Templates by BIGtheme NET
Home / অর্থনীতি / পদ্মা সেতুসংলগ্ন মহাসড়ক নির্মাণে অস্বাভাবিক ব্যয়

পদ্মা সেতুসংলগ্ন মহাসড়ক নির্মাণে অস্বাভাবিক ব্যয়

পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের যান চলাচলের সুবিধার্থে ৫৩ কিলোমিটার চারলেন সড়ক নির্মাণে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় ধরেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। ‘ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ইন্টারসেকশন থেকে (ইকুরিয়া-বাবুবাজার লিংক সড়কসহ) মাওয়া পর্যন্ত এবং পাচ্চর-ভাংগা অংশের উন্নয়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে এ কাজের জন্য ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এতে অন্তত ৯টি খাতে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে, তা অযৌক্তিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে খোদ সড়ক বিভাগ। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের অর্থে গাড়ি ক্রয়, বিদেশ ভ্রমণসহ বিভিন্ন খাতে বিলাসী বাজেট অন্তর্ভুক্ত করায় সামগ্রিক ব্যয় বেড়ে গেছে। আনুষঙ্গিক ব্যয় বাড়িয়ে দেয়ায় চারলেন সড়ক নির্মাণে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজেটের রেকর্ড সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক যুগান্তরকে বলেন, আমরা ৫ মিটার প্রশস্ত মিডিয়ান ও ফুটপাতসহ চারলেন মহাসড়ক করব। এছাড়া এ মহাসড়কে বেশ কিছু ব্রিজ, ফ্লাইওভার, ওভারপাসও থাকবে। তবে ব্যয় যৌক্তিক কি না তা এখনও বলার সময় আসেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কিলোমিটার চারলেন মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ২৯ দশমিক ২৯ কিলোমিটার, বাবুবাবাজার থেকে ইকুরিয়া লিংক পর্যন্ত ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং মাদারীপুরের পাচ্চর থেকে ভাংগা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সব মিলিয়ে ৫৩ কিলোমিটার বিদ্যমান সড়ক চারলেনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া এসব সড়কে ৮টি আরসিসি ব্রিজ, ১৯টি পিসি গার্ডার ব্রিজ, ২টি ফ্লাইওভার, ৭টি ওভারপাস ও ৮টি গ্রেড সেপারেটর (ইউ লুপ) নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা। প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু ব্যবহার করে ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াত সহজতর করতে মহাসড়ক প্রশস্ত করা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মহাখালী, মগবাজার, শান্তিনগর, বিজয়নগর হয়ে মাওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক করিডোর উন্নয়ন করা। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রাবাড়ী ও বাবুবাজার উভয় পথে যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সুযোগ পাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের অঙ্গভিত্তিক খাতে ব্যয় বেশি ধরায় সামগ্রিক ব্যয় বেড়ে গেছে। প্রকল্পের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ বিলাস, গাড়ি ক্রয়, গাড়ির জ্বালানি ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে বাস্তবতার চেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। শুধুমাত্র কনসালটেন্সি সার্ভিস বাবদ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। তারা আরও জানান, মূলত জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন খাতে বড় অংকের অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। অন্য চারলেন সড়ক প্রকল্পগুলোর তুলনায় এ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ ও মাটির কাজ বেশি করতে হবে না। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি ৩ লাখ টাকা।

এ প্রকল্পের অন্তত ৯টি খাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে প্রশিক্ষণ বাবদ খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের কার্যক্রম বিবেচনায় বিদেশ ভ্রমণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত, বিদেশ ভ্রমণের বিষয়াবলি কী হবে, কোন সংস্থার লোক কোন পর্যায়ে বিদেশ ভ্রমণ করবেন- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বেশ কিছু মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব কাজের অভিজ্ঞতা সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের রয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় গাড়ি ক্রয়, মেরামত ও সংরক্ষণ বাবদ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, অফিস ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতি বাবদ ৫ কোটি টাকা ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইক্যুইপমেন্ট বাবদ ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এর বাইরে অপর এক খাতে কম্পিউটার ও অন্যান্য দ্রব্যাদি খাতে আরও ৬ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। গাড়ির গ্যাস, পেট্রল, লুব্রিকেন্ট ও জ্বালানি খাতে ৮ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।

এছাড়া সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ খাতে সাড়ে ৫ কোটি টাকা এবং ৪টি বিদ্যমান ব্রিজ ভাঙতে ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। জানা গেছে, এসব খাতের ব্যয় বিদ্যমান বাজার দরের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে, যা যুক্তিযুক্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি চারলেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে ব্যয়ের দিক বিবেচনায় রেকর্ড সৃষ্টিকারী সবচেয়ে বড় বাজেটের কাজ। ২৩টি সেতুসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৯২ দশমিক ৩০ কিলোমিটার চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা রয়েছে ৩ হাজার ১৯০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। যদিও এ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে তিন হাজার ৮১৬ কোটি প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা। অপরদিকে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার চারলেন নির্মাণে ব্যয় ধরা রয়েছে ১ হাজার ৮১৫ কোটি ১২ লাখ ১৯ হাজার টাকা। সাসেক সংযোগ সড়ক প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীত করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৬ কোটি ৮০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। অথচ ৫৩ কিলোমিটার চারলেন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূলধন খাতের ব্যয় ৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সরকার সারা দেশে ক্রমান্বয়ে চারলেন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক বিভাগের নেয়া চারলেন প্রকল্পগুলোর খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। এতে সারা দেশের মহাসড়কগুলো চারলেনে উন্নীত করার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful