Templates by BIGtheme NET
Home / শিল্প বাণিজ্য / ঈদ ঘিরে সক্রিয় চামড়া পাচারকারীরা

ঈদ ঘিরে সক্রিয় চামড়া পাচারকারীরা

ঈদুল আজহার ন্যূনতম ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতসহ কোনো দেশেই পশুর চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হবে না। এমন আইনি নিষেজ্ঞাধার মধ্যেও চোরাই পথে বাংলাদেশ থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে সক্রিয়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে সে দেশের কিছু ব্যবসায়ী বাংলাদেশি অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অগ্রিম অর্থের লেনদেন করেছে।

আসন্ন কোরবানির ঈদ কেন্দ্রিক সংগৃহীত চামড়া পাচার সম্পর্কিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার পাঠানো এ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের দিকে বেনাপোল, সোনামসজিদ, আখাউড়া, হিলি এবং ভারতের দিকে কালীরাণি, আংরাইল, হরিদাসপুর, জয়ন্তীপুর, বানোবেরিয়া, সুটিয়া, বাঁশঘাট এলাকা দিয়ে কোরবানির চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়েও মিথ্যা ঘোষণায় চামড়া পাচার করে ভারতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ অবস্থায় ঈদের তিন দিন আগে থেকে ঈদ পরবর্তী ৩০ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থলবন্দরসহ পাচারপ্রবণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিতদের পাশাপাশি অতিরিক্ত শুল্ক গোয়েন্দাদের দায়িত্ব দেওয়ার অনুমতি চেয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এনবিআরে চিঠি পাঠিয়েছেন। মহাপরিচালকের পাঠানো চিঠির সঙ্গে চামড়া পাচার সম্পর্কিত শুল্ক গোয়েন্দাদের এ প্রতিবেদনও এনবিআরে পাঠানো হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ চিঠিতে ঈদ কেন্দ্রিক চামড়া পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ঈদ ঘিরে সক্রিয় চামড়া পাচারকারীরা

এনবিআরে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, সীমান্ত এলাকায় ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোরবানির পশুর চামড়া কেনার অগ্রিম লেনদেন ডলারে এবং সোনায় হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় মাপের লেনদেন হুন্ডির মাধ্যমে হচ্ছে। এবারে কোরবানির পশুর চামড়া সরবরাহ কম হতে পারে বলে এমন যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশি বিক্রেতারা ভারতীয় ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দামে কাঁচা চামড়ার দর নির্ধারণ করছেন। চামড়া কিনতে দাদনের (অগ্রিম অর্থ) অর্থ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি নিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে ভারত থেকে চোরাই পথে গরু এনে বাংলাদেশে বিক্রির কাজে জড়িত ব্যবসায়ীরাই এবারে চামড়া বিক্রির অবৈধ ব্যবসায়ে বেশি অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল ভারত থেকে চোরাই পথে বাংলাদেশে গরু এনে বিক্রি করা। দীর্ঘদিন থেকে তারা এ অবৈধ ব্যবসা করে আসছিল। গত বছরের ২৬ মে ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গরু নীতিতে কঠোরতা আরোপ করে। ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি গরু হত্যাকে মহাপাপ বলে বিবেচনা করে। ভারতে গো-হত্যা এবং ভারত থেকে বাংলাদেশসহ সব দেশে গরু রপ্তানি বন্ধ করে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে কোনো গরু যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্যও কঠোরতা আরোপ করে। ফলে গরু বিক্রির কাজে জড়িত পরিবারগুলোর অধিকাংশ অর্থ সংকটে রয়েছে। এসব পরিবারের সদস্যদের চোরাই পণ্য পরিবহনের গোপন রাস্তা ভালোভাবে জানা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চোরাই পথে কোরবানির পশুর চামড়া নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছানোর কাজে ব্যবহারে এরই মধ্যে চোরাকারবারিরা এসব পরিবারের প্রধানদের অগ্রিম অর্থ সরবরাহ করেছে। শুধু গরু পাচারকারীরা নয়, সীমান্ত এলাকার দীর্ঘদিন পাচারের সঙ্গে জড়িতরা এবার বেশি লাভের আশায় কাঁচা চামড়া বিক্রির ব্যবসায়ে জড়িত হচ্ছে। তারা ভারতের অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাঁচা চামড়া বিক্রিতে চুক্তি করছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ভারত থেকে আসা গরুর চামড়া এ দেশের ট্যানারিগুলোর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রধান উৎস। বাংলাদেশে গরু প্রবেশ করতে না পারায় ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়ার ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। ভারতের ট্যানারিগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা। চামড়ার এমন সংকটে ভারতীয় কিছু ব্যবসায়ী বাংলাদেশ থেকে কোরবানির পশুর চামড়া পেতে সীমান্ত এলাকার দীর্ঘদিনের চোরাকারবারিদের সহায়তা নিচ্ছে। কাঁচা চামড়ার চাহিদা এবারে বেশি থাকায় বেশি লাভের আশায় চোরাকারবারিদের তৎপরতা আগেভাগে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে চামড়া খাতে পর্যাপ্ত কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যথেষ্ট তৎপর থাকবে। তাই ভারত এবং বাংলাদেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া কেনাবেচার বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণ করে চলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক অসাধু সদস্যদের সঙ্গে উভয় দেশের অনেক ব্যবসায়ীর অনৈতিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। অবৈধভাবে চামড়া বিক্রির কাজে এসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অতীতে সহযোগিতা করেছে। তাই ঈদুল আজহার সময় দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরও কঠোর নজরদারি করা উচিত।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে বলেন, বেশ কিছু দিন থেকে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধ। আবার ভারতেও গরু জবাই প্রায় বন্ধ। তাই কাঁচা চামড়ার চাহিদা উভয় দেশেই আছে। কোরবানির ঈদে একসঙ্গে অনেক চামড়ার সরবরাহ থাকায় পাচারকারীরা সীমান্ত এলাকা দিয়ে কাঁচা চামড়া পাচারের বিভিন্ন চেষ্টা করবে বলে তথ্য আছে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে শুল্ক গোয়েন্দারা সীমান্ত এলাকায় এরই মধ্যে চোরাকারবারিদের চিহ্নিত করতে নজরদারি বাড়িয়েছে। এ ছাড়া কোরবানির দিনে সরবরাহকৃত কাঁচা চামড়ার পাচার রোধে কোরবানির তিন দিন আগে থেকে এক মাস পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি করা হবে।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful