয়োজন।

গরম কাপড় রাখুন সব সময়, ভেজা ডায়াপার বদলে দিতে হবে খুব দ্রুত। শিশুকে প্রতিদিন দুপুর ১২ টার মধ্যে উষ্ণ গরম পানিতে গোসল করাতে হবে। গোসলের পর ভালোভাবে শরীর মুছে আবার গরম কাপড় পরিয়ে দিন, যাতে ঠাণ্ডা না লাগে। ত্বকের যত্নে বেবি ক্রিম বা অয়েল লাগাতে পারেন হালকা করে। সব সময় খেয়াল রাখতে হবে, তার পরিধেয় কাপড় যেন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে।

শূন্য থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে শুধু মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। শিশুর বয়স পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত প্রতিদিন সকালে খাওয়াতে পারেন এক চামচ তুলসি পাতার রসের সঙ্গে একটু মধু। নিয়মিত তুলসীর রস খেলে জ্বর জ্বর ভাব, খুশখুশে কাশি এবং সর্দি দূর হবে। এছাড়াও আধাগ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে এক চামচ মধু খাওয়াতে পারেন নিয়মিত।

শিশু যে ঘরে থাকে তার তাপমাত্রা যেন কমপক্ষে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। শিশুকে পরানোর জন্য সুতি কাপড়ই উত্তম। ঘরের বাইরে কুয়াশায় শিশুকে এইসময় বেশি খেলাধুলা করতে দেয়া ঠিক নয়। হাত মোজা, পা মোজা এবং মাথায় টুপি দিয়ে দিন, বিশেষ করে সকালে ও রাতে। যেসব শিশু কোনো কারণে বুকের দুধ পায় না, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিতান্তই সর্দির সমস্যা হয়ে গেলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

দিনের বেলা জানালা খুলে রোদ ও (ঠাণ্ডা বাতাস এলেও) নির্মল বাতাস ঘরে ঢুকতে দিন। ঘরের মধ্যে কাপড় না শুকিয়ে অবশ্যই রোদে শুকান। বাচ্চাকে দোলনায় বা আলাদা মশারির নিচে না রেখে মায়ের কোলঘেঁষে শোয়াবেন। এতে বাচ্চা উষ্ণ থাকবে, মায়ের সঙ্গে আন্তরিকতা বাড়বে এবং বুকের দুধ খাওয়াতে সুবিধা হবে।

যদি পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো আত্মীয়ের সর্দি, কাশি, ভাইরাস জ্বর ইত্যাদি থাকে তবে তারা মা ও শিশুর কাছে আসা থেকে বিরত থাকুন। শিশুকে শীতকালে ঘরের বাইরে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

রোদে দিতে হলে জানালার পাশে বা ঘরের বারান্দা থেকে রোদ লাগান। তবে নবজাতককে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে গোসল করানোর দরকার নেই। বাচ্চার নাভি না শুকানো পর্যন্ত তাকে গোসল করাবেন না। সপ্তাহে দু’দিন গোসল করানোই যথেষ্ট।

যা করবেন না
* শিশুকে অতিরিক্ত সোয়েটার পরিয়ে রাখবেন না। এতে ঘাম জমে সেই ঘাম শীতকালীন ঠাণ্ডা বাতাসে শুকিয়ে শিশুর সমস্যা তৈরি করতে পারে।

* শিশুর গায়ে বেবি-অয়েল বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন।

* শিশুকে রাতের বেলা ডায়াপার পরিয়ে শোয়ান।

* শীতকালে নবজাতকের মাথা কামানো যাবে না।

* শিশুর নাক বা মুখের ওপর কাপড়, লেপ, কম্বল ইত্যাদি দেবেন না।

দেড় মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর যত্ন
* শিশুকে প্রয়োজন অনুযায়ী উষ্ণ রাখুন। ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখা যাবে না। স্যাঁতসেঁতে ঘরেও তাকে রাখা ঠিক হবে না।

* বাচ্চাকে বুকের দুধ নিয়মিত খাওয়ান। ফিডারে খাওয়ালে অল্প গরম দুধ দিন। ঘুমের মধ্যে ঠাণ্ডা দুধ দেবেন না।

* ছয় মাসের বেশি হলে বাচ্চাকে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার দিন। খিচুড়িতে ডিমের সাদা অংশ, লাল শাক, পালং শাক অল্প করে দিতে পারেন। লেবুর রস দেবেন, কমলার রস খাওয়াবেন। এতে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়বে।

* যেসব বাচ্চা হামাগুড়ি দেয়, দেখবেন তারা যেন ঠাণ্ডা মেঝেতে হামাগুড়ি না দেয়। তবে কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ কার্পেটের রোয়া বা ধুলা থেকে অ্যালার্জি হয়। তাই মাদুর বা ম্যাট ব্যবহার করা ভালো।

* ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে ১ দিন অন্তর গোসল করান। গোসলের পর বেবি লোশন লাগাবেন। তেল-জাতীয় কিছু লাগাবেন না।

* বাচ্চাকে নরম কাপড়ের জুতা পরানোর অভ্যাস করুন। শোয়ানোর সময় মোজা পরিয়ে শোয়ান। তবে উলের মোজা পরানোর প্রয়োজন নেই।

* এ বয়সী বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই সর্দি, কাশি সহজেই লেগে যায়। বাচ্চাকে খুব জনবহুল জায়গায় (মেলা, পিকনিক) না নিয়ে যাওয়াই ভালো।

১ থেকে ৬ বছর বয়সের শিশুর যত্ন
* এই বয়সে শিশুরা অনেক খেলাধুলা ও দৌড়াদৌড়ি করে থাকে। তাই খুব বেশি গরম ও ভারী কাপড় পরার প্রয়োজন হয় না। তবে সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ও বিকেলে খেলতে যাওয়ার সময় পর্যন্ত উষ্ণতা নিশ্চিত করুন।

* বাচ্চাকে স্কুলে পাঠালে পরস্পরের মাধ্যমে শীতকালে কিছু ছোঁয়াচে চর্মরোগ হতে পারে। তাই বাচ্চার ত্বকের প্রতি খেয়াল রাখুন। নিয়মিত লোশন লাগান যেন ত্বক শুষ্ক হয়ে না যায়।

* শীতকালীন শাকসবজি ও ফল-কমলা, বরই বেশি করে খেতে দিন।

শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করে শীতের আবহকে উপভোগ করুন পরিপূর্ণভাবে।

আগের বছরে ব্যবহৃত শিশুর শীতের পোশাকের যথাযথ যত্ন নিন। শীত এলে সেগুলো ব্যবহারের সময় আসে। ফলে সেগুলোর যথাযথ যত্ন এখনই নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে তা হলো-

শিশুর লেপ, তোশক, কম্বল, চাদর ইত্যাদি রোদে দিতে হবে। রোদ থেকে তোলার পর তা ঝেড়ে ঘরে রাখতে হবে। আর ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এসবের ওপর কাপড়ের কভার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।

নবজাতকের মায়েরা ছোট্ট শিশুটিকে সামলাতেই ব্যস্ত সময় পার করেন। তাই নিজের প্রতি খেয়াল করে ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ জন্য বাইরে না গিয়ে ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় ত্বকচর্চার অনুষঙ্গগুলো আনিয়ে নিয়ে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন।

সদ্য নবজাতকের যত্নে বেছে নিতে পারেন ভালো কোনো ব্র্যান্ডের বেবি লোশন, বেবি অয়েল, যা আপনার পারিবারিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful