Templates by BIGtheme NET
Home / সম্পাদকীয় / প্রকল্প বনাম আচরণবিধি

প্রকল্প বনাম আচরণবিধি

পৌর নির্বাচন আসন্ন। এ মুহূর্তে কোনো নির্বাচনী এলাকার জন্য কোনো প্রকল্প অনুমোদন দিলে সরকারদলীয় প্রার্থীরা অবশ্যই বাড়তি সুবিধা পাবেন। প্রভাবিত হবেন ভোটাররা। নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে না। গতকাল প্রকাশিত কালের কণ্ঠ’র প্রধান খবরে জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে এমন ৩০ থেকে ৩৫ পৌরসভায় বিদ্যুৎ লাইন বসানো ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এমন পাঁচ প্রকল্প সবুজ সংকেত পেতে পারে। অথচ গত ২ ডিসেম্বর জারি করা ইসির পরিপত্রে পৌর নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের প্রকল্প অনুমোদনসহ সব ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

দুঃখজনক হচ্ছে, সব নির্বাচনেই আচরণবিধি লঙ্ঘন চলে। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের তিন সংসদ সদস্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন। সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সরকারি সুবিধাভোগী নয় বলে প্রচারে যেতে বাধা নেই। তবে বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়ার মিছিল বা শোভাযাত্রার নামে জনসভা বা শোডাউন করা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন আশঙ্কা করছে। তাই বিএনপিকেও আচরণবিধির ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অজুহাত বা কৌশলেই নিয়ম ভঙ্গ করা চলবে না।

প্রথমবারের মতো পৌর নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে। তাই অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। ক্ষমতায় থাকার সুবাদে কেউ বিধি লঙ্ঘন করতে পারে না। আবার না থাকার সুযোগ নিয়ে পথসভার নামে নির্বাচনী জনসভা করারও অবকাশ কারোর নেই।

এখানে নির্বাচন কমিশনেরও রয়েছে গুরুদায়িত্ব। তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হলে দল-পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো নির্বাচনী এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয় এমন কোনো উন্নয়ন প্রকল্পও এ মুহূর্তে সরকার অনুমোদন দিতে পারে না। অবশ্য পরিকল্পনাসচিব কালের কণ্ঠকে বলেছেন, জারি করা পরিপত্রটির কপি তাঁরা পাননি। তবে জাতীয় পর্যায়ে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় কোনো নির্বাচনী পৌরসভা পড়ে গিয়ে থাকলে মঙ্গলবারের একনেক সভার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এ আশ্বাসে আমরা ভরসা রাখতে চাই। এমনিতেই অনেকের সন্দেহ-সরকার ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনার চেষ্টা করবে। আশা করছি, নিরপেক্ষ থেকে সরকার ও ইসি সব সন্দেহ অমূলক প্রমাণ করবে।

অতীতে বহু নির্বাচন ক্ষমতাসীন দল কিংবা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার অভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনেকের প্রশ্ন তো আছেই। নিকট প্রতিবেশী দেশ ভারতে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করে বলেই সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য। আস্থার সে জায়গাটিতে আমাদেরও উত্তরণ প্রয়োজন। কোনো দেশের গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন মানুষ তার ভোটাধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারে। যখন তার মতকে প্রভাবিত করার অবৈধ চেষ্টা হয় না তখন নেতৃত্বেও জনমতের সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটে। পৌর নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে সদিচ্ছার বিকল্প নেই। আমাদের একান্ত প্রত্যাশা, সরকার, ইসি ও অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো এ সদিচ্ছাটি দেখাবে। নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্রটি মেনে চলা সবার দায়িত্ব।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful