Templates by BIGtheme NET
Home / বাণিজ্য / বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত: ছফিউল্লাহ আরিফ

বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত: ছফিউল্লাহ আরিফ

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর সেক্রেটারি জেনারেল। ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদী জেলা শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা মরহুম অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুদ্দিন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাধ্যক্ষ। জাতীয় মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করে কৃতিত্বের সাথে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ছফিউল্লাহ। এরপর সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া থেকে প্রথম শ্রেণিতে কামিল (হাদিস) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে যোগদানের মা ধ্যমে শুরু হয় তাঁর ব্যাংকিং জীবন। ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড (এক্সিম ব্যাংক)-এ। বর্তমানে তিনি সিনিয়র এ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক্সিম ব্যাংকের শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া এক্সিম ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বও ন্যাস্ত আছে তাঁর উপর। ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পার্ট ১ ও ২ সম্পন্ন করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১২-১৫ মেয়াদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর ২০১৫-১৯ মেয়াদের জন্য সেক্রেটারি জেনারেল পুনঃনির্বাচিত হন তিনি। কর্মব্যস্ত জীবন আর সিডিউলঘেরা দিনের এক সন্ধ্যায় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এক্সিম ব্যাংকে তাঁর অফিস কক্ষে। সাক্ষাতকার নিয়েছেনে প্রিয় ইসলাম-এর বিভাগীয় প্রধান মাওলানা মিরাজ রহমান।

প্রিয় ইসলাম: ইসলামি ব্যাংক এবং ইসলামি ব্যাংকিং বলতে কী বুঝায়? এই দুটির সংজ্ঞা কী?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: Organization of Islamic Conference (OIC) কর্তৃক প্রদত্ত ইসলামি ব্যাংক-এর একটি সংজ্ঞা রয়েছে, যেটি সবচেয়ে সামগ্রিক ও বিশ্বজনীন। ‘ইসলামি ব্যাংক এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা তার মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তরেই ইসলামি শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলতে বদ্ধ পরিকর এবং কর্মকাণ্ডের সকল পর্যায়ে সুদ

কে বর্জন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ এই সংজ্ঞার আলোকে ইসলামি ব্যাংকের মৌলিক অবকাঠামো নির্ধারিত হয়- এক. আর্থিক প্রতিষ্ঠান হওয়া। দুই. মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তর ইসলামি শরিয়াহ মোতাবিক পরিচালিত হওয়া। তিন. শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলার ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর থাকা। চার. কর্মকান্ডের সকল পর্যায়ে সুদকে বর্জন করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হওয়া।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত একটি সংজ্ঞা রয়েছে, সেটি হলো- ‘ইসলামি ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লাইসেন্স প্রাপ্ত এমন ব্যাংকিং কোম্পানি বা ইসলামি ব্যাংকিং শাখা, যা তার প্রতিটি কার্যক্রমে ইসলামি শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে এবং তার কর্মকাণ্ডের সকল স্তরে সুদের আদান-প্রদান পরিহার করে।’

সুতরাং এখন আমরা বলতে পারি যে, উপরে আলোচিত সংজ্ঞার আলোকে একটি ইসলামি ব্যাংক যেসব আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তাই ইসলামি ব্যাংকিং। একটি ইসলামি ব্যাংক যখন তার মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তরে ইসলামি শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলার ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর হয় এবং কর্মকাণ্ডের সকল পর্যায়ে সুদকে বর্জন করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে যে সকল কার্যক্রম আঞ্জাম দেয় তাই ইসলামি ব্যাংকিং।

প্রিয় ইসলাম: একটি ইসলামি ব্যাংক তার নির্দিষ্ট কিছু বিষয়/বিভাগকে ইসলামি শরিয়াহ প্রদত্ত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনা করে নাকি তার সমগ্র ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনাকেই?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: ইসলামি ব্যাংক হতে হলে অবশ্যই তার সমগ্র ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনাকে ইসলামি শরিয়াহ প্রদত্ত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত করতে হবে। যেমনটি ইসলামি ব্যাংক-এর সংজ্ঞায় আলোচিত হয়েছে। অন্যথা সেই প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক তো ইসলামি ব্যাংক-এর সংজ্ঞাভুক্তই হবে না। একটি ইসলামি ব্যাংকে সুদকে বর্জন করে ব্যাংক কার্যক্রমের সকল স্তর ইসলামি শরিয়াহ প্রদত্ত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে সব ইসলামি ব্যাংকের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মৌলিক কার্য-পদক্ষেপ এক। তবে প্রক্রিয়াগত ক্ষেত্রে প্রতিটি ইসলামি ব্যাংক এক নয়। কারণ প্রতিটি ব্যাংকের আলাদা আলাদা পরিচালনা পরিষদ ও শরিয়াহ বোর্ড রয়েছে এবং প্রতিটি ইসলামি ব্যাংকই তার নিজস্ব পরিচালনা পরিষদ ও শরিয়াহ বোর্ড-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

প্রিয় ইসলাম: বর্তমানে বাংলাদেশে কতগুলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমে ইসলামি শরিয়াহ অনুসরণ করে?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫৭টির মতো ব্যাংক রয়েছে (নতুন অনুমোদিত ব্যাংকগুলোসহ)। এছাড়া আরো কিছু রয়েছে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর মাঝে ৮টি ব্যাংক রয়েছে যারা সম্পূর্ণভাবে ইসলামি ব্যাংক, ৭টি ব্যাংকের রয়েছে ইসলামি শাখা ব্যাংকিং, ৬টি ব্যাংকের রয়েছে ইসলামিক উইন্ডো ব্যাংকিং এবং ২টি রয়েছে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান যারা ইসলামি শরিয়াহ মোতাবিক পরিচালিত হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বমোট ২৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমে ইসলামি শরিয়াহ অনুসরণ করছে। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকও ইসলামি সেবা প্রদান করছে।

প্রিয় ইসলাম: বিশ্বের অন্যান্য দেশের ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার মধ্যকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করুন।

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: বিশ্বের অনেক দেশে ইসলামি ব্যাংকিং রয়েছে। বাহরাইন এবং মালয়েশিয়ার ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা চিন্তাগত দিক থেকে অনেক অগ্রসর কিন্তু প্রায়োগিক ইসলামি ব্যাংকিং-এর বিবেচনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। চিন্তাগত দিক থেকে বাহরাইন ও মালয়েশিয়াকে আমি অগ্রসর বলেছি তার কারণ হলো- ইসলামি শরিয়াহ ব্যাংকিংয়ের মানসম্পন্ন যত নীতিমালা বা কর্ম পরিচালনা পদ্ধতির গাইডলাইন রয়েছে সেগুলোর প্রায় সবই ‘ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বোর্ড অব মালয়েশিয়া’ এবং AAOIFI কর্তৃক প্রণীত। এর নেপথ্যে যথেষ্ট কারণও রয়েছে, ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে পরিমাণ ইসলামি স্কলারদের সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং যে পরিমাণ গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে সে তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। তবে প্রায়োগিক ইসলামিক ব্যাংকিং-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। কারণ বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। এ বিস্তৃতি বিশ্বের অনেক দেশের ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের তুলনায় অনেক গৌরবজনক।

প্রিয় ইসলাম: সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠা, পরিচিতি এবং বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করুন।

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্দেশনা মোতাবিক ২০০১ সালের ১৬ আগস্ট  সেন্ট্রাল শরিয়াহ্ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি প্রতিষ্ঠান। ইসলামি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রমে যাতে ইসলামি শরিয়াহ অনুসৃত হয় সে ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর মূল কাজ হচ্ছে গবেষণার মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংকিং ইনভেস্টমেন্ট-ফাইন্যান্স-এর জন্য ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক নতুন নতুন প্রোডাক্ট উদ্ভাবন করা এবং সেই প্রোডাক্টকে ইসলামি ব্যাংকগুলোর কাছে উপস্থাপন করার মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট-ফাইন্যান্সকে আরো সমৃদ্ধ করা। আবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের শরিয়াহ বোর্ডের পক্ষ থেকেও ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক কোনো প্রোডাক্ট-এর প্রস্তাবনা আমাদের কাছে পাঠানো হয় এবং আমরা তা যাচাই-বাছাই করি এবং উপযুক্ত হলে তা অনুমোদন করি।

এছাড়াও সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর নানামুখি কার্যক্রম রয়েছে। মতবিনিময়মূলক সভা-সেমিনার আয়োজন করা, ইসলামি ব্যাংকিং বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা, স্টাডি সার্কেল ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করা এবং বইসহ বিভিন্ন প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণ করা। উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল শরিয়াহ্ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ থেকে ‘ইসলামিক ফাইন্যান্স’ নামে নিয়মিতভাবে একটি বুলেটিন প্রকাশিত হয়।

প্রিয় ইসলাম: বাংলাদেশে যতগুলো ইসলামি ব্যাংক রয়েছে, আপনি কি মনে করেন যে এর প্রতিটি ব্যাংকই শতভাগ ইসলামি শরিয়াহ মোতাবিক পরিচালিত হচ্ছে?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: আমাদের জানা মতে, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত সব ইসলামি ব্যাংকগুলোই শতভাগ ইসলামি শরিয়াহ মোতাবিক পরিচালিত হয়। সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর কাজ হচ্ছে পরামর্শ প্রদান করা। আমাদের পরামর্শ প্রদান করার পর সব কার্যক্রমকে ইসলামি শরিয়াহ মোতবেক পরিচালিত করার বিষয়টি প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিষদের উপর বর্তায়।

প্রিয় ইসলাম: বাংলাদেশের কোন কোন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর সদস্য?

একিউএম ছফিউল্লাহ আরিফ : বর্তমান সময় পর্যন্ত মোট ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর সদস্য হয়েছে। (বাংলা বর্ণক্রম অনুযায়ী) ১. আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। ২. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ৩. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ৪. এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড, ৫. ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ৬. শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ৭. সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ৮. এবি ব্যাংক লিমিটেড (ইসলামি শাখা), ৯. অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড (ইসলামিক উইন্ডো), ১০.  ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড (ইসলামি শাখা), ১১. দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড (ইসলামি শাখা), ১২. দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড (ইসলামি শাখা), ১৩. পূবালী ব্যাংক লিমিটেড (ইসলামিক উইন্ডো), ১৪. প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড (ইসলামি শাখা), ১৫. ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড (ইসলামিক উইন্ডো), ১৬. যমুনা ব্যাংক লিমিটেড (ইসলামি শাখা), ১৭. সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড (ইসলামি শাখা), ১৮. স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (সাদিক শাখা), ১৯. ইসলামিক ফাইন্যান্স এ- ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

এছাড়া নতুন ও পুরাতন আরো কিছু ব্যাংক এবং নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর সদস্যপদ গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রিয় ইসলাম: ব্যাংকের ফাইন্যান্স প্রক্রিয়াগুলোকে আপনারা কীভাবে অনুসন্ধান করেন। উদাহরণস্বরূপ, বাইয়ে মুরাবাহা, মুয়াজ্জাল ইসলামি ব্যাংকিংয়ের এক একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাঝে ব্যাংক কিংবা গ্রাহক বা সাপ্লাইয়ার কোম্পানী যদি কোনো অসাধু পথ-পদ্ধতি গ্রহণ করেন এবং সেটা চিহ্নিত হয়, তখন? আমি এখানে দুটি বিষয় জানতে চাচ্ছি এক. ইনভেস্টিগেশন রুল এবং পদ্ধতি। দুই. পানিশমেন্ট-জরিমানা-সাজা।

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: কেবল বাইয়ে মুরাবাহা বা মুয়াজ্জাল নয়, ইসলামি ব্যাংকিয়ের প্রতিটি প্রক্রিয়াই এতটা স্বচ্ছ এবং শক্তিশালী; যেখানে কোনো পক্ষের কোনো অসাধু পথ-পদ্ধতি গ্রহণ করার কোনো সুযোগ থাকে না। ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রতিটি প্রক্রিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবিক পরিচালিত হয়। তবুও এই ক্ষেত্রে যদি কোনো প্রকার অসাধু পথ-পদ্ধতি গ্রহণ করার প্রমাণ পাওয়া যায় এবং এর মাধ্যমে কোনো অবৈধ বা সন্দেহযুক্ত আয় অর্জিত হয় তবে তা ব্যাংকের আয়ে অর্ন্তভূক্ত হয় না।

প্রিয় ইসলাম: আমরা জানি ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রক্রিয়া মোতাবিক ব্যাংক এবং গ্রাহকের মাঝে সংঘটিত বাইয়ে মুরাবাহা কিংবা মুয়াজ্জাল-এর ক্ষেত্রে গ্রাহক যদি তার কিস্তি প্রদান করার ক্ষেত্রে বিলম্ব করে, তাহলে ঐ গ্রাহকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়। এই জরিমানার অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করার বৈধতা রয়েছে এবং আমাদের ইসলামি ব্যাংকগুলো কি এই অর্থ সঠিকভাবে সেই সব খাতে ব্যয় করছে?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: এখানে একটি কথা আগেই বলে রাখা দরকার, যদি কোনো গ্রাহক তার কাছে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে মেয়াদ উর্ত্তীণ হয়ে যাওয়ার পরও অহেতুক বিলম্ব করে তাহলেই কেবল সেই গ্রাহকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়। অন্যথা নয়। এইসব খাত থেকে সংগৃহীত অর্থগুলো ব্যাংক পরিচালিত ফাউন্ডেশনে জমা হয় এবং সেখান থেকে জনকল্যাণকর ও জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়। যেমন- দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকায় সাহায্য হিসেবে বিতরণ করা হয়। এছাড়া এমন আরো অনেক অলাভজনক খাতে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং শরিয়াহ বোর্ড কর্তৃপক্ষের সত্যায়ন সাপেক্ষে ব্যয় করা হয়।

প্রিয় ইসলাম: আপনি কেন ইসলামি ব্যাংকিং সেক্টরে এলেন?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: আমার ইসলামি ব্যাংকিং সেক্টরে আসাটা- আমার জীবনের কোনো স্বপ্ন কিংবা কোনো পরিকল্পনার বহিঃপ্রকাশ নয়। হঠাৎ করেই এই সেক্টরে আমার প্রবেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করার পর চাকরি খুঁজছিলাম এবং বিভিন্ন স্বপ্ন আঁকছিলাম। ইচ্ছা ছিল পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদে কোনো পদে যোগ দিব। এক সময় ভাবলাম ম্যাজিস্ট্রেট হব। জীবন নিয়ে স্বপ্ন-ভাবনার এমন ক্ষণে প্রথম ডাক এলো আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে। ডাকে সাড়া দিলাম এবং যোগ্যতা ও মহান প্রভুর ইচ্ছায় চাকরিটা হয়ে গেল। ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে আমার ব্যাংকিং জীবনের সূচনা। এরপর আমি দেখলাম বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে কাজ করার সুযোগ-সম্ভাবনা অপার। তখন থেকেই মূলত ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে ভালো কিছু করার ইচ্ছা লালন করতে শুরু করি এবং ধীরে ধীরে আজকের এই অবস্থানে পৌছার তাওফিক দান করেন আল্লাহ মহান। হঠাৎ করে ব্যাংকিং সেক্টরে আমার প্রবেশ হলেও আজকের এই অবস্থান অনেক পরিকল্পনা, চিন্তা-গবেষণাগত অনেক পরিশ্রম ও আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলাফল।

প্রিয় ইসলাম: সেন্ট্রাল শরিয়াহ্ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস্ অব বাংলাদেশ-এর সেক্রেটারি জেনারেল হওয়ার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত আপনার উদ্যোগে গৃহীত এবং বাস্তবায়িত কর্মকাণ্ডগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রদান করুন?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: ২০১২ সালের ১ অক্টোবর আমি দায়িত্ব লাভ করি। আমার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই সেন্ট্রাল শরিয়াহ্ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশকে তার শক্তি-ক্ষমতা এবং সামর্থ অনুযায়ী সর্বোচ্চ পরিমাণ সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পুরানো কাজগুলোকে আরো বেগবান ও কার্যকর করার পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে; যার মাঝে বিভিন্ন ইসলামি ব্যাংকগুলোতে কর্মরত কর্মীদের ইসলামি ব্যাংকিং ও শরিয়াহ বিষয়ে পারদর্শী করে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত ওর্য়াকশপ-প্রশিক্ষণটি অন্যতম। ইসলামি ব্যাংকগুলোতে কর্মরত জনশক্তিতে এবং প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিষদে এই ওর্য়াকশপ-প্রশিক্ষণ আয়োজনের বিষয়টি খুব সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে।

প্রিয় ইসলাম: সেন্ট্রাল শরিয়াহ্ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ নিয়ে আপনার এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? 

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: সিএসবিআইবিবি- বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকগুলো কর্তৃক গৃহীত যুগোপযুগী একটি পদক্ষেপ। আমার জানা মতে, বিশ্বের অনেক দেশেই এমন আলাদা কেন্দ্রীয় শরিয়াহ বোর্ড নেই। বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকগুলো এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে রয়েছে যে, তাদের স্বতন্ত্র একটি কেন্দ্রীয় শরিয়াহ বোর্ড রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এবং সেন্ট্রাল শরীয়াহ্ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস্ অব বাংলাদেশ-এর সদস্যবৃন্দের এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে অনেক উচ্চাশা রয়েছে,  স্বচ্ছ ও মানসম্পন্ন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশকে বিশ্বমানের একটি প্রতিষ্ঠানের রূপ দান করতে চাই।

প্রিয় ইসলাম: আমাদের দেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোর ব্যাপারে একটি কথার প্রচলন রয়েছে, ইসলামি ব্যাংকগুলোর বাহিরের চেহারা এবং ভেতরের চেহারা এক নয়, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ : যিনি বা যারা এমন কথা বলেন, ইসলামি ব্যাংকিংকে যাচাই করার জন্য আমি তাদের প্রতি আহবান জানাই। আমরা বলি, আপনারা ইসলামি ব্যাংকিংকে যেমনটা ভাবছেন, ইসলামি ব্যাংকিং তার-চেয়েও অনেক সুন্দর ও উপকারী।

একটি কথা মনে রাখতে হবে, ইসলামি ব্যাংকিং সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইসলাম ও ইসলামি ব্যাংকিং সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। সব মানুষ সমান নয়। কোনো একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে কোনোভাবেই সেই দোষ ইসলামি ব্যাংকিংয়ের উপর বর্তাবে না। ইসলামি ব্যাংকিংয়ে যতটুকু কমতি রয়েছে; তা নিরসনের ব্যাপারে বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিষদসহ সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ যথেষ্ট আন্তরিক।

ইসলামি ব্যাংকগুলোতে যারা চাকরি করেন, তারা তাদের একাডেমিক জীবনে ইসলামি ব্যাংকিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাননি। সুতরাং এই জনগোষ্ঠিকে ইসলামি ব্যাংকিং সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করে তোলা সময় সাপেক্ষ। সর্বোপরি ছোটখাট কিছু সমস্যা সমাধানের জন্যও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছি আমরা এবং যখনই কোনো প্রকারের কোনো সমস্যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে, সাথে সাথে আমরা সেই সমস্যার শরিয়াহ মোতাবিক সমাধান দিচ্ছি।

প্রিয় ইসলাম : ইসলামি ব্যাংক এবং সাধারণ ব্যাংকের মৌলিক অন্যতম একটি পার্থক্য হলো সুদ-মুনাফা। সুদ এবং মুনাফার মাঝে পার্থক্য কী?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ : সুদ ও মুনাফার মাঝে বেশ কিছু দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য রয়েছে। সেগুলো হলো-

সংজ্ঞাগত পার্থক্য: কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের উপর নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করাকে সুদ বলা হয়। আর মুনাফা হচ্ছে, লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে ব্যাবসায়িক উপার্জন।

উপাদানগত পার্থক্য: সুদের উপাদান হলো- সময়, সুদের হার ও ঋণের পরিমাণ। আর মুনাফা নির্ভর করে ব্যয়-সাশ্রয় ও অনুকুল চাহিদার উপর।

উৎসগত পার্থক্য: সুদের উৎপত্তি হলো ঋণ থেকে। ঋণ সুদমুক্তও হতে পারে। তবে ঋণ ছাড়া সুদের উৎপত্তি অসম্ভব। মুনাফার উৎস সৃষ্টি হয় ব্যবসায়ে সরাসরি মূলধন বিনিয়োগের মাধ্যমে।

মূলধন বিনিয়োগে ঝুকিগত পার্থক্য: সুদের লগ্নিতে ঋণদাতা পুঁজি হারানোর ঝুঁকি বহন করে না। মুনাফার কারবারে মূলধনী ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। পুঁজির যোগানদার এ ঝুঁকি বহন করে।

তহবিল ব্যবহারকারীর ঝুঁকিগত পার্থক্য: মূলধনী তহবিলে ঋণের পরিমাণ বেশি হলে প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি বাড়ে। লাভ-লোকসানের ভিত্তিকে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ার কারণে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি বাড়ে না। ফলে এ পদ্ধতিতে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়।

ফলাফলগত পার্থক্য: সুদের ফল ঋণদাতা একা ভোগ করে। মুনাফা ভাগ হয় পুঁজির যোগানদার ও ব্যবহারকারী/সংগঠকের মাধ্যমে।

ক্রমবৃদ্ধিগত পার্থক্য: একই ঋণচুক্তির বিপরীতে ঋণদাতা নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ বারবার পেতে পারে। এক্ষেত্রে চক্রবৃদ্ধিরও সুযোগ থাকে। কেনা-বেচার কারবারে কোনো পণ্যেও দাম একবার নির্ধারিত হয়। সে কেনা-বেচা থেকে মুনাফা একবারই পাওয়া যায়। কোনো কারণে সময় বেড়ে গেলেও মুনাফা বাড়ে না।

সুদ ও মুনাফা নির্ধারণের কৌশলগত পার্থক্য: আসল ও সুদ যোগ করে সুদ-আসল নির্ধারণ করা হয়। সময় বৃদ্ধির সাথে সুদ চক্রাকারে বেড়ে যায়। আর মুনাফার ক্ষেত্রে মোট বিক্রয় মূল্য থেকে যাবতীয় খরচ বাদ দিলে মুনাফা বের হয়।

শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য: ইসলামে সুদ চরমভাবে নিষিদ্ধ। কোনো ধরনের সুদের ব্যবসায়ই ইসলাম অনুমোদন করে না। আর মুনাফা ইসলামে অনুমোদিত। স্বাভাবিক মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে কারবার পরিচালনাকে ইসলাম উৎসাহিত করে।

প্রিয় ইসলাম: একটি ব্যাংক ইসলামি শরিয়াহ মোতাবিক পরিচালিত এই কথাটির অর্থ কী? এই কথার অর্থ কী তারা কেবল অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রেই শরিয়াহর অনুসারী? ব্যক্তিজীবন কিংবা অফিসিয়াল জীবনেও কী তারা শরিয়াহর অনুসরণে অভ্যস্ত?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ : একটি ব্যাংক ইসলামি শরিয়াহ মোতাবিক পরিচালিত এই কথাটির অর্থ হলো- ঐ ব্যাংকটির সকল প্রকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড-লেনদেন ইসলামি শরিয়াহ প্রদত্ত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তবে হ্যাঁ, কথাটি আমি আগেও বলেছি একটি ব্যাংক সম্পূর্ণভাবে ইসলামিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ার জন্য ব্যাংক পরিচালনা পরিষদসহ সকল কর্মকর্তাকে ইসলাম ও ইসলামি ব্যাংকিং সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রতিটি ইসলামি ব্যাংক পরিচালনা পরিষদই যথেষ্ট আন্তরিক বলেই আমি জানি।

প্রিয় ইসলাম: বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকগুলো কী সম্পূর্ণভাবে সুদমুক্ত হতে পেরেছ? যেমন- বিদেশি ব্যাংকগুলোর সাথে ইসলামি ব্যাংকগুলোর যে Nostro Account থাকে; চাই সেটা চলতি হিসাব হোক কিংবা Overnight lending থেকে তারা যে সুদ পায়। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছু বলুন?

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ: বাংলাদেশের প্রতিটি ইসলামি ব্যাংক তাদের সকল প্রকার কর্মকাণ্ড ইসলামি শরিয়াহ মোতাবিক পরিচালিত করার ব্যাপারে শতভাগ আন্তরিক কিন্তু বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে তো আর ইসলামি আইন-নীতিমালা কার্যকর নয়। তবে বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্যদের সহযোগিতামূলক আন্তরিকতা উল্লেখযোগ্য। তাদের এই সহযোগিতামূলক আন্তরিকতার ফলেই বাংলাদেশে এত দ্রুত ইসলামি ব্যাংকিংয়ের ব্যাপ্তি ঘটেছে। যেহেতু বাংলাদেশ এবং বিশ্বের গোটা ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা ইসলামি না, তাই সব ক্ষেত্রেই শরিয়াহ প্রদত্ত নীতিমালার অনুসরণ করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকগুলো যেটা করে, তাহলো- যে কোনো প্রকার সন্দেহযুক্ত অর্থ বা আয়কে তারা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের হিসাবে জমা করে এবং সেখান থেকে জনসেবামূলক ও জনহিতকর কাজে ব্যয় করে।

প্রিয় ইসলাম : প্রিয় ইসলামকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যাবদ। 

এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ : প্রিয় ইসলামের সকল কর্ম-কুশলী ও পাঠককে আমার পক্ষ থেকেও ধন্যবাদ।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful