Templates by BIGtheme NET
Home / রাজনীতি / যোগ্যতা ছাড়াই কাজ পায় মাসুদ কর্পোরেশন

যোগ্যতা ছাড়াই কাজ পায় মাসুদ কর্পোরেশন

অসৎ উদ্দেশ্য ও আর্থিকভাবে লাভবান হতেই রাজধানীর ‘রমনা শপিং কমপ্লেক্স’ নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয় অখ্যাত কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান মাসুদ কর্পোরেশনকে। কোনো ধরনের অভিজ্ঞতার সনদপত্র ছাড়াই কাজ বাগিয়ে নেয় এ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিয়োগ করা দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়নও সঠিক ছিল না। প্রায় ৯ কাঠা জমির ওপর ছয়তলা মার্কেট নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যে ধরনের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন, তার কোনোটিই ছিল না মাসুদ কর্পোরেশনের। তারপরও ২০০৬ সালে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৭৫ : ২৫ মালিকানার শর্তে চুক্তি করে তৎকালীন অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি)। এর ফলে ডিসিসির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। এ অনিয়মের সঙ্গে ডিসিসির সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়ী বলে প্রতীয়মান হয়। সরকারের গঠিত একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মিলেছে দুর্নীতির এসব তথ্য।

তবে তদন্তের নামে সরকার আমাকে হেয়প্রতিপন্ন এবং আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই এটা করা হচ্ছে। এর আগেও আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল কিন্তু তারা কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি খুঁজে পায়নি।

রমনা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের অনিয়মের বিষয়ে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, রমনা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের সময় কারা এর কাজ পেয়েছিল তা এ মুহূর্তে আমি মনে করতে পারছি না। তাছাড়া ১০ বছর মেয়রের দায়িত্বপালনকালে শত শত প্রকল্প অনুমোদন করেছি। এ মুহূর্তে ফাইল না দেখে তা বলা সম্ভব নয়। মাসুদ কর্পোরেশন কোনো রকম অভিজ্ঞতার সনদ ছাড়াই কাজ পেয়েছিল মনে করিয়ে দেয়া হলে সাবেক মেয়র বলেন, আমি বিষয়টি মনে করতে পারছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, নিশ্চয় ওই প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি করা হয়েছিল। বুয়েটসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা ওই কমিটির সদস্য ছিলেন। তারা যা সুপারিশ করেছিলেন আইন ও বিধান মেনে তাই করা হয়েছিল। মোট কথা, যা করা হয়েছিল তা আইন ও বিধান মেনেই করা হয়েছিল।

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রতিবেদনটি সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাদেক হোসেন খোকার অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করতে গত ২২ জুন ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। অতিরিক্ত সচিব মো. আকরাম আল-হোসেনের নেতৃত্বে এ কমিটি গত ৭ অক্টোবর তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

মাসুদ কর্পোরেশনকে ‘অখ্যাত’ প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়- নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রমনা শপিং কমপ্লেক্স বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরএফপি (রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) দলিলপত্রের শর্তানুযায়ী ৩টি দরপত্র দাতা প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়। অথচ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, কার্যাদেশ পাওয়া মাসুদ কর্পোরেশনসহ অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। মাসুদ কর্পোরেশন অখ্যাত একটি কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান। নথিপত্রে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতার কোনো সনদপত্র পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে এবং আর্থিকভাবে লাভবান হতেই তাদের এ কার্যাদেশ দেয়া হয়, যা সিটি কর্পোরেশনের স্বার্থের পরিপন্থী।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডিসিসির সম্পাদিত চুক্তি যৌক্তিক হয়নি বলে মনে করে তদন্ত কমিটি। রাজধানীর ‘বোরাক টাওয়ার’-এর চেয়ে ‘রমনা শপিং কমপ্লেক্স’ গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান জায়গায় অবস্থিত বলে মন্তব্য করে প্রতিবেদনে বলা হয়- বোরাক টাওয়ার নির্মাণে বোরাক রিয়েল এস্টেট (প্রা.) লিমিটেড এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মধ্যে ২০০১ সালে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মালিকানাধীন জায়গায় কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর শেয়ার ছিল যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৯৪ : ২৫ দশমিক ০৬। রমনা শপিং কমপ্লেক্সের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মাসুদ কর্পোরেশন এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ২০০৬ সালে সম্পাদিত চুক্তির শেয়ার ৭৫ : ২৫। বোরাক টাওয়ারের চেয়ে রমনা শপিং কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান জায়গায় অবস্থিত। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রমনা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণে মাসুদ কর্পোরেশন ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি যৌক্তিক হয়নি মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।

জানা গেছে, রমনা থানার দক্ষিণে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি ও পুরনো এলিফেন্ট রোডের ক্রসিংয়ে প্রায় নয় কাঠা জায়গার ওপর ছয় তলাবিশিষ্ট রমনা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় ডিসিসি। ২০০৩ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মেসার্স মাসুদ কর্পোরেশন, মেসার্স সৌরভ এজেন্সি এবং কোয়ালিটি বিল্ডার্স লিমিটেড নামে তিনটি প্রতিষ্ঠান রেসপন্সিভ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৪ সালের ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত টেন্ডার কমিটির সভায় কারিগরি কমিটির সুপারিশকৃত প্রতিবেদন, নথিপত্রাদি পর্যালোচনা করে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নানা প্রক্রিয়া শেষে ২০০৫ সালের ১৭ মে মাসুদ কর্পোরেশনের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। ২০০৬ সালের ২৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদিত হয় এবং ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। ২০ মাসের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয় ২০১২ সালে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রমনা শপিং কমপ্লেক্সের দখলভার বুঝে নেয়ার জন্য ২০১৩ সালের ১১ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মার্কেট বুঝে নেয়ার বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানানো হয়- ২০০৫ সালের ৮ নভেম্বর জারি করা ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (উদ্যোগী সংস্থার অর্থায়নে বহুতল বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবন নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত ও হস্তান্তর) বিধিমালা অনুযায়ী গৃহীত প্রকল্পে সরকারের অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন। রমনা শপিং কমপ্লেক্স প্রকল্পটি ওই বিধিমালা জারির আগে ২০০৩ সালে প্রচলিত আইনের আলোকে তৎকালীন মেয়রের অনুমোদনক্রমে গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকালে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা ওয়াসার আপত্তির কারণে ভবনের সম্মুখ ও পশ্চিমাংশে ৫ ফুট করে জায়গা ছেড়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এ কারণে চুক্তিপত্রে উল্লিখিত ফ্লোরের আয়তনের চেয়ে ১০ হাজার ৫৩৬ বর্গফুট কম নির্মিত হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার বক্তব্য : ‘মাসে প্রতি বর্গফুট জায়গার মাসিক ভাড়া মাত্র ২৩ পয়সা!’ শিরোনামে ১৭ অক্টোবর যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাবেক এ মেয়র টেলিফোনে যুগান্তরের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, সরকার অসৎ উদ্দেশে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে আমার কোনো বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে তার কোনো তদন্ত হচ্ছে না। অথচ জনস্বার্থ বিবেচনায় কয়েকটি হাসপাতাল ও মাদ্রাসা-মসজিদকে কিছু জায়গা বরাদ্দ দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় ও আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এটা করা হচ্ছে। আমি ১০ বছর মেয়র ছিলাম। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ও মহাজোট সরকারের আমলেও একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। তারা কোনো অনিয়ম খুঁজে পায়নি। গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, ল্যাবএইড হাসপাতালের নাম উল্লেখ করে সাবেক এ মেয়র বলেন, এ জায়গাগুলো হাসপাতালের রোগীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে গাড়ি পার্কিং ও দুই ভবনের সংযোগ স্থাপনের জন্য মানবিক বিষয় বিবেচনায় ভাড়া দেয়া হয়। বাণিজ্যিক উদ্দেশে এটা করা হয়নি। এমনকি ওইসব জায়গা থেকে ডিসিসির কোনো রাজস্ব আয়ও হচ্ছিল না। একইভাবে কয়েকটি মসজিদ-মাদ্রাসাকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল সেগুলোর আয় বাড়াতে। তারপরও যেসব দোকান ও খালি জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা সরকারি নিয়ম-নীতি মেনেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই সরকার এগুলো করছে বলেও দাবি করেন সাদেক হোসেন খোকা।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful