Templates by BIGtheme NET
Home / বিনোদন / দিতির অসাধারণ সব গুণের কথা শুনতাম

দিতির অসাধারণ সব গুণের কথা শুনতাম

দিতি চলে গেল শোনার পর থেকে চুপ হয়ে আছি। যদিও জানতাম অনেকদিন থেকে যমে মানুষে টানাটানি চলছিল ওকে নিয়ে। তারপরও কিন্তু ও দেশে ফিরে এলো। ভাল মন্দ যা হোক চিকিৎসাও চলছিল। তবু গতকাল ২০ মার্চ ও চলেই গেল। দিতি ছিল সম্পূর্ণ সেলফ মেড একজন শিল্পী। ছোট্ট একটা জীবনে অনেক ভাঙ্গা-গড়ার ভেতর দিয়ে গেল মেয়েটা।’

কথাগুলো ‘বহুব্রীহি’ ও ‘এইসব দিনরাত্রি’খ্যাত অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতার। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এ অভিনেত্রী প্রয়াত দিতিকে স্মরণ করে মঙ্গলবার ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। ওই লেখায় উঠে আসে ‘দুই জীবন’ তারকা দিতির জীবন সংগ্রামের নানা দিক।

লতা আরও লেখেন, ‘আমরা বনানীতে বেশ পাশাপাশি প্রতিবেশী ছিলাম। বনানী বাজারের গা ঘেঁষে সোহেলদের (সোহেল চৌধুরী) বাড়ি। সোহেল ছিল ভারি সুদর্শন আর দারুন ভদ্র একটা মানুষ। যখনই দেখা হতো আমার আগেই একটা লম্বা সালাম দিয়ে ফেলত। একবার সোহেলরা বনানী এলাকায় ডিশ লাইনের কানেকশান দিতে শুরু করলে আমিও ওদের কাছ থেকে ডিশের কানেকশান নিলাম। তখন মাঝে মাঝে দেখা হতো সোহেলের মায়ের সাথে। ওরা ছিল বরিশালের মানুষ। বাড়িতে সারাক্ষণ লোকজন, হৈ চৈ আর খানদানি রান্না-বান্না চলত। দিতিও ভাল রান্না করত শুনেছি। এতো কাছাকাছি থেকেও দিতির কর্মব্যস্ততার জন্যে দেখা হতো খুব কম। কিন্তু দেখা হওয়া মাত্রই আপু বলে দু’হাত বাড়িয়ে গলা জড়িয়ে ধরত।

সিদ্ধার্থ যখন এক বা দুই বছরের তখন গুলশানের ডা. তালুকদারের কাছে নিয়ে যেতাম অসুখ-বিসুখ হলে। সোহেল আসত ওদের বাচ্চা দুটোকে নিয়ে। এ সময় রোড এক্সিডেন্টে ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা মারা গেলেন। তখন ওর বাচ্চারাও আসত সোহেলের সাথে। বহুবার দেখেছি ইলিয়াস কাঞ্চনের বাচ্চাদেরকে নিয়ে সোহেল বসে আছে ডাক্তার তালুকদারের কাছে। বুঝতে পারতাম এ কেবল ওদের দুই ফ্যামিলির সুসম্পর্কই নয়, সোহেল-দিতি দুটি অসাধারণ মানবিক মানুষ বলেই ইলিয়াস কাঞ্চনের মা হারা বাচ্চা দুটিকে বুকে তুলে নিয়েছিল। মনে মনে খুশি হতাম দিতি ভালো একজন মানুষকে পেয়েছে তার জীবনে, এই ভেবে।

আমার এক বন্ধু ছিল নারায়ণগঞ্জের মেয়ে, তার কাছে দিতির অসাধারণ সব গুনের কথা শুনতাম। খুব সংসারী মেয়ে ছিল দিতি। ভালবাসতে পারত খুব। বাচ্চাদের জন্যে সেই ছোট্টবেলা থেকেই দিতি ছিল অসম্ভব মায়াবী একজন মানুষ। কোন এক আত্মীয়ের বাচ্চাকে কিছুদিন ওর কাছে রেখে কোথাও গিয়েছিল ওরা। দু’সপ্তাহ পরে ফিরে এসে দেখে, খাইয়ে দাইয়ে বাচ্চাকে মোটাসোটা বাবু বানিয়ে ফেলেছে দিতি। ভাল গান গাইত, নাচত, শিশু শিল্পী হিসেবে নাম করেছিল। সংসারের খুটিনাটি সব দিকে, সবার দিকে ওর সমান নজর থাকত। এসব কত গল্প শুনেছি ওর।

চোখের পলকে সব কিছু কেমন যেন হয়ে গেল। সোনার মত ছেলেটা সোহেল! সেই সোহেলকে কেউ মারতে পারে ভাবতেও পারি না। কিভাবে কি হল সোহেলকে গুলি করে মেরে ফেলল কারা যেন। সোহেল হত্যার আর বিচারও হল না কোনদিন। অকালে ঝরে গেল সোহেল! দিতির জীবনে দুটি ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে একা হয়ে যাওয়া আর আশেপাশে বন্ধুবেশী চতুর শয়তান, অবিশ্বস্ত অমানুষের কাছে বারে বারে বেদনার্ত হবার ঘটনা। ডুবে যেতে যেতে ভেসে ওঠার কষ্ট সয়ে তবু সব কিছুর ভেতর থেকেও ও মাথা তুলে তুলে দাঁড়িয়েছিল এতদিন, কিন্তু এবার আর পারল না। মরণই তার ঘাতক হয়ে ছিনিয়ে নিয়ে গেল তাকে। ওর সকল জ্বালা নিভিয়ে দিয়ে গেল। ওর আত্মা এই মাটির পৃথিবীতে যে শান্তির আশ্রয়টুকু খুঁজেছিল তা যেন ও সত্যি সত্যিই খুঁজে পায়। ওর বাচ্চারা ভাল থাকুক। শক্ত পায়ে উঠে দাঁড়াক। দিতির মত অমিত শক্তি নিয়ে জীবনের সকল যুদ্ধে জয়ী হোক ওরা।

About Tareq Hossain

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful