Templates by BIGtheme NET
Home / অন্যান্য / মানসিক রোগে আক্রান্ত মানসিক হাসপাতাল

মানসিক রোগে আক্রান্ত মানসিক হাসপাতাল

আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচির ধরন পাল্টালেও পরিবর্তন আসেনি পাবনার হেমায়েতপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র মানসিক হাসপাতালে।

আধুনিক চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ভবনগুলো জরাজীর্ণ। অপ্রতুল শয্যা। রোগী বেশি এলে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চলছে মাত্র চারজন ডাক্তার দিয়ে। পাবনা মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন সহকারী অধ্যাপককে বাড়তি দায়িত্ব দিয়ে কিছুটা সামাল দেয়া হয়। অর্থাৎ ধার করা ডাক্তার দিয়ে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।

বিশেষায়িত হাসপাতালটি ১৯৫৭ সালে পাবনা শহরের শীতলাই হাউজের জমিদার বাড়িতে ৬০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। শীতলাই হাউজে ১৯৫৭ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত হাসপাতালটির কার্যক্রম চলে। পরে পাবনা শহরের পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হয়। ১১১ দশমিক ২৫ একর জমির কমপ্লেক্সে নতুন ভবনে হাসপাতালটি পরে ২০০ থেকে পর্যায়ক্রমে ৪০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০৩ সালে মেন্টাল হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আওতায় আরো ১০০ শয্যা বাড়ানো হয়। বর্তমানে হাসপাতালে ১৫০টি পেয়িং ও ৩৫০টি নন-পেয়িং মিলে ৫০০টি শয্যা রয়েছে।

হাসপাতালে রয়েছে মাদকাসক্ত নিরাময়সহ ১৮টি ওয়ার্ড। বহির্বিভাগ, আন্তঃবিভাগ, বৃত্তিমূলক ও বিনোদনমূলক চিকিৎসা বিভাগ রয়েছে। এক্সরে, প্যাথলজি, ইসিজি, ইইজিসহ এ মানসিক হাসপাতাল ঘিরে চলে চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, প্যারামেডিক্স, সেবক-সেবিকাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।

৫৮ বছরেও আধুনিকতার তেমন ছোঁয়া লাগেনি হাসপাতালে। হাসপাতালের জন্য নতুন কোনো ভবন, চিকিৎসার আধুনিক সরঞ্জাম, মনোরোগ চিকিৎসায় গবেষণাগার, মেডিসিন সংরক্ষণে আধুনিক স্টোররুম, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবন কোনোটিই নির্মাণ করা হয়নি।

 

২০০ শয্যার হিসাব অনুযায়ী জনবল দিয়ে চলছে ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি। ২০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবেই এখানে মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ৪৭২টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৩৬ জন। বাকি ১৩৬টি পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য। বর্তমানে মাত্র চারজন মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। পাবনা মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন সহকারী অধ্যাপক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া দুইজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, একজন কিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট, একজন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, সাতজন কিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার, দুইজন সহকারী রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য দীর্ঘ দিন ধরে। অন্য দিকে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ১২৫টি পদও শূন্য রয়েছে। এতে করে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালে ২৫০ নার্সের পদ থাকলেও শূন্য ৭০টি। কর্মরত এসব নার্সের আবাসিক কোনো ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালটি শহর থেকে দূরে হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহনে নেই কোনো যানবাহন। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ও পরিচালকের নিজস্ব যানবাহনও নেই। পরিচালকের একটি নিজস্ব আবাসিক ভবন থাকলেও তা বসবাসের অযোগ্য। এরপরও জরাজীর্ণ ভবনেই পাবনা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের বাউন্ডারি, দেয়াল, জানালা, দরজা, গ্রিল খসে পড়ছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা কম হওয়ায় চুক্তি ভিত্তিতে ২৫ জন নিয়ে হাসপাতালটির কাজ চলছে। হাসপাতালে নেই নিয়োগকৃত নিরাপত্তাকর্মী। ৫০ আনসার দিয়ে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালটিতে ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসারের কোনো পদ নেই। ফলে জরুরি বিভাগে রোগী এলে তাদের প্রতিনিয়ত ফিরে যেতে হয়। না হলে পরদিন অফিস সময়ে চিকিৎসা নিতে হয়। হাসপাতালে রোগীদের বিছানাপত্রসহ পরিধেয় কাপড় পরিষ্কারকাজে স্থাপিত লন্ড্রি প্ল্যান্ট স্থাপন মাঝে মধ্যে অকেজো হয়ে পড়ায় ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
মানসিক রোগীদের চিকিৎসাপদ্ধতি একটু ভিন্ন ধরনের। তাই রোগীদের সুস্থ করে তুলতে ওষুধের পাশাপাশি বৃত্তিমূলক চিকিৎসা প্রয়োজন। এসব বৃত্তিমূলক চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে, শরীরচর্চা প্রশিক্ষণ, ইনডোর-আউটডোর খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সুস্থ হয়ে ওঠার পর দরিদ্র রোগীদের পুনর্বাসনে তাঁত, বেত ও দর্জি কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এক সময় থাকলেও এখন বন্ধ রয়েছে। এসব কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত সব ভবন জরাজীর্ণ। এ ছাড়া সরঞ্জামাদি বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় রোগীদের কোনো বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালের সামনের অংশ

এসব সমস্যার বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা: তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস বলেন, অতীতে যারা এখানে কর্মরত ছিলেন, তারা কমবেশি হাসপাতালের উন্নয়নে চেষ্টা করেছেন। তবে আন্তরিকতার অভাব ছিল বলে হাসপাতালের এ করুণ অবস্থা আজ।

তিনি আরো বলেন, সীমিত চিকিৎসক ও জনবল নিয়ে ৫০০ রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা প্রচুর রোগীকে চিকিৎসা দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এসব সমস্যার মধ্যে সুস্থ হওয়ার পরও ২২ রোগী বাড়ি ফিরতে পারছেন না। এর কারণ, ভুল ঠিকানা ও স্বজনদের অবহেলা আর অস্বীকৃতি। ফলে তারা সুস্থ হলেও তাদের খাবারে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হচ্ছে। এদের কারণে আরো ২২ রোগী ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রফেসর তন্ময় বলেন, এ হাসপাতালকে আধুনিক ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় বর্তমানে ব্যবহৃত একাধিক ভবন সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকীকরণ করে সেখানে একটি মেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট তৈরি, পৃথকভাবে ১০তলা বিশিষ্ট দুই হাজার শয্যার বহুতল ভবন তৈরি করে সেখানে রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাসহ একটি চিকিৎসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful