Templates by BIGtheme NET
Home / অন্যান্য / জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের শিশু প্রতিনিধি মনি বেগম

জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের শিশু প্রতিনিধি মনি বেগম

কখনো ভাবিনি রাজধানী ঢাকায় যেতে পারব, সেখানে আপনাদের দোয়ায় আমি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে জাতিসঙ্ঘে অংশগ্রহণ করে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করে বাংলাদেশে এসেছি। বর্তমানে সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কথাগুলো বলে মনি বেগম। মনি বেগম জাতিসঙ্ঘের ৭০তম অধিবেশনে যোগদানকারী বাংলাদেশের একমাত্র শিশু প্রতিনিধি। এভাবেই সে তার অনুভূতি ব্যক্ত করে। ১৬ অক্টোবর বিকেলে কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশায় সুলতানপুর গ্রামে মনির বসতভিটায় গেলে কথা হয় মনির সাথে। মনি তাকে জাতিসঙ্ঘে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য সুলতানপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সেভ দ্য চিলড্রেন ও ঢাকা আহছানিয়া মিশন কর্তৃপক্ষ এবং মা-বাবাকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানায়।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা সুলতানপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী দিনমজুরকন্যা মনি বেগম বাংলাদেশের একমাত্র শিশু প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসঙ্ঘের ৭০তম অধিবেশনের শিশু অধিকার সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে দেশে ফিরেছে। জাতিসঙ্ঘের ৭০তম অধিবেশনে বিশ্বের ১৯টি দেশের ১৯ জন শিশু প্রতিনিধির সাথে মনিও বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ব নেতাদের সাথে সম্মেলনে পাঁচ-ছয়টি সেশনে অংশগ্রহণ করে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন বাস্তবায়নাধীন এভরি ওয়ান ক্যাম্পেইন কর্মসূচির আওতায় ‘তাকে বড় হতে দাও’ স্লেøাগান নিয়ে মনি জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে শিশু অধিকার, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ রোধ, মা ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ের ভাষণ দেয়। ১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য মনি ঢাকা থেকে নিউ ইয়র্ক যাত্রা করে এবং ২০ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর মনি বিভিন্ন সেশনে অংশ নেয়। ২৩ সেপ্টেম্বর মনি শিশু অধিকার সম্মেলনে বক্তব্যদানকালে অনুষ্ঠানে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি মুন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানসহ পাকিস্তানের নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন। মনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ রোধ, শিশু অধিকার, মাতৃমৃত্যু হার কমানোর ব্যাপারে সে কিভাবে কাজ করে সে ব্যাপারে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ে, বিভিন্ন কমিউনিটিতে ইস্যুগুলোর ব্যাপারে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা যায় সে ব্যাপারে তার বক্তব্যে তুলে ধরে। এ ছাড়া মনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১৯টি দেশ থেকে আসা এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য আদান প্রদানসহ বিভিন্ন সেশনেও বক্তব্য দেয় এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এ ছাড়া সম্মেলন চলাকালে মনি জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি মুন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, কেনিয়ার প্রেসিডেন্টসহ কয়েকটি রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বাংলাদেশের শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ রোধ, মা ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব মনির উপস্থাপিত বিষয় মনোযোগসহকারে শোনেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর মনি অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করে বাংলাদেশে ফিরে আসে।
মনি বেগম পড়াশোনা করে কুলাউড়ার স্থানীয় সুলতানপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। বর্তমানে দশম শ্রেণীর ছাত্রী। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেবে সে। স্কুলের ফার্স্ট গার্ল মনি বেগম ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ায় খুবই মেধাবী। লেখাপড়ার পাশাপাশি মনি গান, নৃত্য, খেলাধুলা, কবিতা আবৃতি, উপস্থিত বক্তৃতা ইত্যাদিতে খুবই পারদর্শী। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে প্রিয় মনিকে যে বিষয়ে কাজে লাগানো হয়েছে সব কিছুতেই রেখেছে সে প্রতিভার স্বাক্ষর। এর মধ্যে সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশোনার সময় ব্র্যাকসহ অন্যান্য এনজিওর মাধ্যমে বিভিন্ন কিশোরী প্রতিনিধি হিসেবে দক্ষতা অর্জন করে। ২০১৪ সালে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের কর্মকর্তারা এভরি ওয়ান ক্যাম্পেইনের আওতায় শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ রোধ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করা অভিজ্ঞ শিক্ষার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করতে সুলতানপুর বালিকা বিদ্যালয়ে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এ স্কুল থেকে মনিসহ তিন শিক্ষার্থীর তালিকা প্রদান করেন। এভাবে সারা দেশ থেকে আহছানিয়া মিশন কর্তৃপক্ষ ১৮০ জনকে বাছাই করে এবং ঢাকায় নিয়ে সবার মেধা যাচাই এবং শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ রোধ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করার কৌশল শীর্ষক একটি পরীক্ষা গ্রহণ করে। সেই পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে কুলাউড়ার মনি বেগম প্রথম স্থান অর্জন করে। দেশের মধ্যে প্রথম হয়ে জাতিসঙ্ঘের ৭০তম অধিবেশনে শিশু অধিকার সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের একমাত্র শিশু প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে মনি। পরে সেভ দ্য চিলড্রেন অফিসে আরো বিস্তৃত আকারে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় মনিকে। ‘তাকে বড় হতে দাও’ স্লেøাগান নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতিনিধির সাথে মনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে।
মনির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মনির মা গৃহিণী হাওয়ারুন বেগম জানান, মনি ছোটবেলা থেকে খুবই মেধাবী ছাত্রী হিসেবে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ ছাড়া স্কুলের যেকোনো অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনা, নৃত্য পরিবেশনা, কবিতা আবৃতি ও খেলাধুলা ইত্যাদিতে মনি ছিল খুবই পারদর্শী। পঞ্চম শ্রেণীতেও ভালো ফলাফল অর্জন করে, অষ্টম শ্রেণীতে ৪.৯৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় এবং আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায়ও ভালো ফলাফলের আশায় বর্তমানে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মনি জানায়, পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু বাণিজ্য বিভাগে লেখাপড়ার কারণে পাইলট হতে পারব না বলে বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সমাজের মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে আইন পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করব। মনি আরো জানায়, গানের প্রতি অসম্ভব দুর্বলতা রয়েছে তার। তাই আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে চায়।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful