Templates by BIGtheme NET
Home / সারাদেশ / নারী অভিবাসী বাড়লেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি

নারী অভিবাসী বাড়লেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি

গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ৩০ ভাগ বেড়েছে। এর মধ্যে নারী অভিবাসীর সংখ্যা ১৯ শতাংশ বাড়লেও প্রতিশ্রুত সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখনো নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশের জন্য ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ মূল্যায়ন করতে গিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারপারসন তাসনিম সিদ্দিকী রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।

বেসরকারি সাহায্য সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় রামরু জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, পাশাপাশি সমুদ্রপথে মানব পাচারসহ অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ঘাটতি আছে।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান উল্লেখ করে রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ ডিসেম্বরে পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। যা ২০১৪ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। আর নারী অভিবাসনকারীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেড়েছে। এ বছর নারী অভিবাসনকারীর সংখ্যা এক লাখ হতে পারে। তবে তাদের সুরক্ষার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করার মতো অঙ্গীকার এখনো পূরণ হয়নি। তেমনি তাঁদের ওপর নির্যাতনের যে সব ঘটনা ঘটছে তা দূর করতে সরকারকে মনোযোগী হতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে একটি চক্র বাংলাদেশের লোকজনের জন্য একটি নতুন অনিয়মিত রুট চালু করেছে। সিরিয়ার শরণার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লোকজনকেও অবৈধ পথে ইউরোপ পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া সুদানের পর্যটন ভিসার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের লোকজনকে সুদান থেকে লিবিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। অবিলম্বে এটি বন্ধ করতে হবে।

সমুদ্রপথে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের বিচার না হওয়ার পেছনে সরকারের সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করেন তাসনিস সিদ্দিকী। তিনি কক্সবাজার-৪ আসনের (উখিয়া-টেকনাফ) সাংসদ আবদুর রহমান বদির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিভিন্ন অভিবাসন দপ্তরের তালিকা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে ইতিমধ্যেই সেখানকার জনপ্রতিনিধি ও তাঁর পরিবারের ২৬ জন সদস্যের নাম এসেছে। ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। অথচ ২০১৩ সালের অভিবাসী আইন ও মানব পাচার আইনের পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে যে অভিবাসী ও মানব পাচারের আইনে মামলা দায়ের করতে হবে এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সচেতনতার ঘাটতি আছে।

তবে কি সরকার এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মনে হয় না সরকার এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট করেছে। এখানে সরকারের অঙ্গীকারের প্রয়োজন ছিল। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, মানব পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি ঠিক নয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কি সেটি আইনে স্পষ্ট করেই বলা আছে।

তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, সমুদ্রপথে মানব পাচারের ফলে যারা বাবা হারিয়েছেন, যারা সন্তান হারিয়েছেন, যারা স্বামী হারিয়েছেন তাদের সহযোগিতার জন্য কিছু হয়নি। তাদের বিয়োগান্ত পরিণতির জন্য আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

রামরুর প্রধান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক মনে করেন, মানব পাচারসহ অভিবাসনের ক্ষেত্রে অবৈধ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য জনসচেতনতার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে হবে। অর্থাৎ পাচারকারীদের কাছে না যাওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থ পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এতে বিদেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহীরা ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যাওয়া বন্ধ করবেন।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful