Templates by BIGtheme NET
Home / বিদেশ / বছরের বড় বড় বিমান দুর্ঘটনা

বছরের বড় বড় বিমান দুর্ঘটনা

২০১৫ সালে বড় ধরনের কয়েকটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এসব ঘটনা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। এখানে তা তুলে ধরা হলো:

বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ ক্রেন দিয়ে টেনে তোলা হচ্ছে। ছবি: এএফপি২২ ডিসেম্বর: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক বিমান দুর্ঘটনায় ১০ আরোহীর সবাই নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের তিনজন বিএসএফের কর্মকর্তা, বাকি সাতজন প্রকৌশলী। দিল্লি থেকে বিশেষ বিমানে তাঁরা সবাই একটি হেলিকপ্টার মেরামত করতে ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচি যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উড্ডয়নের সামান্য পরই সুপারকিং বিমানটিতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা যায়। পাইলটের বার্তা পেয়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) তাঁকে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়। ফেরার সময়ই বিমানবন্দরের সীমানার পাঁচিলে বিমানটি ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে। এতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে বিমানের আরোহী যাত্রীরা মারা যান।
ঘটনাস্থলে থাকা উদ্ধারকারী দল জানায়, ওই সময় রাস্তায় কোনো গাড়ি ছিল না, রেললাইনও ছিল খালি। দুর্ঘটনাস্থলে রয়েছে একটা পানি পরিশোধনের প্ল্যান্ট। সেখানে কর্মরত একদল শ্রমিকের মধ্যে চারজন কমবেশি আহত হন।

হোয়াইট নীল নদের তীরে আছড়ে পড়ে বিমানটি। ছবি: রয়টার্সরাশিয়ায় তৈরি কার্গো বিমান
৪ নভেম্বর: দক্ষিণ সুদানে রাশিয়ায় তৈরি যাত্রীবাহী একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৪১ জন প্রাণ হারান। দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবার একটি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই হোয়াইট নীল নদের তীরে আছড়ে পড়ে বিমানটি। বিমানবন্দরটি নদের খুব কাছেই অবস্থিত। দেশটির প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, দুর্ঘটনায় বিমানের একজন ক্রু ও এক শিশু আরোহী প্রাণে বেঁচে গেছেন। বিমানটিতে ক্রু, ১০-১৫ জন যাত্রীসহ ২০ জনের মতো আরোহী ছিলেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরোহী ছাড়াও যে স্থানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, সেখানকার অজ্ঞাতসংখ্যক বাসিন্দাও রয়েছেন।

সিনাই উপত্যকার পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসস্তূপ। ছবি: রয়টার্সরাশিয়ার এয়ারবাস (এ-৩২১)
৩১ অক্টোবর: মিসরের সিনাই উপত্যকার পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হয় রাশিয়ার এই যাত্রীবাহী বিমান। এতে বিমানটির ২২৪ আরোহীর সবাই নিহত হন। কোগালিমাভিয়া এয়ারলাইনসের ভাড়া করা এয়ারবাসটি (এ-৩২১) সিনাইয়ের দক্ষিণের শারম আল-শেখ থেকে স্থানীয় সময় সকাল পাঁচটা ৫১ মিনিটে উড্ডয়ন করে। গন্তব্য ছিল রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবুর্গ। সিনাই উপত্যকার প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়ার ২৩ মিনিট আগে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিমানটিতে যাত্রী ছিলেন ২১৭ জন। এর মধ্যে ১৩৮ জন নারী ও ১৭ জন শিশু। যাত্রীদের বেশির ভাগ পর্যটক। বিমানটিতে ক্রু ছিলেন সাতজন। রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানান, বিমানের ২১৭ যাত্রীর মধ্যে ২১৪ জনই রাশিয়ার নাগরিক। বাকি তিনজন ইউক্রেনের। উত্তর সিনাইয়ের এল-আরিশ শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে হাসানা এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

ট্রিগানা এয়ারের উড়োজাহাজ
১৭ আগস্ট: ইন্দোনেশিয়ার দুর্গম পাহাড়ি-বনাঞ্চলীয় প্রদেশ পাপুয়ার রাজধানী জায়াপুরা থেকে ৪৯ জন যাত্রী এবং পাঁচজন ক্রু নিয়ে আকাশপথে ৪৫ মিনিট দূরত্বের পথ ওকসিবিলের উদ্দেশে যাত্রা করে ট্রিগানা এয়ারের ওই বিমানটি। অবতরণের মাত্র ১০ মিনিটি আগে এটি দুর্ঘটনায় পড়ে।
স্থানীয় গ্রামবাসীর তথ্যমতে, সেখানকার একটি পাহাড়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটিতে চার লাখ ৭০ হাজার ডলার মূল্যের নগদ অর্থ বহন করা হচ্ছিল বলে দেশটির ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান। খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানে ব্যাপক বেগ পেতে হয় উদ্ধারকর্মীদের।
দুর্গম পাহাড় ও বনে পরিপূর্ণ পাপুয়ায় পরিবহন ও যোগাযোগের জন্য সাধারণত আকাশপথ ব্যবহৃত হয়। অ্যাভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার মান ভালো না থাকায় ২০০৭ সাল থেকে ট্রিগানা এয়ারলাইনস ইউরোপীয় ইউনিয়নের কালো তালিকায় রয়েছে। ১৯৯১ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এ বিমান সংস্থাটি ১৪টি বড় সমস্যায় পড়ে, যাতে এর ১০টি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার মেদান শহরে একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয় একটি সামরিক পরিবহন বিমান। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা। ছবি: এএফপিহারকিউলিস সি-১৩০
৩১ মে: ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মেদান বিমানঘাঁটি থেকে হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে উড্ডয়ন করে। এর দুই মিনিট পর সেটি মেদান শহরে আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। এতে বিমানের ১৪১ আরোহী নিহত হন। বিমানটিতে ছিলেন মূলত বদলি হয়ে অন্য এলাকায় যোগ দিতে যাওয়া সামরিক কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
উড্ডয়নের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পাইলট বিমানটি নিয়ে আবারও ঘাঁটিতে ফেরার সময় সেটি বিধ্বস্ত হয়।

বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের খোঁজে আলপস পর্বতমালার ওপর চক্কর দেওয়া ফ্রান্সের উদ্ধারকারী বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার। ছবি: রয়টার্সজার্মান উইংসের এ-৩২০ এয়ারবাস
২৪ মার্চ: জার্মানির যাত্রীবাহী এই উড়োজাহাজ আলপস পর্বতমালার ফরাসি অংশের একটি দুর্গম এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে উড়োজাহাজটির ১৫০ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। জার্মানউইংসের এ-৩২০ এয়ারবাসটি স্পেনের উপকূলীয় শহর বার্সেলোনা থেকে জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে যাচ্ছিল। জার্মানউইংস হচ্ছে জার্মানির বিমান সংস্থা লুফথানসার সহযোগী সংস্থা, যারা কম খরচে যাত্রী পরিবহন করে থাকে। আরোহীদের মধ্যে ৬৭ জন জার্মান এবং ৪৫ জনের মতো স্প্যানিশ ছিলেন। উড়োজাহাজে জার্মানির একটি বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিশুশিক্ষার্থী এবং তাদের দুই শিক্ষকও ছিলেন। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে উড়োজাহাজটি থেকে বিপৎ​সংকেত পাঠানো হয়েছিল।

এ যেন চলচ্চিত্রের রুদ্ধশ্বাস দৃশ্য। উড়ালসেতুতে গাড়ি চলছে। মাথার অল্প ওপরেই কাত হয়ে ধেয়ে আসছে একটি আস্ত উড়োজাহাজ। একসময় উড়ালসেতুর গা ঘষে দিয়ে সেটি গিয়ে পড়ে পাশের নদীতে। ছবি: রয়টার্সএটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ
৪ ফেব্রুয়ারি: তাইওয়ানের বিমান সংস্থা ট্রান্সএশিয়ার এই যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হলে অন্তত ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। ওড়ার কিছু সময় পরই উড়োজাহাজটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে গিয়ে গোত্তা খেয়ে নদীতে পড়ে যায়। এটি যাচ্ছিল দক্ষিণ-পূর্ব চীনের শহর শিয়ানমেনে। উড়োজাহাজটির মোট ৫৮ আরোহীর মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন চীনা পর্যটক। উড়োজাহাজটি নদীতে পড়ার পর এর অংশবিশেষ পানির ওপরে ভাসতে দেখা যায়। এর ধ্বংসাবশেষের ভেতর থেকে বের হয়ে যাত্রীদের কয়েকজনকে সাঁতরাতে দেখা যায়। উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছে তাঁদের সাহায্য করেন।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful