Templates by BIGtheme NET
Home / বিদেশ / শত হতাশায় নতুন আশা

শত হতাশায় নতুন আশা

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিদায় নিচ্ছে ২০১৫ সাল। ডামাডোলের কী একটা বছরই না গেল! বিশ্বে বছরজুড়ে লেগে ছিল যুদ্ধ, সংঘাত, সন্ত্রাস, হানাহানি, রক্তারক্তি, দুর্ঘটনা, বিপর্যয়, উত্তেজনা। এসবের মধ্যেও এ বছর আশা জাগানোর মতো বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা বিশ্বশান্তির বাণী শুনিয়েছে। মানবতার জন্য বয়ে এনেছে মঙ্গলবার্তা। এ যেন হতাশার মাঝে নতুন আশা।

বছর শেষে সবাই বিদায়ী বর্ষের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে ব্যস্ত। খেরোখাতায় চোখ বোলালে বেশির ভাগ পৃষ্ঠায় হয়তো মিলবে খারাপ খবর। স্মৃতি রোমন্থনে পুরোনো কষ্ট জেগে উঠবে। মন ভার হবে কালো মেঘে। কিন্তু তাই বলে এসব নিয়ে পড়ে থাকলে কি আর চলবে! গ্লানি মুছে, জরা ঘুচিয়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানবতার জন্য সবাইকে এক হতে হবে। অশুভকে দূরে ঠেলে, ভালো কাজের মধ্য থেকে উৎসাহ-উদ্দীপনা-প্রেরণা শুষে নিতে হবে। সমঝোতা, ঐক্য ও ছাড়ের মধ্য দিয়ে শান্তি-সম্প্রীতির বিশ্ব গড়তে এ বছরের মহৎ উদ্যোগ, বৃহৎ অর্জনের দিকে দৃষ্টি দেব আমরা।

এক জীবনে সুযোগ

নানা চড়াই-উতরাই আর অনিশ্চয়তায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির সঙ্গে ছয় পরাশক্তির ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে। বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।

চুক্তিকে ‘এক জীবনে একটাই সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ভাষ্য, চুক্তিটি বিশ্বের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বয়ে আনতে সহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া এবং জার্মানির প্রতিনিধিরা ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখার জন্য ২০০৬ সাল থেকে দেশটির সঙ্গে আলোচনা শুরু করে।


ধরিত্রী রক্ষায় ঐক্য

জলবায়ু পরিবর্তনের লাগাম টেনে ধরতে ডিসেম্বরে প্যারিসে এক ঐতিহাসিক ঐকমত্যে পৌঁছান বিশ্বনেতারা। কপ-২১ সম্মেলনের সমাপ্তি দিনে তাঁরা একটি চুক্তিতে উপনীত হন।

১৯৬টি দেশের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে অর্জিত প্যারিস চুক্তি প্রথম সর্বজনীন জলবায়ু চুক্তি। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সীমিতকরণ ও নিরসনকল্পে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। চুক্তিটি বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশ নিচে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর সেটাকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখার জন্য রাষ্ট্রগুলো নানা পদক্ষেপ নেবে। চুক্তিতে আরও বেশ কিছু আশার দিক রয়েছে।

প্যারিসে আলাপ-আলোচনা চলাকালে একটি চুক্তির বিষয়ে বিশ্বনেতাদের ঐক্য নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ঐক্য হয়। চুক্তিটি আমাদের ধরিত্রীকে রক্ষায় সাহায্য করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।


আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ

সিরিয়ার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটাতে দেশটির ক্ষমতাসীন সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে আলোচনার টেবিলে বসানোর পরিকল্পনা ডিসেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছে। এতে সিরিয়া-সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথ সুগম হয়েছে। এটাকে সিরিয়া বিষয়ে এযাবৎকালের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পাঁচ বছরে পা রাখতে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে সিরিয়া ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দেশটিতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখো মানুষ। সিরিয়া নিয়ে বিশেষ করে দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে প্রথম থেকেই তীব্র মতভেদ লক্ষ করা যায়। তবে দুই দেশই নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাব পূর্ণ সমর্থন করেছে। এতে যদি সিরিয়ায় শান্তি-প্রক্রিয়া গতি পায়।


ঐতিহাসিক মুহূর্ত

লিবিয়ার বিবদমান দুই পক্ষ ডিসেম্বরে ঘোষণা দেয়, চলমান অচলাবস্থা নিরসনে তারা মতৈক্যে পৌঁছেছে।

ত্রিপোলিভিত্তিক জেনারেল ন্যাশনাল কংগ্রেসের (জিএনসি) জ্যেষ্ঠ উপপ্রধান আওয়াদ মোহাম্মদ আবদুল-সাদিক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যার জন্য অপেক্ষা করছে লিবীয় জনগণ, আরব জনগণ ও গোটা বিশ্ব।’

২০১১ সালের অক্টোবরে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি উৎখাত ও নিহত হওয়ার পর লিবিয়ায় ব্যাপক অস্থিরতা শুরু হয়। সেখানে পাল্টাপাল্টি দুই সরকার ক্ষমতার জন্য লড়াই শুরু করে।


শান্তি ও গণতন্ত্রের পথে

মিয়ানমারের আটটি সশস্ত্র নৃগোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছে দেশটির সরকার। প্রায় দুই বছর ধরে আলোচনার পর গত অক্টোবরে ওই চুক্তি হয়। মিয়ানমার সরকার ওই চুক্তিকে চূড়ান্ত রাজনৈতিক মীমাংসার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।

মিয়ানমারে গত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল বিজয় অর্জন করে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সু চিকে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির সেনা-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান। সু চিও ‘জাতীয় ঐক্য’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন।

এখন নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী জানুয়ারিতে বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হবে। এরপর এনএলডির প্রাধান্যপুষ্ট পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মিয়ানমারে দীর্ঘ সময় পর শান্তি ও গণতন্ত্র আশা করা হচ্ছে।

 

অবশেষে দেখা
গত নভেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তাইওয়ানের নেতা মা ইং-জু বৈঠক করেছেন। সিঙ্গাপুরে ওই বৈঠক হয়। দুই ভূখণ্ডের শীর্ষ নেতারা ছয় দশকের বেশি সময় পর এই প্রথম এ ধরনের আলোচনায় অংশ নিলেন।

১৯৪৯ সালে চীনা গৃহযুদ্ধ শেষে বেইজিংয়ের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে। স্নায়ুযুদ্ধের যুগে কয়েক দশক ধরে দুই পক্ষের নেতাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল।

তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ব্যাপারটা ছিল নিয়মিত ঘটনা। নভেম্বরের বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা হাসিমুখে পরস্পর হাত মিলিয়েছেন, যা কয়েক বছর আগেও ছিল রীতিমতো অকল্পনীয় দৃশ্য।

 

শত্রুতা ভুলে বন্ধুত্ব
প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মধ্যে বৈঠক হয়। এরপর চিরবৈরী দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক গতি আসে।

এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংককে দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। পরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ পাকিস্তান সফরে যান। দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করবে বলে যৌথ ঘোষণা আসে। সন্ত্রাস নির্মূলে সহযোগিতারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জানানো হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি আগামী বছর সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তানে যাবেন। কিন্তু এর আগেই মোদি গতকাল শুক্রবার আকস্মিক সফরে পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছান। এ ঘটনা বিশ্বের বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে মোদির দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়। ২০০৪ সালের জানুয়ারির পর পাকিস্তানে এটাই ভারতীয় কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের আন্তরিক উদ্যোগে তাদের দীর্ঘ দিনের বৈরিতা ও দূরত্বের অবসান ঘটবে।

 

সম্পর্কের দরজা খুলেছে
পাঁচ দশকের বেশি সময়ের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা গত জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। ওয়াশিংটনে পতাকা উড়িয়ে দূতাবাস উদ্বোধন করে কিউবা। হাভানায়ও খোলা হয় মার্কিন দূতাবাস। খুলে যায় দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের দরজা।

সবশেষ ডিসেম্বরে দুই দেশ নিজেদের মধ্যে বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই ঘোষণা আসবে। কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful