Templates by BIGtheme NET
Home / প্রথম পাতা / ফাঁসির দড়ি থেকে চার ধাপ দূরে দণ্ডিতরা

ফাঁসির দড়ি থেকে চার ধাপ দূরে দণ্ডিতরা

নিষ্ঠুরতম উপায়ে শিশু হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে এখনো চার ধাপ আইনি লড়াই বাকি। সিলেটে রাজন হত্যা এবং খুলনায় রাকিব হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়েছে মাত্র চার মাসের মধ্যে। দুই মামলায় আলাদা বিচারে গত রবিবার ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের একনিষ্ঠতা, পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সহযোগিতায় নজিরবিহীনভাবে কম সময়ের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ায় জনগণ ও বাদীপক্ষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও উচ্চ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার ধাপগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। তবে দাবি উঠেছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেন এসব মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়ে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর করে।

খুলনার শিশু রাকিবের খালা নাসরিন আক্তার, ছোট বোন রিমি আক্তার দুই আসামির ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। একই দাবি জানিয়েছেন সিলেটের রাজনের মা-বাবাও। রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান বলেন, ‘রায়ে আমি সন্তুষ্ট। এখন একটাই দাবি, যেন দ্রুত এই রায় কার্যকর হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে হত্যার বিচারে গণমাধ্যম এবং সরকার যেভাবে বিশেষ উদ্যোগী ছিল, রায় কার্যকরের ক্ষেত্রেও সেভাবে উদ্যোগী হবে এমনটাই আশা করি।’

এমন দাবি পূরণ করতে হলে উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালত ঘোষিত ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি নিতে হয়। এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘দায়রা আদালত যখন মৃত্যুদণ্ড দান করেন, তখন হাইকোর্ট বিভাগে কার্যক্রম পেশ করবেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উহা অনুমোদন না করলে দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।’

এ কারণে রায় ঘোষণার পর মামলার নথি হাইকোর্টের অনুমোদনের জন্য গতকাল সোমবারই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার হাইকোর্টের অনুমোদনের জন্য ‘ডেথ রেফারেন্স’ হিসেবে নথি হাইকোর্টে পাঠানোর পাশাপাশি আসামিপক্ষ ইচ্ছে করলে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে বলেও রায়ে বলা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৮ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করতে পারবে। কাজেই আসামিদের আপিল, ডেথ রেফারেন্স শুনানি হবে হাইকোর্টে। এর পরও শাস্তি বহাল থাকলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও আসামি পক্ষ ইচ্ছে করলে আপিল করতে পারবে। আপিল বিভাগও যদি দণ্ড বহাল রাখেন তারপর আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

কম্প্রেসার মেশিনের সাহায্যে মলদ্বার দিয়ে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়েছিল শিশু রাকিব হাওলাদারকে। এ হত্যা মামলায় খুলনার দায়রা জজ দিলরুবা সুলতানা (ভারপ্রাপ্ত) আসামি মো. শরিফ ও মো. মিন্টু খানকে গত রবিবার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আদালত আরেক আসামি শরিফের মা বিউটি বেগমকে বেকসুর খালাস দেন। অন্যদিকে একই দিনে সিলেটের শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় চারজনের ফাঁসি এবং ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

খুলনার রাকিব হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুর রহমান চৌধুরী তুষার বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমরা আপিল করব। একই সঙ্গে আসামিরা জেল আপিলও করবেন।’ অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রায় পর্যালোচনা করছি। রায় ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’ এই মামলার আসামি বিউটি বেগমকে খালাস দেওয়ার বিষয়েই তিনি এ কথা বলেন।

খুলনার মামলাসংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী এই মামলাটি এখন হাইকোর্টে যাবে। নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ের ‘ডেথ রেফারেন্স’ এবং দণ্ডিতদের আপিল শুনানি শেষে রায় দেবেন উচ্চ আদালত। যদি উচ্চ আদালত বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন, তবে দণ্ডিতরা আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবে। সেখানে আসামিদের দণ্ড বহাল রাখলে তারা আবারও দণ্ড রিভিউ করার জন্য আবেদন করতে পারবে। রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে দণ্ডিত এবং ফাঁসির দড়ির মাঝে থাকবে শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন। রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন নিষ্পত্তি হলেই ফাঁসি কার্যকর হবে, যা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

– See more at: kalerkantho

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful