Templates by BIGtheme NET
Home / সারাবাংলা / দিনাজপুরে চিকিৎসার নামে চলছে জমজমাট ব্যবসা

দিনাজপুরে চিকিৎসার নামে চলছে জমজমাট ব্যবসা

দিনাজপুরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক। সেসব ক্লিনিকে চিকিৎসার নামে চলছে জমজমাট অবৈধ ব্যবসা আর অপচিকিৎসা। রোগীদের কাছে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে গলাকাটা টাকা।

কিছু ক্লিনিকের অনুমোদন থাকলেও তারাও মানছে না সরকারি নিয়মনীতি কিংবা নির্দেশনা। জেলা জুড়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় এমন অরাজকতা চললেও বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরাও রয়েছে নির্বিকার। মাঝেমধ্যে অনুমোদনহীন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অনেকটা লোক দেখানো এইসব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনাজপুর শহরে হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিক ছাড়া অধিকাংশই ক্লিনিকেরই নেই বৈধ কাগজপত্র। অনেক ক্লিনিকে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে সব শর্তাবলী রয়েছে তার কোন নাম গন্ধ নেই, না আছে কোন নিয়মনীতি। অধিকাংশদেরই নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার, নার্স, অপারেশন থিয়েটার ও ওষুধপত্র। এমনকি এমন অনেক ক্লিনিক আছে যেখানে রয়েছে মাত্র দু’টো কক্ষ। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে শত শত মানুষ প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছেন প্রতারণার।

বাংলাদেশ প্রাইভেট প্রাকটিস এন্ড মেডিকেল অ্যাক্ট ১৯৯২ অনুযায়ী ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও নির্ধারিত স্থান, জীবাণুমুক্ত কক্ষ বিশিষ্ট ভবন, অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও চিকিৎসার সরঞ্জামাদি ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে ডাক্তার, আবাসিক ডাক্তার, সার্জন, স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা) থাকতে হবে, প্রতি দশ বেডের জন্য তিনজন ডাক্তার, এক জন করে তিন শিফটে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।একইসঙ্গে প্রতি দশ বেডের জন্য ছয় জন স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা) তিন শিফটের জন্য দুইজন করে সার্বক্ষণিক ডিউটি পালন করবেন। কেবল এসব শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে বেসরকারিভাবে কোন ক্লিনিক রেজিস্ট্রেশন দেয়ার কথা। অথচ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিতিমালা অনুযায়ী নজরদারি নেই বললেই চলে। আবার রেজিস্ট্রেশন আছে এমন কতোগুলো ক্লিনিকেও এসব নিতিমালা ও শর্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। কথিত এসব ক্লিনিকের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে রয়েছে নানাপ্রশ্ন ও বিতর্ক।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার সরকারি চাকরির পাশাপাশি ডাক্তাররা এসব ক্লিনিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সরকারী দায়িত্ব পালন না করে এসব চিকিৎসক অধিকাংশ সময় পার করেন ক্লিনিকে। নতুন রোগী ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা। আর পুরনো রোগী ৩’শ থেকে ৪’শ টাকা হাতিয়ে নেন তারা। ওষুধ কোম্পানীগুলোর মাসিক সেলামী বা কমিশন কিংবা উপহার পেতে প্রয়োজনীয় ছাড়াও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ রোগীকে লিখে দেন চিকিৎসকরা। এমন অভিযোগ হরহামেশাই। তাছাড়া একজন ডাক্তার ২ জায়গায় একই সময় কিভাবে চাকরি করেন এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তোর পাওয়া যায়নি কখনও। এতো টাকা উপার্জন করেও অনেক ডাক্তার সরকারী রাজস্ব কর ফাঁকি দেন। এমন অভিযোগ রয়েছে। কতিপয় ডাক্তার আবার চুক্তিতে কাজ করেন। অর্থ প্রাপ্তির বিনিময় বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে তারা রোগী দেখেন ও অপারেশন করে থাকেন।ক্লিনিক মালিকরা রোগী পেলে এসব ডাক্তারের সঙ্গে দর কষাকষি শুরু করেন। শেষে উভয় পরে সমঝোতায় অপারেশন হয়। এ প্রক্রিয়ায় রোগীর অবস্থার সংকাটাপন্ন হলেও রোগীর অভিভাবগণদের করার কিছুই নেই। বেশিরভাগ ক্লিনিকে চিকিৎসার সেবার মান এতই নিম্ন যে, রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অপারেশন করতে হয়। অপারেশনকৃত রোগীদের থাকার  জন্য পৃথক কোন জায়গা নেই, ওয়ার্ড তো দূরের কথা!

একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রয়োজন নেই এমন রোগীকেও অপারেশন করা হয়। এছাড়া ভুল অপারেশনের নজিরও রয়েছে অনেক যা বিভিন্ন জাতীয়, দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ হয়েছে। এমনকি ভুল অপারেশনে রোগীর মৃত্যু হলে পুলিশ অবৈধ ক্লিনিকের মালিককে গ্রেপ্তার করারও নজির এ জেলায় রয়েছে। এছাড়াও জেলা শহরে দু’টি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অন্তরালে দেহব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে শহরে গড়ে তোলা হয়েছে সিন্ডিকেট, ডাক্তারের কাছে রোগী গেলেই প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে নানা মেডিকেল টেস্ট করতে হবে।এটিই প্রথম শর্ত। কতিপয় প্যাথলজি বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে মালিক এবং ক্লিনিক ডাক্তাররা যৌথভাবে এ অসাধু প্রক্রিয়া জড়িত।

‘যত টেষ্ট তত পার্সেন্টেজ’ এই অলিখিত চুক্তি থাকায় ডাক্তারদের পছন্দসই প্যাথলজি ছাড়া মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট গ্রহণ করা হয় না। রোগীকে বিভিন্ন ধরনের টেস্ট করতে প্যাথলজির নাম উল্লেখ করে দেয়া হয় অন্য কোথাও থেকে পরীক্ষা করালে সে রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিযে দেয়া হয়। যা রোগীর অর্থিকভাবে লোকসান বাড়লেও নিজেদের টু-পাইস সুবিধা পায় অনেকেই।

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ ক্লিনিক শহর ছেড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাংঙের ছাতার মত ক্লিনিক। এই ক্লিনিকগুলোতে সেবা নিতে যাওয়া রোগীদের কোন দূর্ঘটনা ঘটে গেলে রোগীর অভিভাবক ও ক্লিনিকের মালিকপক্ষ ওয়ারিশদের নিয়ে সমঝোতার বৈঠক করেন ও ক্লিনিক মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ারও অনেক নজির রয়েছে। ক্লিনিকের অনুমোদন আছে কি না এ তথ্য জানতে চাইলে দিনাজপুরের একাধিক ক্লিনিকের পক্ষ থেকে কেউ কথা বলতে রাজি নন।

এব্যাপারে দিনাজপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ এমদাদুল হকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তার দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘টিএইচএ এর সাথে কথা বলেন বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। অন্যদিকে ক্লিনিক সম্পর্কে জানতে ক্লিনিক মালিক এবং ডায়াগনিষ্টিক এসোসিয়েশন এর সভাপতি ডাঃ গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শতভাগ না হলেও আমরা পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা উন্নিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডাক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গুটিকয়েক ডাক্তারের কারণে গোটা চিকিৎসক সমাজের ভাবমূর্তি আজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশের চিকিৎসা সেক্টরে পরিবর্তন আনবেন বলে আশাবাদী তারা।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful