Templates by BIGtheme NET
Home / শিল্প বাণিজ্য / কোটিপতিদের তথ্য সংগ্রহ করছে এনবিআর

কোটিপতিদের তথ্য সংগ্রহ করছে এনবিআর

নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এরপর রিটার্ন জমা দিতে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্ধিত এ সময়ে এক কোটি টাকা বা তার বেশি সম্পদের মালিকদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য করতে এনবিআর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। অথচ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ আছে এমন এক হাজার ৪২৯ ব্যক্তি রিটার্ন দাখিল করেছে। বিগত কয়েক বছরে রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ আছে গড়ে এমন প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তি রিটার্ন জমা দিয়েছে। বর্তমান হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এখনো বড় সংখ্যক কোটিপতি আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি। তা ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে এক কোটি বা তার বেশি অর্থ গচ্ছিত আছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৩১ হাজার ৪২টি এবং বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) নিবন্ধিত উচ্চমূল্যের মার্সিডিস বেঞ্জ গাড়ি আছে প্রায় ২৫ হাজারটি।

তাই যেসব কোটিপতি এখনো রিটার্ন জমা দেয়নি তাদের চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিআরটিএর তথ্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজস্ব বোর্ড। তাদের এ পদক্ষেপের পর যেসব সম্পদশালী করদাতা রিটার্ন দাখিল করবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করদাতার হিসাব জব্দ করা হবে। রিটার্নে মিথ্যা তথ্য দিলেও এনবিআর থেকে একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এনবিআরের করনীতি শাখা থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আগামী সপ্তাহে এনবিআর থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে-বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে এক কোটি টাকা বা তার বেশি অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত আছে এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা চাওয়া হবে। সেই সঙ্গে বিআরটিএতে নিবন্ধিত বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের নামের তালিকা চেয়েও তাদের চিঠি দেওয়া হবে।

বিগত করবর্ষগুলোতে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। করদাতাদের সুবিধার্থে বারবার সময় বাড়ানোর পরও কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকদের রিটার্ন জমা দেওয়ার হিসাব হতাশাজনক।

এনবিআর সূত্র জানায়, ২০১১ করবর্ষের সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী চূড়ান্ত হিসাবে দুই কোটি টাকার ওপরে সম্পদ আছে এমন করদাতার সংখ্যা ছিল চার হাজার ৩০৩ জন। এ সংখ্যা ২০১২ সালে চার হাজার ৮৬৫ জন এবং ২০১৩ সালে ছিল পাঁচ হাজার ১৪৫ জন। গত বছরও এ সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার জনের কিছু বেশি। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোটি টাকার ওপরে সম্পদধারীর সংখ্যা অনেক বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলোতে ব্যক্তি উদ্যোগে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা রয়েছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৭৭টিতে। সব হিসাবে মোট জমা রয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৩১ হাজার ৪২টি। আবার বিআরটিএতে নিবন্ধিত কোটি টাকার (আমদানি শুল্কসহ গাড়ির বাজার মূল্য) ওপরে বিলাসবহুল গাড়ির সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। এসব গাড়ির মধ্যে আছে মার্সিডিস বেঞ্জ, বিএমডাব্লিউ, লেক্সাসের মতো দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি। মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৫ হাজার।

প্রতি করবর্ষে কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক না বাড়ায় এবার আগেভাগেই সম্পদশালী করদাতাদের ওপর নজরদারি শুরু করেছে এনবিআর। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিআরটিএ থেকে তথ্য সংগ্রহের পর সম্পদশালী করদাতাদের নামের তালিকা নিয়ে ওই করদাতারা রিটার্ন জমা দিয়েছে কি না তা যাচাই শুরু করবে। যেসব করদাতা চলতি করবর্ষে এখনো রিটার্ন দাখিল করেনি তাদের নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে চিঠি পাঠাবে। এর পরও রিটার্ন জমা না দিলে ওই করদাতাদের বিরুদ্ধে রাজস্ব আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এনবিআর। প্রয়োজনে হিসাব জব্দ করা হবে। অন্যদিকে সব সম্পদশালী করদাতার রিটার্নে দেওয়া তথ্যও এনবিআর থেকে যাচাই করা হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআরটিএর তথ্য খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ওই করদাতার বসবাসের ঠিকানা, ব্যবসা বা চাকরি ক্ষেত্র থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর্মকর্তারা সরেজমিনে ওই করদাতা সম্পর্কে তদন্ত করবে। তদন্তের স্বার্থে করদাতাকে জিজ্ঞাসাবাদও করবেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কর দিতে সক্ষম এমন করদাতাদের রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সত্য তথ্য দিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে এনবিআর কঠোর অবস্থানে আছে। বিগত দিনে অনেকে আয়কর রিটার্ন জমা না দিয়ে বা রিটার্নে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পার পেলেও এবার এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।’

এনবিআরের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিগত দিনের কর আদায়ের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশে সম্পদশালী করদাতাদের মধ্যে বেশি রাজস্ব ফাঁকির প্রবণতা বেশি। নানা কৌশলে তারা এ কাজ করে। যারা রাজস্ব ফাঁকি দেয় তারা বারবার ফাঁকি দিয়েই চলেছে। কিছু আছে আইন থেকে বাঁচতে কর দিলেও রিটার্নে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। এই ব্যক্তিরা সমাজের প্রভাবশালী। তাদের কাছ থেকে হিসাব মতো রাজস্ব আদায়ে বেশির ভাগ সময়েই ব্যর্থ হয় এনবিআর। এবারে সম্পদশালীদের কাছ থেকে হিসাব মতো রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের কৌশল কাজে লাগলে দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো হবে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful