Templates by BIGtheme NET
Home / রাজনীতি / দুই বিদেশী খুনের পর নতুন চাপে বিএনপি

দুই বিদেশী খুনের পর নতুন চাপে বিএনপি

দুই বিদেশী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সারা দেশে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। গত কয়েকদিনে বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকশ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হঠাৎ করে গ্রেফতার অভিযান ও মামলা দেয়ায় আবারও নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে বিএনপি। নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয়েছে গ্রেফতার আতংক।
বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। নতুন করে মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি লন্ডনে অবস্থানরত দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও অবগত আছেন। নেতাকর্মীদের সতর্কভাবে চলাফেরার নির্দেশ দিয়েছেন তারা। তাদের এমন নির্দেশ দলের নীতিনির্ধারকরা ইতিমধ্যে সব স্তরের নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানা গেছে, কেন্দ্রের এমন নির্দেশনা পেয়ে নেতাকর্মীরাও বেশ সতর্কভাবে চলাফেলা করছেন। গ্রেফতার এড়াতে অনেকেই আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা রয়েছে তারা বেশ সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করছেন। অনেকেই রাতে নিজ বাসায় ঘুমাচ্ছেন না। বন্ধ রাখছেন মোবাইল ফোনও। নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে সারা দেশে চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো জেলায় পুনর্গঠন কাজ স্থগিত করে গ্রেফতার এড়ানোকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুই বিদেশীসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই বিএনপিকে দোষারোপ করে প্রকৃত ঘটনা থেকে জনগণ ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছে সরকার। বিরোধী দল ও মতকে দমন করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দেয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বিরোধী দলের নেতাদের হয়রানি ও নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

৪ অক্টোবর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশী হত্যায় বিএনপি-জামায়াতের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন। বুধবার ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইসম অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যায় আইএসের জড়িত থাকার সম্ভাবনা কম। এ ঘটনার পেছনে জামায়াত জড়িত থাকতে পারে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি সংবাদ প্রকাশ করে। এছাড়া বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, দুই বিদেশী হত্যায় বিএনপি-জামায়াত জড়িত থাকতে পারে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন সন্দেহ করার পর আইনশৃংখলা বাহিনীও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী বিশেষ করে অতীতে যাদের বিরুদ্ধে নাশকতার নানা অভিযোগ রয়েছে, তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়। সরকারের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত কয়েক দিন ধরে চলছে গ্রেফতার অভিযান।

জানুয়ারিতে সারা দেশে চলা অবরোধ ও হরতাল কমসূচি ঘোষণার আগে ও পরে ব্যাপক ধরপাকড়ের আশ্রয় নেয় সরকার। ওই সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। সারা দেশের তৃণমূলে চালানো হয় গণহারে গ্রেফতার। নেতাকর্মীদের নামে দেয়া হয় অসংখ্য মামলা। সেই ধাক্কা এখনও সামলিয়ে ওঠতে পারেনি দলটি। বিএনপির অনেক নেতা এখনও কারাগারে। হুলিয়া মাথায় নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী রয়েছেন আত্মগোপনে। আদালত থেকে জামিন নিয়ে অনেকে এলাকায় গিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আবারও শুরু হয়েছে গ্রেফতার অভিযান। ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশী হত্যা হলেও গ্রেফতার চলছে সারা দেশেই। হঠাৎ করে গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে আতংক। গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ায় অনেক জেলায় পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, উদোর পিণ্ডি বুদোড় ঘাড়ে চাপাতে সরকার ব্যস্ত। দুই বিদেশী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপির ওপর দোষ চাপাতে মরিয়া।

তিনি বলেন, পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিএনপি আবার যাতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার শুরু করেছে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান নজরুল।

বিএনপির দফতর ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গত পনের দিনে সারা দেশে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্র্মীকে গ্রেফতার করা হয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাসসহ কয়েক নেতার নামে নতুন করে মামলা দেয়া হয়। অনেককে জেলগেট থেকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে রবিউল ইসলাম নয়ন নামে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেফতার করে পায়ে গুলি করার অভিযোগ ওঠেছে। নয়ন মোহাম্মদপুর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। রংপুরে জাপানি নাগরকিকে হত্যার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের ছোট ভাই রংপুর বিএনপির সদস্য রাশেদ উন নবী খান বিপ্লব ও রংপুর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক লাকুকে আটক করা হয়। ৫ অক্টোবর রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান খোকন ও দক্ষিণখান থানার সভাপতি নবী হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। ৫ অক্টোবর ভোরে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবু, বিএনপি নেতা আবদুল জলিল ও মাসুদ রানাকে তাদের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসমাইল, বগুড়া জেলা যুবদল সভাপতি সিপার আল বখতিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৫ অক্টোবর ভোলায় বিএনপির একটি সম্মেলন থেকে ২১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার বরগুনার আমতলীতে বিএনপি কর্মী মো. নুরু মিয়াকে আটক করা হয়।

বুধবার নড়াইল জেলা যুবদলের সভাপতি মশিয়ার রহমান, মাগুরার শালিখা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. অনুপ বিশ্বাস, যুবদলের আহ্বায়ক মনা সরদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর জেলগেট থেকে আটক করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম আহমেদ অনিককে। আগের দিন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলামকে ২৬ সেপ্টেম্বর বিনোদপুরে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। একইদিন সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আবদুল জব্বার বাবু, জেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক মেনহাজ উদ্দিন ওরফে মেন্না এবং পৌর কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন তারাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নাশকতার মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন শিকদারকে আবারও আটক করে পুলিশ। ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নাশকতার অন্য একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির কর্মপদ্ধতি সভার অনুমতি বাতিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার প্রেস ক্লাবের হলরুমে এ সভা হওয়ার কথা ছিল। এ ব্যাপারে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর হলটি বুকিং দেয়া হয়। পরে ৫ অক্টোবর অনুমোদন চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করা হলে পুলিশ তা গ্রহণ করে। কিন্তু বুধবার নগর পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের ওই সভা না করতে বলা হয়।

এদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার পরও বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে নতুন করে মামলা দেয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামসহ জেলা বিএনপির ৩৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সোমবার যশোরে মামলা করা হয়েছে। আগের রাতে আটক হওয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবুকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান যুগান্তরকে বলেন, কোনো ঘটনা ঘটার পর তদন্তের আগেই সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিএনপির দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েন। উদ্দেশ্য প্রকৃত ঘটনা ভিন্নখাতে দেয়ার পাশাপাশি বিএনপিকে চাপে রাখা। দুই বিদেশী হত্যার পরও একই ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তদন্তের আগেই প্রধানমন্ত্রী বলে দিলেন এর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের হাত আছে। তার এমন বক্তব্যের পরপরই আইনশৃংখলা বাহিনী বিরোধী নেতাকর্মীদের আটক শুরু করে। যাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা চাপে থাকার পাশাপাশি আমাদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে না হয়।

আত্মসমর্পণের পর অনেকে কারাগারে : শুধু গ্রেফতার নয়, বিভিন্ন মামলায় আত্মসমর্পণ করে যারা জামিনের জন্য আবেদন করছেন তাদের বেশিরভাগই জামিন পাচ্ছেন না। জামিন না দিয়ে আদালত তাদের কারগারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। মৌলভীবাজার সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ফয়সল আহমদ ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে সোমবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ওইদিন সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শফিকুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

৫ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলীকে কারাগারে পাঠান আদালত। বিগত মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নাকচ করেন।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মাটির ঘর এলাকায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মামলায় আত্মসমর্পণ করা জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সহসভাপতিসহ জামায়াতের চার নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠান আদালত। সোমবার জয়পুরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আবদুল্লাহ আল আমীন ভূঁইয়া আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে বিএনপির পাশাপাশি জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারের দিক থেকে বিএনপির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। দুই বিদেশী হত্যার আগে থেকেই তাদের আটক করা হলেও হত্যার পর এর মাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful