Templates by BIGtheme NET
Home / বিদেশ / মোদির লাহোর সফরের চারটি ঐতিহাসিক তাৎপর্য

মোদির লাহোর সফরের চারটি ঐতিহাসিক তাৎপর্য

 ২০০৭ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মনমোহন সিং এমন একটি দিনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেদিন ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের নেতারা অমৃতসরে একসাথে সকালের নাস্তা, লাহোরে দুপুরের খাবার আর কাবুলে রাতের খাবার খাবেন। মনমোহন সিং তখন বলেছিলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা এভাবেই বেঁচেছিলেন। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও এমন কিছু রেখে যেতে চাই।

মনমোহন সিং স্বপ্ন দেখেছেন, আর বাস্তবে সেটা করে দেখিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার কাবুল থেকে ফেরার পথে আকষ্মিকভাবে লাহোরে নামেন মোদি। কাশ্মীর বা সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আলোচনা করতে নয়, বরং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতেই এ উদ্যোগ নেন মোদি। ক্রিকেটের পরিভাষায় মোদির এ আকষ্মিক সফরকে ‘ছক্কা’ বলা যেতে পারে। এর আগে মনমোহন সিং টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকলেও কখনোই পাকিস্তান সফরে যাননি। বলা হয়, তার দলই তাকে পাকিস্তান সফরে যেতে দেয়নি। ২০১১ সালে একবার কাবুলে গিয়েছিলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যখন পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উষ্ণ করার ইতিবাচক ইঙ্গিত করেছিলেন, তখনই অনেকে বুঝতে পেরেছিলেন, শিগগিরই কিছু একটা হতে যাচ্ছে। তবে নরেন্দ্র মোদি এভাবে হঠাৎ করেই পাকিস্তান সফরে চলে যাবেন, এতটা কেউই ভাবেননি। এমনকি মোদির ঘনিষ্টজনদের অনেকেই এ সফরের ব্যাপারে আগে থেকে কিছু জানতেন না।

যে কারণে ও যেভাবে মোদি এ সফর করলেন, সেটি বেশ কয়েকটি কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে থাকবে। হাফিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষনে এ তাৎপর্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

গোপন ও আকষ্মিক কূটনৈতিক তৎপরতা
যদিও বলা হচ্ছে, এটা অনেকটা ব্যাক্তিগত সফর, শুধু নওয়াজ শরীফকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোই এর উদ্দেশ্য। কিন্তু অবশ্যই কূটনৈতিক তাৎপর্য অাছে এখানে। আকষ্মিক এ পাকিস্তান সফর মোদির নতুন কূটনৈতিক নীতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে অবশ্য সংসদের সবাইকে খুশি করতে পারবেন না মোদি, কিন্তু ‘এ ধরনের উদ্যোগ ভারত পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বৈরীভাবের মধ্যে কিছুটা শান্তির পরশ নিয়ে আসতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়াগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে’, এ ধারণার সাথে অনেকেই একমত হবেন। এ সফর শুধু ভারতের মিডিয়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনেই বিষ্ময়ের সৃষ্টি করেছে তা নয়, বরং পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও কট্টর পাকিস্তানিদের মধ্যেও ইতিবাচক মনোভাবের জন্ম দিয়েছে।

মোদি-নওয়াজ নতুন সমীকরণ
এ সফর মোদি-নওয়াজ সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে নিঃসন্দেহে। সবার কাছে এ বার্তা পৌঁছাবে যে, ব্যাক্তিগতভাবে নওয়াজ শরীফের বিষয়ে মোদির মনোভাব ইতিবাচক। দুই চিরবৈরী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যক্তিপর্যায়ের এমন ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও। আর পাকিস্তানের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে এমন উষ্ণ সম্পর্কের বার্তা হচ্ছে, পাক রাজনীতির সাথে পাক সামরিক শক্তির সম্পর্ক আরো ভালো করা।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির শপথ অনুষ্ঠানের সময় নওয়াজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। সেটা ছিল মোদির তরফ থেকে প্রথম কোনো ইতিবাচক বার্তা। এরপর প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনের ফাঁকে এ দু’নেতার বৈঠকে তাদের মধ্যকার রসায়ন আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সম্প্রতি ভারতের জনপ্রিয় সাংবাদিক ও  উপস্থাপক বারখা দত্ত তার একটি বইতে উল্লেখ করেছেন, গত বছর নভেম্বরে কাঠমান্ডুতে এ দু’নেতার প্রায় ঘন্টাব্যাপী একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাঠমান্ডুতে নিজের হোটেল রুমে বৈঠকটির আয়োজন করেছিলেন ব্যবসায়ী সাজ্জান জিনদাল। শুক্রবার মোদির লাহোর সফরের সময় এ ব্যবসায়ীও লাহোরেই ছিলেন। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মোদির এ সফর মোটেই আকষ্মিক নয়। বরং এ সফরটির বীজ বপন করা হয়েছে কাঠমান্ডুতে, গত বছরের নভেম্বর মাসে।
এছাড়া লাহোর বিমানবন্দরে মোদি নওয়াজ যেভাবে কোলাকুলি করেছেন, সেটিও অনেক বার্তা দেয়।

কাবুল থেকে লাহোর সফরের বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ
লাহোরে মোদির সফরটি ছিল কাবুল থেকে, দিল্লি থেকে নয়। কাবুল থেকে লাহোর সফরের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আফগানিস্তানে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে ভারত।  ভারতের কার্যক্রমকে প্রথম থেকেই সন্দেহের চোখে দেখে আসছে পাকিস্তান। ভারতের তত্ত্বাবধানের আফগানিস্তানের নতুন পার্লামেন্ট ভবন নির্মিত হয়েছে, মোদি সেটির উদ্বোধন করছেন, এসব ছবি কট্টরপন্থী পাকিস্তানিরা ভালোভাবে নেয়নি। কট্টর পাকিস্তানিরা মনে করে আফগানিস্তানের উপর কর্তৃত্ব করবে শুধু পাকিস্তান, ভারতের সেখানে কর্তৃত্ব ফলানো উচিত নয়। এ গোষ্ঠিটি মনে করে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আফগানিস্তানে পাকিস্তান বিরোধী কার্যক্রমে অর্থায়ন করে থাকে।

এরকম একটা প্রেক্ষাপটে কাবুল থেকে মোদির লাহোর সফর কট্টর পাকিস্তানিদের প্রতি একটি বার্তা যে, ভারত এ অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, কাবুলকে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চায় না ভারত। আর বলা বাহুল্য, মোদির এ সফরকে খুবই ইতিবাচকভাবে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে যাতে আর তালেবান শাসন জারি না হয়, সেজন্য পাকিস্তানের আকুণ্ঠ সমর্থন চায় দেশটি।

পাক-ভারত সম্পর্ক উষ্ণায়নের জন্য মোদিকে আদর্শ ভাবা হচ্ছে

বিজেপি ভারতের ক্ষমতায় আসাতে উদারপন্থী পাকিস্তানিরা বেশ খুশিই হয়েছে। কারণ তারা মনে করেন, কংগ্রেস যেসব সমস্যার সৃষ্টি করেছে, বিজেপিই পারে সেসব সমাধান করে দু’দেশের সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে। বিজেপি ক্ষমতার বাইরে থাকাকালীন কংগ্রেস কখনোই পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

নওয়াজের জন্মদিন উপলক্ষে হোক আর যে কারণেই হোক, মোদির এ পাকিস্তান সফরের তাৎপর্য অনেক। কারণ ইন্দিরা গান্ধীর পর নরেন্দ্র মোদিই ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী। গত ৩০ বছরের মধ্যে নরেন্দ্র মোদির দলই এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। তাই মোদি যদি পাক-ভারত সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে না পারেন, তাহলে আর কেউ তা পারবে না। এ পাক যাত্রায় মোদি সবাইকে বোঝাতে চেয়েছেন, পাকিস্তানের সাথে আলোচনায় তার আপত্তি নেই। নাহলে সমালোচকরা আঙুল তুলে বলত, ‘দেখ, মোদি নিজেই চান না পাকিস্তানের সাথে আলোচনা করতে।’ এখন আর তারা এ সুযোগটা পাবে না।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful