Templates by BIGtheme NET
Home / শিল্প বাণিজ্য / কাঁচা মরিচ থেকে মাছ কোথাও স্বস্তি নেই

কাঁচা মরিচ থেকে মাছ কোথাও স্বস্তি নেই

দৃশ্যপট-১
-মরিচ কত?
-২৫০ গ্রাম ৬০ ট্যাকা।
-দিবা কত?
-এক দাম ৫৫, আর দামাদামি নাই।
বেচারা ক্রেতা আরও দু-একবার চেষ্টা করলেন মরিচের দাম ৫০ টাকায় নামানো যায় কি না। ব্যর্থ চেষ্টা শেষে ৫৫ টাকাতেই কাঁচা মরিচ কিনলেন।
দৃশ্যপট-২
-ওই ইলিশের জোড়া কত?
-২,৮০০।
-ওই গুলা তো ৮০০-৯০০ গ্রামের বেশি হইব না। এত দাম চাও ক্যান?
-আপনে কত দিবেন?
-১,৬০০ টাকা দেই।
-এই দামে বাজারের কেউই দিব না।
-১,৮০০।
এই দামেও বিক্রেতার সঙ্গে ক্রেতার বনিবনা হলো না।
দুটো দৃশ্যই গতকাল শনিবার বিকেলের, রাজধানীর কারওয়ান বাজারের।
এই যখন দৃশ্যপট, তখন কোনটাতে হাত দেবেন আপনি—মরিচ, না মাছ? সব পণ্যের দামেই আগুন। বড় বাজারের ব্যাগ এনেছেন। কিন্তু তার অর্ধেকটাও ভরছে না। কম তরিতরকারি কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
ক্রেতাদের যেমন নানা অভিযোগ, তেমনি বিক্রেতাদেরও অজুহাতের শেষ নেই। ঝড়-বৃষ্টি-বন্যা—কোনো না কোনো অভিযোগ আপনাকে দেখিয়ে দেবেনই।
কাঁচা মরিচের ওই বিক্রেতার সঙ্গে পরে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। বিক্রেতা জানালেন, ‘এই মরিচ কিন্যা আনছি পাল্লা এক হাজার ট্যাকা কইরা। দাম তো বেশি হইবই।’ পাল্লা মানে পাঁচ কেজি।
বিক্রেতার কথার সত্যতা খুঁজতে কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা গেল, এক পাল্লা কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায়।

বৃষ্টির কারণে ঢাকায় কাঁচা মরিচ আসছে কম। তাই বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন রোদ উঠলে দাম কমে যাবে। ক্রেতাদের জন্য লোভনীয় হতে পারে পেঁপে। কারণ, বাজারে এর দামই সবচেয়ে কম। বাকি সব সবজির দামই চড়া। মিয়ানমার থেকে এসেছে আরও ৪২০ টন পেঁয়াজ। চিনির ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এত দাম কেন মরিচের? ব্যাপারীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ উৎপাদনকারী এলাকা থেকে ঢাকায় কাঁচা মরিচ আসছে কম। এ কারণে বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে কয়েক দিন রোদ উঠলে দাম কমে যাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে খেতের মাটি নরম হয়ে গেছে, মরিচ তুলতে গেলে গাছ উপড়ে আসে। এ কারণে বৃষ্টির সময় চাষিরা গাছ থেকে মরিচ তোলেন না। অনেক স্থানে পানি জমার কারণে মরিচগাছ মরে গেছে। এতেও ফলন ব্যাহত হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে ৪০টি জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে আবার বাজারে কাঁচা মরিচ আসা শুরু হবে।
তরিতরকারির বাজারেও কোনো স্বস্তি নেই। তবে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে লোভনীয় হতে পারে পেঁপে। কারণ, বাজারে এর দামই কম, কেজি ৩০ টাকা। চাইলে পটোল আর ধুন্দলও কিনতে পারেন। এই দুটি সবজি কেনা যাবে প্রতি কেজি ৫০ টাকায়। করলা কিনলে দাম পড়বে ৬০। একই দামে কেনা যাচ্ছে টমেটো। প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়স আর শসা ৭০, বরবটি আর গোল বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়।
পেঁয়াজের চড়া দাম বেশ কিছুদিন ধরেই। এখনো প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে। ভারতীয় পেঁয়াজের প্রভাবেই এমনটা হয়েছে। মজুতদারেরা এখনো চড়া দামেই দেশি পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছেন।
পেঁয়াজ আমদানির জন্য এখন বড় বিকল্প মিয়ানমার। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিয়ানমার থেকে তিনটি ট্রলারে করে ৩২০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। শুক্রবার আমদানি হয়েছে আরও ১০০ টন পেঁয়াজ।
বাজারে মুরগির দামও খানিকটা কমেছে। ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়। তবে ডিমের দাম চড়া। এক ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৮-১১০ টাকায়।
চিনির ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কারওয়ান বাজারের কোনো কোনো বিক্রেতা চিনি বিক্রি করছেন ৪৫ টাকায়, আবার কেউ বিক্রি করছেন ৪০ টাকায়। একই চিত্র দেখা গেল দেশি মসুর ডালেও। কেউ বিক্রি করছেন ১২৫ টাকায়, কেউবা ১৩০ টাকা কেজি দরে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful