Templates by BIGtheme NET
Home / বিদেশ / ভারতকে আর সহায়তা করবে না ব্রিটেন!

ভারতকে আর সহায়তা করবে না ব্রিটেন!

বিগত দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় এবছরের শেষ নাগাদ ভারতে অর্থ সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে ব্রিটেন। শুধামাত্র কৌশলগত ক্ষেত্রে কিছু সহায়তা দিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। অনেক বছর ধরে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে বড় অংকের সহায়তা পেয়ে আসছে ভারত। দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেদক জাস্টিন রৌলাটের অনুসন্ধানের বরাতে এমনটি জানিয়েছে বিবিসি।

ঐ প্রতিবেদনে এ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করা হয়। প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদনটির চৌম্বক অংশ তুলে ধরা হলো

ব্রিটেনের চাইতে বেশি বিলিওনিয়ার আছে ভারতে

ভারতকে অর্থ সহায়তা দেয়ার বিষয় নিয়ে বিতর্ক করেছেন ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টির এমপিরা। তাদের মতে যে দেশটি মঙ্গল গ্রহে সফল অভিযান চালিয়েছে, যে দেশে বিলিওনিয়ারের সংখ্যা ব্রিটেনের চাইতে বেশি সে দেশটিকে কেন অর্থ সহায়তা দিবে ব্রিটেন?

বিদেশি রাষ্ট্র থেকে অর্থ সহায়তা নেয়ার বিষয়ে অস্বস্তি অনুভব করেন ভারতের কিছু রাজনৈতিক নেতাও। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালমান খুরশীদ বলেন, ‘যে দেশটি জাতিসংঘের উচ্চকক্ষে বসতে যাচ্ছে, যে দেশটি জি-২০ এর সদস্য, যে দেশটি ব্রিকস ব্যাংকের সাথে যুক্ত হচ্ছে, সে দেশটির বিদেশি রাষ্ট্র থেকে অর্থ সহায়তা গ্রহণ করার বিষয়টি খুবই বিরক্তিকর।’

তাহলে অর্থ সহায়তা প্রদানের যুক্তিটা কোথায়?

অতি দ্রারিদ্র্যতা

সেভ দ্য চিলড্রেনের ভারতীয় মুখপাত্র বিদিশা পিল্লাই বলেন, অর্থ সহায়তা প্রদানের কারণ হচ্ছে এখনো দেশটিতে এখনো অতি দ্ররিদ্র।

ভারতের অর্থনীতি এগিয়ে যেতে পারে, বছরে তা ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ভারত এখন মধ্যম আয়ের দেশ হতে পারে কিন্তু দেশটি এখনো তৃতীয় বিশ্বের অতি দরিদ্র দেশ। এখনো ৩০০ মিলিয়ন ভারতীয় প্রতিদিন সোয়া ডলারের কম আয় করে জীবীকা নির্বাহ করেন।

দেশটির অনেক মানুষ এখনো ভুগছেন অপুষ্টিতে। সারা বিশ্বের অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের শতকরা ৪০ শতাংশ শিশুর বাস ভারতে।

দেশটিতে শিশু মৃত্যুর হারের পরিমানও অনেক বেশি। বছরে ১দশমিক ৩ মিলিয়ন শিশু মারা যায় এমন সব রোগে আক্রান্ত হয়ে যেগুলো সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব যেমন, ডাইরিয়া, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া।

তবে এ সংখ্যা জন্ম দিয়েছে আরেকটি প্রশ্নের। ভারত প্রতি বছর ৭০ বিলিয়ন ইউরো খরচ করেও যে অবস্থার উন্নতি করতে পারছে না সেখানে ব্রিটেনের দেয়া ২০০ মিলিয়ন ইউরোর অর্থ সহায়তা ভারতকে কীভাবে সহায়তা করতে পারে?

ভারতের রাষ্ট্রপতি একবার ব্রিটেনের এ সহায়তাকে বাদাম তূল্য বলে মন্তব্য করেছিলেন।

তবে এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন পিল্লাই। তিনি বলেন, আপনাকে বুঝতে হবে বিদেশি সহায়তা কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিন বলেন, বিদেশি সহায়তার বেশিরভাগই খরচ হয় প্রান্তিক লোকদের উন্নয়নে। তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য।

 

টাকা কীভাবে খরচ হয়?

বিহারের এক ঘরে দেখা হয় প্রায় ৩০ জন নারীর সাথে। যারা তাদের সন্তানদের নিয়ে এসেছেন আমাদের সাথে দেখা করতে। তারা প্রত্যেকেই প্যাকস নামের একটি এনজিওর সাথে যুক্ত।  এনজিও টি ব্রিটিশ সরকার থেকে সহায়তা পাচ্ছে। কথা হয় প্রজেক্টের কর্মকর্তা আর্টি ভার্মার সাথে। তিনি বলেন, ভারতীয় সরকারের বরাদ্ধকৃত অর্থ সহায়তা এবং সুযোগ সুবিধা যাতে দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করা এসব নারীরা পান সেজন্য কাজ করে যাচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত একেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করি এবং তাদেরকে তাদের অধিকারের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করি। বিশেষ করে তাদের স্বাস্থ, শিক্ষা এবং খাদ্য ও বাসস্থান সম্পর্কে।’

আমাদের অন্যতম একটি উদ্দেশ হচ্ছে এসব নারীরা যেন তাদের সন্তান হাসপাতালে জন্ম দেন যেন মা ও শিশুর জীবনের ঝুঁকির পরিমান হ্রাস পায়।

ফারজানা খাতুন নামের এক নারী বলেন, এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হওয়ার আগে আমার দু সন্তানের জন্মই বাড়িতে হয়েছে কিন্তু তৃতীয় সন্তান জন্মের আগে আমি এই প্রজেক্টের সাথে হই এবং আমার অধিকারের দাবি করি।

ভার্মা বলেন, ‘নারীদের মধ্যে এ ধরনের মানসিকতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাদের এবং তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্যে বড় রকমের পরিবর্তন এনেছে।’

এরআগে প্রচুর পরিমানে মাতৃকালীন মৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হতো কিন্তু এখন সে পরিমান অনেকটা কমেছে।

ডিএফআইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আমরা এরকম দরিদ্র নারীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি এবং ব্রিটেনের সহায়তা ৯ মিলিয়ন নারীর কাছে পৌছাচ্ছে।

ব্রিটেনের সহায়তা শুধুমাত্র এক্ষেত্রেই খরচ হয় না বরং খরচ করা হয় ভারতীয় সরকারের দেয়া সহায়তার মান বৃদ্ধি করতে।

পিল্লাই বলেন, ব্রিটেনের সহায়তা ব্যবহৃত হয় ভারত সরকারের বরাদ্ধকৃত টাকা যে ঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে। সুতরাং পদক্ষেপগুলো আরো ভালোভাবে বাস্তবায়িত হয়।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ সরকারের অর্থ সহয়তা বন্ধের প্রভাবটি হয়তো এখনই বোঝা যাবে না কিন্তু দীর্ঘ সময় পরে বিষয়টি উপলব্ধি করা যাবে হয়তো পাঁচ বছর কিংবা তারও পরে।

ব্রিটেন এবং ভারত হয়তো অর্থ সহায়তার বিষয়টিকে নানাভাবে দেখতে পারে, সহায়তা বন্ধের ও নানা কারণ দেখতে পারে কিন্তু এখনো দেশটিতে দারিদ্র্যতা বিরাজ করছে। সেভ দ্য চিলড্রেনসহ এখানকার বিভিন্ন এনজিওর কোন ইচ্ছা নেই তাদের কর্মকাণ্ডকে গুটিয়ে নেয়ার।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful