Templates by BIGtheme NET
Home / খেলাধুলা / বিপিএলের মিরপুর স্টেডিয়ামে কোথাও চাকচিক্য, কোথাও বেহাল দশা!

বিপিএলের মিরপুর স্টেডিয়ামে কোথাও চাকচিক্য, কোথাও বেহাল দশা!

‘হোম অব ক্রিকেট’ মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এখন আলোর কোন অভাব নেই। চলছে বিপিএল, সান্ধ্যকালীন ম্যাচে ফ্লাডলাইটের আলোর বন্যায় আলোকিত হয়ে থাকছে পুরো এলাকা। এর বাইরে স্টেডিয়ামের পশ্চিম প্রান্তের সামনের রাস্তায়ও করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জাও। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ঝুলছে বিপিএল ও এর ফ্রাঞ্চাইজিদের বিশাল বিশাল সব ব্যানার। সব মিলিয়ে উৎসব উৎসব একটা পরিবেশ।

ছবিঃ বিপিএল উপলক্ষ্যে মিরপুর স্টেডিয়ামের পশ্চিম প্রান্তের সামনের রাস্তায় আলোকসজ্জা

কিন্তু এই উৎসব ও আলোর বন্যার মাঝেও রয়ে গেছে কিছু অন্ধকার! বাংলাদেশে ক্রিকেটের উন্নতির পেছনে সবসময়ই বড় নিয়ামক মনে করা হয় এদেশের ক্রিকেটপ্রেমী জনতাকে। অথচ সেই ক্রিকেটপ্রেমী মানুষকেই স্টেডিয়ামে যেয়ে খেলা দেখতে পোহাতে হয় নানান বিড়ম্বনা। টিকেট কালোবাজারি, স্টেডিয়ামে খাবার ও পানীয়ের উচ্চমূল্যে, টয়লেট তথা ওয়াশরুমের অপ্রতুলতার সাথে সেই বিড়ম্বনার তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে মিরপুর স্টেডিয়ামের চেয়ারগুলোর বেহাল ও ভগ্নদশা।

২০১১ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২০১০ সালের দিকে এই আসনগুলো মিরপুরে বসানো হয়েছিল। গত ৫বছরে পর সেই চেয়ারগুলোর কিছু অংশ হয়ে পড়েছে ব্যাবহারের অনুপোযোগী। পূর্ব, দক্ষিণ ও উত্তর গ্যালারির সব চেয়ার একই ধরনের, শুধু রঙ ভিন্ন। বিভিন্ন সারিতে এই আসনগুলোর বেশ কিছু এরই মধ্যে ভেঙ্গে-চুরে গেছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে গ্যালারির অনেক অংশই খালি থাকছে, তাই এতে সমস্যা খুব একটা হচ্ছে না। কিন্তু কোয়ালিফাইয়ার ও ফাইনালের সময় ম্যাচের সব টিকেট যদি বিক্রি হয় তবে টিকেট কেটে অনেকে স্টেডিয়ামে ঢুকেও বসে খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন!

12308300_10207921675749326_7984827040458232582_n

ছবিঃ শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ডের ভাঙ্গা আসন

আর শহীদ মোস্তাক ও শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ডের চেয়ারগুলোর কিছু ভেঙ্গে যাওয়া ছাড়াও আরেকটি বড় সমস্যা অনেকদিন ধরেই চলে আসছে। এই দুই গ্যালারির চেয়ারগুলো মূলত ভাঁজ হয়ে থাকে, কেউ বসতে চাইলে নিচের অংশটুকু হাত দিয়ে নামিয়ে তারপর বসতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের ব্যাবহারে ও অত্যাচারে এই আসনগুলোর অধিকাংশেরই বসারং অংশটুকু স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি নিম্নমুখী অবস্থানে চলে এসেছে। ফলে চেয়ারে বসার পরেও দর্শককে একটু পর পর আবার পিছলে যেতে হয় এরপর আবার পিছিয়ে গিয়ে ঠিক হয়ে বসার সংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়! পুরো ম্যাচ জুড়েই চলতে থাকে এই অস্বস্তিকর পিছলে যাওয়া! অথচ এই আসনগুলোর টিকেটের সবসময়ই মূল্য পূর্ব, দক্ষিণ ও উত্তর গ্যালারির টিকেটের মূল্যের চেয়ে বেশি!

12341038_10207921678349391_2951265071418548965_n

ছবিঃ ফোল্ডিং চেয়ারগুলোর নিচে অংশগুলোর বেহাল দশা। একটু পর পর পিছলে চলে যান এসব আসনে বসা ক্রিকেটপ্রেমীরা! (শহীদ মোস্তাক ট্যান্ডেও একই দশা)

এর বাইরেও আরো কিছু অযত্ন ও অবহেলার ছাপ মিরপুরে দেখা যায়। এক নম্বর গেট দিয়ে ঢোকার পর কিছুদূর সামনে গেলে কয়েক ধাপ সিড়ি অতিক্রম করে ওপরে উঠতে হয়। এই সিড়ির বেশ কিছু টালি ভেঙ্গে গেছে, ভাঙ্গা অংশ পড়ে থাকে এখানে ওখানে।

ছবিঃ ১ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে কিছুদূর এগোনোর পর সিড়িতে ভাঙ্গা টালির টুকরা

সিড়ি দিয়ে উঠে সামনে এগোলে দেখা মেলে কিছু ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডের। সেই স্ট্যান্ডগুলোতে আপনি কিছু ছেঁড়া কাপড় ঝুলতে দেখবেন। মূলত ২০১৪ এর মার্চ-এপ্রিলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় এই স্ট্যান্ডগুলোতে বিশ্বকাপের লোগোসম্বলিত ও বিভিন্ন ধরনের যে ফ্ল্যাগগুলো লাগানো হয়েছিল তা আজও খোলা হয়নি! রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ক্ষয় হতে হতে এখনো তার কিছু অংশ ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডের মাথায় ঝুলে আছে! গত দেড় বছরে আন্তর্জাতিক সিরিজ চলাকালে ভিনদেশী দর্শকেরা বার বার এই কুৎসিত দৃশ্য অবলোকন করতে করতে গ্যালারিতে ঢুকেছেন!

12316430_10207921295899830_5954514212778895774_n

ছবিঃ ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডে ঝুলছে ২০১৪ এর মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ে টানানো কাপড়ের ধ্বংসাবশেষ!

অথচ একটু সদিচ্ছা থাকলেই এই ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডগুলো থেকে পতাকাগুলো নামিয়ে ফেলা যেত। আর গ্যালারির সিটগুলোর বেহাল দশার পেছনে এদেশের ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদেরও দায় আছে। খেলা চলাকালে আনন্দের বশে উত্তেজিত হয়ে অনেকেই এই চেয়ারগুলোতে হাত দিয়ে বাড়ি দিয়ে দিয়ে শব্দ তৈরি করে সমর্থন প্রকাশ করেন।

নষ্ট এই আসনগুলো যত দ্রুত সম্ভব বদলিয়ে বসার উপযোগী নতুন চেয়ার স্থাপন করাটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের(বিসিবি) দায়িত্ব। এছাড়া আন্তর্জাতিক ম্যাচের দিনগুলোতে স্টেডিয়ামের আসনগুলোর উপর জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করার ব্যাপারেও উদ্যোগী হতে হবে বিসিবিকে।

অনেক বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে হাতে পাওয়া টিকেট নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে যদি কেউ আবিষ্কার করেন যে, আসনের ওপর ময়লার স্তুপ জমে আছে কিংবা যে আসনটির জন্য তিনি টাকা দিয়ে টিকেট কিনেছেন সেই আসনটিই ভেঙ্গে-চুরে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে, তবে তিনি নিজেকে প্রতারিত মনে করতেই পারেন!

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful