Templates by BIGtheme NET
Home / জাতীয় / একই স্টাইলে একের পর এক হত্যা

একই স্টাইলে একের পর এক হত্যা

রাজধানীর গোপীবাগে চাঞ্চল্যকর সিক্স মার্ডার, খুলনার খালিশপুরে পিতা-পুত্র হত্যাকাণ্ড, উত্তরায় মাসুম হত্যাকাণ্ড, রাজাবাজারে নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ বাড্ডায় খিজির খান হত্যাকাণ্ড। খুনের ঘটনাগুলোর ধরন একই। কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা। খুন হওয়া সবার সাথেই মতাদর্শগত কিছু বিরোধ ছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও গোয়েন্দারা এ তথ্যই জানিয়েছেন। প্রশ্ন জেগেছে এই পাঁচটি হত্যাকাণ্ড কি একই সূত্রে গাঁথা? প্রতিটি ঘটনায় মতাদর্শগত বিষয়টিকে প্রথম দিকে প্রাধান্য দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তদন্ত আর বেশি দূর এগোয়নি। গ্রেফতার হয়নি খুনিরা।

২০১৪ সালের ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন নূরুল ইসলাম ফারুকী। দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় বাসার অন্য সবাইকে পেছনের ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। নিজ বাসার সামনের অফিস কক্ষে এই খুনের ঘটনা ঘটে। পারিবারিক সূত্র জানায়, দুর্বৃত্তরা সংখ্যায় ছিল সাতজন। এর মধ্যে তিনজন বাসায় ঢোকে। অন্যরা ছিল বাসার গেটে। তিনি টিভি উপস্থাপকও ছিলেন। মতাদর্শগতভাবে অনেকের সাথেই তার বিরোধ ছিল। তবে তদন্ত করতে গিয়ে এর সাথে কিছু আর্থিক বিষয়ও জড়িয়ে পড়ে। কারা এবং কেন এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বছর গড়িয়ে গেলেও তা বের হয়নি।
২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোপীবাগ ৬৪/৬ আর কে মিশন রোডের দ্বিতীয় তলায় লুৎফর রহমান ফারুক ও তার ছেলে সরোয়ার ইসলাম ফারুক ওরফে মনিরসহ ছয়জনকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত লুৎফর রহমান নিজেকে ইমাম মাহদীর প্রধান সেনাপতি দাবি করে নতুন এক ধর্মীয় মতবাদ প্রচার করে আসছিলেন। তার কিছু অনুসারী ছিল। তারা প্রায়ই গোপীবাগের ওই বাসায় আসতেন। ঘটনার দিনও যারা এসেছিল তারাও ছিল লুৎফর রহমানের পূর্বপরিচিত।
সিক্স মার্ডার তদন্তে পারিবারিক, ধর্মীয় আদর্শের বিরোধ ও অর্থনৈতিক- এই তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিনজন সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তিনটি চৌকস দল। এ ছাড়া তদন্তের অংশ হিসেবে খতমে আল নবুওয়াত, হিজবুত তাওহিদ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হিজবুত তাহরির, জেএমবি-হুজিসহ সাতটি সংগঠনের সদস্যদের ওপর বিশেষ নজরদারি করা হয়। কিন্তু এরপরও ওই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্যই উদঘাটন সম্ভব হয়নি। কারা এই খুনে জড়িত, কেন এই খুনের ঘটনা ঘটেছে সব কিছুই এখনো অন্ধকারে। গ্রেফতার হয়নি দুর্বৃত্তরা।
২০১৩ সালের ৯ আগস্ট ঈদুল ফিতরের আগের দিন খুলনার খালিশপুরে তৈয়েবুর রহমান (৭০) ও তার ছেলে নাজমুম মনিরকে (১৩) গলা কেটে হত্যা করা হয়। ভক্ত হিসেবে ওই বাসায় ঢোকে দুবর্ৃৃত্তরা বাপ-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করে। মুসলিম উম্মাহ নামে একটি ধর্মীয় সংঠনের প্রধান ছিলেন তৈয়েবুর রহমান। ওই সংগঠনের সদস্যরা শনিবার জুমা এবং প্রতিদিন তিন ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। রোজা রাখতেন ১০টি। নিজেকে আমিরুল মুমিনিন দাবি করতেন তৈয়েবুর।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপীবাগ সিক্স মার্ডারে অংশ নেয়া খুনিরা নিহত লুৎফর রহমান ফারুক ও তার তিন সার্বণিক সঙ্গীর পূর্বপরিচিত ছিল। আগেও একাধিকবার ঘাতকেরা ওই বাসায় গিয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা বলেছেন। লুৎফরের ধর্মীয় মতবাদের অনুসারী হওয়ার জন্য তারা দরবারঘরে বসে বিভিন্ন সময় কথা বলেছে।
গত বছর উত্তরায় খুন হন মাসুম। মাসুম এক সময় জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ছিলেন বলে জানা যায়। পরে তিনি ওই পথ ছেড়ে ফলের ব্যবসায় শুরু করেছিলেন।
এ দিকে গত সোমবার রাতে রাজধানীর বাড্ডায় খুন হন পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খান। তিনিও একজন পীর ছিলেন এবং নিজ বাড়িতেই একটি খানকা পরিচালনা করতেন। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, মতাদর্শগত কারণেই তাকে খুন করা হতে পারে। এই বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিয়ে পুলিশ-গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেছেন। কয়েক কর্মকর্তা বলেছেন, আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর সাথে খিজির হায়াত হত্যার মিল রয়েছে। এদের প্রত্যেককেই গলা কেটে হত্যা করা হয়। মুরিদ সেজে বাসায় ঢোকেই হত্যা করা হয়। এ দিকে এই হত্যাকাণ্ডগুলো নিয়ে পুলিশ-গোয়েন্দাদের প্রথমে ব্যাপক তোড়জোড় থাকলেও পরে তদন্ত আর বেশিদূর এগোয়নি। উদঘাটন হয়নি হত্যার কু। গ্রেফতার হয়নি খুনিরা। একাধিক সূত্র বলেছে, এ হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে অন্য কোনো মোটিভ কাজ করতে পারে, যে কারণেই হত্যার তদন্ত বেশি দূর এগোয়নি।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful