Templates by BIGtheme NET
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রামে আইএস পরিচয়ে কাজ করছিল জেএমবি?

চট্টগ্রামে আইএস পরিচয়ে কাজ করছিল জেএমবি?

চট্টগ্রামের ‘সামরিক শাখার প্রধান’ গ্রেপ্তার হওয়া তৌফিকুল ইসলাম ওরফে জাবেদ তিন মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএসের হয়ে কাজ করছিলেন বলে মৃত্যুর আগে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন। তাঁর দাবি, চট্টগ্রামে তাঁর নেতৃত্বে ১২-১৩ জন আইএসের হয়ে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশে আইএসের প্রধানের নাম আবু ইব্রাহিম।
জিজ্ঞাসাবাদ-সংশ্লিষ্ট পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে এ কথা জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জাবেদ বলেছেন যে তিনি ২০১২ সালে চট্টগ্রামে জেএমবিকে সংগঠিত করার কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। মাস তিনেক আগে থেকে চট্টগ্রামে তাঁরা ১২-১৩ জন আইএসের জন্য কাজ করছিলেন। তিনি চলতি বছরে ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর এলাকার একটি বাড়িতে টানা পাঁচ সপ্তাহ বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। প্রশিক্ষক ছিলেন দুজন।
জাবেদ বাংলাদেশে আইএসের প্রধান হিসেবে আবু ইব্রাহিম নামে যে ব্যক্তির নাম বলেছেন, তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানতে পারেনি পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারের পরদিন জাবেদ গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হওয়ায় তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত জানার সুযোগ পাওয়া যায়নি। তাঁর চার সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল জলিল মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিহত জাবেদ নিজেকে আইএস দাবি করেছে। আসলে সে জেএমবির কমান্ডার ছিল। জেএমবি এখন ডুবন্ত জাহাজ। খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকার জন্য তারা চেষ্টা করছে। এ জন্য তারা নিজেদের আইএস বলে দাবি করছে।’
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমরা জঙ্গিদের আস্তানায় অভিযান চালাচ্ছি। ওদের তছনছ করে দিচ্ছি। জঙ্গিরা বাংলাদেশে জেএমবি কিংবা আইএস কোনো নামেই দাঁড়াতে পারবে না।’
চট্টগ্রামের পুলিশ ৫ অক্টোবর জাবেদসহ পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও হাতে তৈরি গ্রেনেড, বোমাসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন ভোরে জাবেদকে নিয়ে অভিযান চালানোর সময় ‘গ্রেনেড বিস্ফোরণে’ নিহত হন তিনি।
চট্টগ্রাম পুলিশের পদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেন, জাবেদ যে ১২-১৩ জনকে নিয়ে সংগঠিত হওয়ার কথা বলেছেন, তাঁদের শনাক্ত ও ধরার চেষ্টা চলছে। অবশ্য এঁদের মধ্যে দুজন গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় বিস্ফোরণে নিহত হন। তখন পরিচয় না পাওয়ায় ওই দুজনের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে জাবেদসহ গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিহত দুজনের পরিচয় মেলে। তাঁরা তহবিল সংগ্রহের জন্য ছিনতাই করতে গিয়েছিলেন।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার থাকা জাবেদের চার সহযোগীকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও পাঁচ-ছয়জনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গির আইএস দাবি প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওরা (জঙ্গিরা) অনেক কিছু বলতে পারে। তবে তারা যে আইএস জঙ্গি, সেই কানেকশন আমরা পাইনি। নিহত জাবেদ জেএমবির চট্টগ্রামের সামরিক শাখার প্রধান ছিল। সে আসলে ভয়ংকর জঙ্গি ছিল। তার চার সহযোগীকে চট্টগ্রামে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের শিগগির ঢাকায় এনে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করব।’
জাবেদের চার সহযোগী বুলবুল আহমেদ, মো. সুজন, মাহবুবুর রহমান ও শাহজাহান প্রশিক্ষিত জঙ্গি সদস্য। তাঁদের তিনটি মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রিমান্ডে থাকা চার জঙ্গি ঢাকা, বগুড়া ও রংপুরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য আমরা যাচাই করে দেখছি।’

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful