Templates by BIGtheme NET
Home / জাতীয় / খালেদা-ইউনূস-জামায়াতের কারণে জিএসপি স্থগিত

খালেদা-ইউনূস-জামায়াতের কারণে জিএসপি স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত হওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও জামায়াতে ইসলামিকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া, ইউনূস ও জামায়াতের আন্তর্জাতিক অপপ্রচারের কারণেই জিএসপি সুবিধা স্থগিত হয়েছে। তারা অর্থ দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই সুবিধা ফিরে পাওয়া সম্ভব বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের উত্থাপন করা একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এরআগে ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতউল্লার অনুপস্থিতিতে তার পক্ষেও প্রশ্ন উত্থাপন করেন হাজি সেলিম।

রহমতউল্লাহর প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়- যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ১২২টি দেশে জিএসপি সুবিধা দিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়েছে। তার কারণ কী? সরকার এই ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক ব্যাতিত অন্যান্য পণ্য জিএসপি সুবিধার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার ছিল। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজের রপ্তানিকৃত পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি হচ্ছে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল পণ্য। এ দেশের তৈরি পোশাক ও চিংড়ি খাত এবং ইপিজেডভুক্ত শিল্প কারখানায় শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এমন অভিযোগ করে ২০১৩ সালের ২৭ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে।

এরপর সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন সংসদ নেতা। তিনি বলেন, তাদের ব্যক্তি স্বার্থে আঘাত লাগায় এক সময়ের প্রধানমন্ত্রী, এরপরের বিরোধী দলীয় নেত্রী অবশ্য এখন তিনি এর কিছুই নন, তিনি চিঠি দিয়ে, একটি অখ্যাত পত্রিকায় আর্টিকেল ছাপিয়ে জিএসপির বিরোধিতা করেছেন।

জিএসপি সুবিধা স্থগিতের পরেও বাংলাদেশ থেমে থাকেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরের শত্রু বিভিষণ। তাদের বিরোধিতার কারণে জিএসপি সুবিধা স্থগিত হয়েছে, এটা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। তবে বাংলাদেশ নতুন নতুন বাজার খুঁজে পাচ্ছে। রপ্তানিও করে যাচ্ছে। হয়তো আমরা আরো অনেক বেশি ভালো করতাম। কিন্তু জিএসপি বন্ধ করে আমাদের থামিয়ে রাখতে পারেনি। আমাদের বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। আর তারা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করলো। এর আগে একাত্তর সালেও তারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা আটকে রাখতে পারেনি।

জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জিএসপি পুনর্বহাল করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন শর্ত সংবলিত ‘বাংলাদেশ অ্যাকশন প্ল্যান-২০১৩’ বাস্তবায়নের পরামর্শ দেয়। ওই প্ল্যানের শর্তের মধ্যে রয়েছে- পরিকল্পনায় আইনগত ও নীতিগত ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন, রপ্তানিযোগ্য সকল তৈরি পোশাক কারখানা ভবনের ফায়ার, ইলেকট্রক্যিাল ও স্ট্রাকচারাল বিষয়ক যাচাই, প্রশাসনিক পদক্ষেপ, শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, দুটি এনজিওর কার্যক্রম পুনঃচালু করা, জনসাধারণের প্রবেশযোগ্য ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠা, শ্রম ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন ত্বরান্বিত করা, হটলাইন প্রতিষ্ঠা করা, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে বিশেষ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন, চিংড়ি সেক্টরে শ্রম অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ রক্ষা করা।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বর, ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল ও একই বছরের ১৬ নভেম্বর ওই অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের অগ্রগতি ‘ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (ইউএসটিআর)’ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার উক্ত অগ্রগতি রিভিউ করে অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং চলমান কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি সময়ে সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে অবহিত করা হচ্ছে এবং অ্যাকশন প্ল্যানের অধিকাংশ বিষয় বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অবশিষ্ট বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ‘চিফ ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ অ্যান্ড এস্টাব্লিশমেন্ট’ অফিস পুনর্গঠনসহ ২২৫ জন পরিদর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চালু রপ্তানিমুখী প্রায় ৩ হাজার ৬৮৫টি গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে অ্যালায়েন্স, অ্যাকোর্ড ও জাতীয় টিমের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৩৭৫টি গার্মেন্টস কারখানার অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও স্ট্রাকচারাল বিষয় পরিদর্শন করানো হয়েছে। তার মধ্যে ৩৪টি কারখানা ক্রটিপূর্ণ পাওয়ায় ‘রিভিউ প্যানেল’ এর সুপারিশ অনুযায়ী উক্ত কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে সকল কারখানার অগ্নি ও বৈদ্যুতিক ও ভবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রাথমিক পরিদর্শন কার্যক্রম শেষ হবে। এ লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ৭ জুলাই ইপিজেড শ্রম আইন-২০১৪ এর খসড়া মন্ত্রিপরিষদে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ আইনও বিধিগত কার্যক্রম শেষে উক্ত খসড়া আইন বিল আকারে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful