Templates by BIGtheme NET
Home / খেলাধুলা / রক্তাক্ত প্যারিস রক্তাক্ত ক্রীড়াবিশ্ব

রক্তাক্ত প্যারিস রক্তাক্ত ক্রীড়াবিশ্ব

আইফেল টাওয়ারে বাতি জ্বলেনি। লুভর মিউজিয়াম থেকে শুরু করে বিপণি বিতান, স্কুল-কলেজ সবই বন্ধ ছিল কাল। ভয়াল সন্ত্রাস যেন আলোর শহর থেকে মুছে দিয়েছে প্রাণের উচ্ছ্বাস। শুক্রবার রাতের সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দু’দিন পেরিয়ে গেলেও প্যারিস এখনও এক আতংকের জনপদ। ফ্রান্সের রাজধানীজুড়ে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। এই চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে প্যারিসবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে গোটা ক্রীড়াবিশ্ব। সাও পাওলো থেকে সাংহাই, লন্ডন থেকে প্রাগ। লিওনেল মেসি থেকে রাফায়েল নাদাল, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো থেকে মারিয়া শারাপোভা। বিশ্বজুড়ে সব খেলার সব তারকাই সন্ত্রাসকে ধিক্কার জানানোর পাশাপাশি প্যারিসের জন্য প্রার্থনায় বসেছেন। সবার চাওয়া একটাই, প্রিয়জন হারানোর বেদনা আর মূর্তিমান বিভীষিকা ভুলে প্রাণের শহর যেন আবার আইফেল টাওয়ারের মতো স্বগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।
প্যারিস ট্রাজেডি ক্রীড়া ইতিহাসেও এক কালো অধ্যায়ের জন্ম দিতে পারত। শুক্রবার রতে সন্ত্রাসীদের অন্যতম লক্ষ্যস্থল ছিল ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়াম স্তাদে দ্য ফ্রান্স। সেখানে তখন ফ্রান্স ও জার্মানির প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলছিল। কড়া নিরাপত্তার কারণে স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকতে পারেনি হামলাকারীরা। তবে স্টেডিয়ামের গেটে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন চারজন। ম্যাচ শেষে পুরো রাত স্টেডিয়ামে কাটিয়েছেন জার্মানির ফুটবলাররা। প্রিয়জন হারানোর ব্যথা বুকে নিয়ে ফ্রান্স জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও তাদের সঙ্গে ছিলেন। বিপদের মুহূর্তে এমন অভূতপূর্ব সংহতির জন্য ফ্রান্স দলকে কাল কুর্নিশ জানিয়েছে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন। এই ম্যাচে খেলা ফরাসি মিডফিল্ডার লাসানা দিয়ারার এক চাচাতো বোন মারা গেছেন শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলায়। এছাড়া আহত হয়েছেন অনেকের স্বজন।

এ পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী প্রীতি ম্যাচসহ সব ধরনের ফুটবলীয় কার্যক্রম স্থগিত করেছিল ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন। পরে সিদ্ধন্ত নেয়া হয়, সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করবে না ফুটবল। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার ওয়েম্বলিতেই হবে ম্যাচটি। ফরাসিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ওই ম্যাচে ইংলিশ দর্শকরাও গাইবেন ফ্রান্সের জাতীয় সঙ্গীত। শনিবার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউনিসেফের দাতব্য ম্যাচে অংশ নেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত খেলেননি দুই ফরাসি গ্রেট জিনেদিন জিদান ও প্যাটট্রিক ভিয়েরা। তাদের মনের অবস্থাটা বুঝতে পারছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম, ‘জিজুর (জিদান) না খেলার কারণটা আমি বুঝতে পারছি। প্যারিসে যা ঘটেছে তাতে ফুটবল অর্থহীন। আমি আমার বন্ধুর পাশাপাশি প্যারিসে আক্রান্ত মানুষ ও তাদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই।’ সব প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে অভিন্ন সুরে প্যারিসবাসীকে সমবেদনা জানিয়েছেন মেসি এবং রোনাল্ডোও। স্প্যানিশ টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল কার্যত প্যারিসের ঘরের ছেলে। প্রিয় শহরকে ছিন্নভিন্ন হতে দেখে স্তম্ভিত রোঁলা গাঁরোর রাজা, ‘নিজেকে ছিন্নভিন্ন লাগছে।’ মারিয়া শারাপোভা বলেছেন, ‘প্যারিস আমার প্রিয় শহরগুলোর একটি। সুন্দর এই শহরের রক্তাক্ত চেহারা আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।’

ফুটবল, টেনিসের পাশাপাশি গত দু’দিনে সব খেলার ম্যাচই শুরু হয়েছে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ করে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful