Templates by BIGtheme NET
Home / বিনোদন / প্রশংসায় ভাসল ‘ভোলা তো যায় না তারে’

প্রশংসায় ভাসল ‘ভোলা তো যায় না তারে’

সম্প্রতি রফিক সিকদারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘ভোলা তো যায় না তারে’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শো হয়ে গেল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র করপোরেশনের জহির রায়হান ল্যাবরেটরিতে। নিরব-তানহা জুটির এই চলচ্চিত্র নিয়ে লিখেছেন মাহতাব হোসেন

প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হলে কি হয়? কিছুদিন এলোমেলো, পাগলামি, আত্মহত্যার চিন্তা করা, ঘুমের ওষুধ, মাদকাসক্ত? তারপর? তারপরে ধীরে ধীরে একদিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা। পদ্মা পাড়ের পার্বতী উপন্যাসের রুদ্র কিংবা ‘ভোলা তো যায় না তারে’ চলচ্চিত্রের রুদ্রকে এগুলো কোনোটাই স্পর্শ করেনি, প্রাণঘাতী ক্যানসারের মুখ থেকে ফিরলেও ভালোবাসার কাছে, নিজের জীবনের কাছে হেরে গেছে রুদ্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের ছাত্র রুদ্র আকস্মিক প্রেমে পড়ে ভিন্ন ধর্মের মেয়ে নীলাঞ্জনার। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ আবেগ যেন ঝড়ের বেগেই ছুটেই চলে। ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে নীলাঞ্জনার বিয়ে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানের সাথেই হবে এটাই সামাজিক রীতি, আমাদের সমাজের রীতি। নীলাঞ্জনাও কি রুদ্রকে কম ভালোবাসে, নীলাঞ্জনারও কি আবেগ কম? উঁহু। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ ধাপ পেরোনোর আগেই তাঁরা বিয়ে করে ফেলে। রুদ্র-নীলাঞ্জনা আশ্রয় নেয় খালাতো ভাইয়ের বাসায়। বিয়ের প্রথম দিনই খালাতো ভাইয়ের বাসাতেই দীর্ঘদিন ধরে নাকে রক্ত আসা, বিজয় একাত্তর হলের নিজের রুমে অসুস্থ হয়ে যাওয়া রুদ্র ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয় রুদ্রকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়ে দেন রুদ্রের ‘ব্লাড ক্যানসার।’ সাথে এটাও জানান যে এই রোগের এখন উন্নত চিকিৎসা রয়েছে। ভারতে নিয়ে গিয়ে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে রুদ্রকে সুস্থ করে দেশে নিয়ে আসা হয়। এর মাঝেই ঘটে যায় রুদ্র-নীলাঞ্জনার জীবনের ভয়ংকর ঘটনা। ওলট-পালট হয়ে যায় ভালোবাসার সকল হিসেব।

বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট এর ৩৫ লাখ টাকা যখন রুদ্র’র পরিবার যোগাড় করতে পারছিল না তখনই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে এগিয়ে আসেন বিত্তশালী অথচ নিরহঙ্কারী নীলাঞ্জনার বাবা। শর্ত জুড়ে দেন, রুদ্রকে বাঁচানোর সমস্ত অর্থই তিনি দেবেন তবে নীলাঞ্জনা যেন বাধ্য সন্তানের মতো ঘরে ফিরে যায়। যেন মা-বাবার পছন্দের ছেলে চন্দনকেই যেন বিয়ে করে। রুদ্র’র জীবন বাঁচাতে নিরুপায় নীলাঞ্জনার বাবার প্রস্তাব প্রথমে ফিরিয়ে দিলেও পরে মেনে নেয়।

যখন নীলাঞ্জনার বিয়ে হচ্ছিল, তখন ওদিকে রুদ্র নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছিল। রুদ্রের মতে এটা হচ্ছে মৃত্যুকে নতুনভাবে আলিঙ্গন করা। দেশে ফিরে রুদ্র নীলাঞ্জনার চলে যাওয়া-অবহেলা মেনে না নিতে পেরে ক্রমশ মানসিক ভারসাম্য হারাতে থাকে। ক্যানসার থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ রুদ্র জীবনের কাছে ক্রমশ পরাজিত হতে থাকে। একটা সময় নীলাঞ্জনাও ব্যাকুল হয়ে ওঠে রুদ্রকে একনজর দেখার জন্য। সবাই অপেক্ষা করে রুদ্র ফিরে আসবে। পিতা অপেক্ষা করে, বোন অপেক্ষা করে। খালাতো ভাই অপেক্ষা করে। রুদ্র ফিরে আসে না। নীলাঞ্জনার অপেক্ষাও শেষ হয় না। স্বামীর ঘরে থেকেও মন পড়ে থাকে রুদ্র’র মনে। অজানা ভয় গ্রাস করে নীলাঞ্জনাকে। একটা সময় সকল অপেক্ষার অবসান ঘটে। পাগল হয়ে যাওয়া, খেতে পাওয়া-না পাওয়া রুদ্রের লাশ মেলে আরিচা ঘাটে।

এই চলচ্চিত্রের সিকোয়েন্সের বাঁকে বাঁকে রয়েছে বুকে কম্পন ধরানো টুইস্ট। পর্দা থেকে চোখ ফেরাতে চাইলেও চোখ ফেরানো যাচ্ছে না যদি কিছু মিস হয়ে যায়? গতকাল রবিবার এফডিসির জহির রায়হান ল্যাবরেটরিতে ‘ভোলা তো যায় না তারে’ প্রিমিয়ার শো শেষে সাংবাদিকদের এমনটাই জানাচ্ছিলেন এফডিসির একজন কর্মচারী।

ধলেশ্বরী চলচ্চিত্রের প্রথম পরিবেশনা ‘ভোলা তো যায় না তারে’র পরিচালক রফিক সিকদারকে কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি অতিথিরা। পরিচালককে আশ্বাস দেন ভালো ছবি নির্মাণের জন্য।

‘ছবিতে অভিনয় দেখিয়েছেন নিরব। দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন নিরব, আমাদের চোখে বারবার এনে দিয়েছেন নিরব।’ শো শেষে কিছু তরুণ-তরুণীর মন্তব্য এটা। নতুন হিসবে তানহার অভিনয়ও মুগ্ধ করেছে বেশ। অতিথিরা তাই বললেন। সবশেষে বলা যায়, ছবিটা শেষ করার পর দর্শককে দীর্ঘ সময় আচ্ছন্ন থাকতে হবে, একটা ঘোরে থাকতে হবে। দীর্ঘদিন পর এমন গভীর কাহিনীর ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আগামী মাসে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘ভোলা তো যায় না তারে’।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful