Templates by BIGtheme NET
Home / জাতীয় / রোহিঙ্গা ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে ইসি

রোহিঙ্গা ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে ইসি

পর্যটন জেলা কক্সবাজারে চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের তালিকাভুক্তি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। টাকার বিনিময়ে গুটিকয়েক স্থানীয় প্রভাবশালীর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি এতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর নিবন্ধনকর্মীদের সহযোগিতা রয়েছে বলেও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ এসেছে।

এ অবস্থায় ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় নিবন্ধন হয়ে যাওয়া ফরমগুলো যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলাদা তথ্যভাণ্ডার তৈরির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ভোটার তালিকা হালনাগাদে অতীতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে তথ্য সংগ্রহকারীরা সতর্কভাবে কাজ করেছেন। এর পরও কক্সবাজারে ৩৮৯ ও বান্দরবানে ৫১ জন রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে এবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ছাড়া অন্য জেলাগুলোতেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় কমিশন। চলতি বছরের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের ভোলা, পটুয়াখালীসহ বেশ কিছু জেলায় গিয়ে ভোটার হওয়ার আশঙ্কা ছিল ইসি কর্মকর্তাদের। সে অনুযায়ী এসব এলাকার মাঠকর্মী, উপজেলা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কারণ মিয়ানমারের এসব অনুপ্রবেশকারী দুভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ নিতে পারে বলে মনে করে কমিশন। প্রথমত, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও ইসির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা কক্সবাজার থেকে দেশের অন্যান্য এলাকায় চলে আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, টাকার বিনিময়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের আত্মীয় পরিচয় নিয়ে নিবন্ধন ফরম পূরণের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের চোখকে ফাঁকি দিতে পারে। এ জন্য ভোটার তালিকায় কোনো সন্দেহ হলে তা আবার যাচাই করবে কমিশন।

ইসির এক কর্মকর্তা জানান, ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ২০১২ সালে ১৩টি উপজেলাকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করা হয়। উপজেলাগুলো হচ্ছে কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া ও মহেশখালী; বান্দরবান সদর, আলিকদম, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং রাঙামাটির বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই। এর সঙ্গে পরবর্তী সময়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এসব এলাকায় ভোটার যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করে বিশেষ ফরম পূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়। এ ছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম উপলক্ষে কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি এলাকাকে বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গত বছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরুর পর চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে পটিয়াকে ‘বিশেষ এলাকা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর পরও শঙ্কা না কাটায় পুরো বৃহত্তর চট্টগ্রামকেই বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ জন্য স্পর্শকাতর উপজেলায় ইউএনও, জনপ্রতিনিধি ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ফলে ওই সব এলাকায় কমিশনের নজরদারির কারণে রোহিঙ্গারা সংশ্লিষ্ট ১৪টি উপজেলায় ভোটার হতে পারেনি। তবে এসব এলাকার বাইরে এসে ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ আসে। এবারও চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদে কক্সবাজারে অবিশ্বাস্যসংখ্যক ভোটার হওয়ার তথ্য পেয়েছে কমিশন। ফলে এবারের নতুন তালিকায়ও রোহিঙ্গাদের থেকে যাওয়ার আশঙ্কা ইসির। একই সঙ্গে হালনাগাদে কক্সবাজারে ৬ শতাংশের কাছাকাছি ভোটার হওয়ার হারকে ‘অস্বাভাবিক’ মনে করছেন ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে। ফলে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আগেই রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ ছাড়া বারবার রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তির মতো সমস্যা এড়াতে তথ্যভাণ্ডার করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসির একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জানান, ডাটাবেইস তৈরির জন্য নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সংরক্ষিত তথ্য চেয়ে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে চিঠি পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘চিঠির সঙ্গে নিজের, পিতামাতা ও স্বামী-স্ত্রীর নাম এবং ঠিকানার তথ্য পূরণ করতে নির্ধারিত ছক পাঠানো হচ্ছে। সব তথ্য পাওয়ার পরই আলাদা ডাটাবেইসে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

ইসির যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলী বলেন, ‘ভোটার হওয়া বন্ধ করতে নিবন্ধন ফরমগুলো পুনর্যাচাই ও রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলাদা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে। ছবি ও আঙুলের ছাপসহ রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা গেলে বিদ্যমান ভোটার তালিকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভোটার হওয়া থেকেও তাদের ঠেকানো সহজ হবে।’

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful