Templates by BIGtheme NET
Home / জাতীয় / আ.লীগ ১৭৬, বিএনপি ১৯

আ.লীগ ১৭৬, বিএনপি ১৯

মোট পৌরসভা ২৩৪ মেয়র পদে বিজয়ী আ.লীগের বিদ্রোহী ১৭, বিএনপির বিদ্রোহী ২, জাপা ১, স্বতন্ত্র ৬ ২২১টির ফল, একটিতে নির্বাচন বাতিল, চারটির ফল স্থগিত, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আ.লীগের আটজন

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলাফলে সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মেয়র পদে একচেটিয়াভাবে জিতেছেন। গতকাল বুধবার রাত দুইটায় পাওয়া সর্বশেষ হিসাবে, ২২১টি পৌরসভার মধ্যে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ জিতেছে ১৭৬টিতে। আর বিএনপি জিতেছে ১৯টি পৌরসভায়। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ১৭, বিএনপির বিদ্রোহী ২, জাতীয় পার্টি ১ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬টিতে বিজয়ী হয়েছেন। ভোটের আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের আরও ৮ মেয়র প্রার্থী।
চারটি পৌরসভার কিছু কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করায় এগুলোর ফল ঘোষণা করা হয়নি। এর মধ্যে নওগাঁয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ভোট গণনা স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া কেন্দ্র দখল ও গোলযোগের কারণে নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। গতকাল ২৩৪ পৌরসভায় ৩ হাজার ৫৫৫ কেন্দ্রের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়।
সারা দেশ থেকে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন, আহত হন শতাধিক। স্থানীয়ভাবে শতাধিক কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯টি পৌরসভার ৫০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। কেন্দ্র দখল, প্রভাব বিস্তার নিয়ে ৯৪ জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ৯৩টি কেন্দ্র থেকে। সরাসরি ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ ছিল ২৫ কেন্দ্রে। আটক ও গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭২ জন। সাংবাদিক লাঞ্ছিত হন ১১ জন। একনজরে এই ছিল পৌরসভা নির্বাচনে অনিয়মের চিত্র।

বিএনপি একে প্রহসনের নির্বাচন উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে, প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায়, পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর পাহারায় সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপির উৎসবে নেমেছিলেন। বিএনপি ১৫৭টি পৌরসভার দেড় সহস্রাধিক কেন্দ্রে দখল, কারচুপি ও নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে দাবি করলেও ১৮টি পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে ১৭৪টি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার নির্বাচনী পরিবেশ মূল্যায়ন করে প্রথম আলোকে বলেন, দৃশ্যত নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, কিন্তু ভেতরে কিছু ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
নির্বাচনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলে যায়নি। মারপিটের সংস্কৃতি রয়ে গেছে।’ তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ সংস্কৃতি বদলাবে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনের আগে দুই শতাধিক পৌরসভায় বিজয়ী হওয়ার আভাস দিয়েছিল। যদিও পুলিশের গোপন জরিপ বলেছিল, আওয়ামী লীগ ১২৮ ও বিএনপি ৪৯টি পৌরসভায় জিততে পারে।
২৩৪টি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সব কটিতে, বিএনপি ২২৩টি, জাতীয় পার্টি ৭৪টি, জাসদ ২১টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৭টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ৮টি পৌরসভায় প্রার্থী দিয়েছিল। তবে ১৪ দলে থাকা সরকারের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ (জাসদ) নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাকি ১৭টি রাজনৈতিক দল থেকে কোনো মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। সাতটি পৌরসভায় বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীরা এবং একটিতে (বরগুনা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন।
প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গতকাল উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে টান টান উত্তেজনা এবং বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত বেশ কিছু অবাঞ্ছিত ঘটনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন শেষ হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও সাতক্ষীরায় সংঘর্ষে দুজন মারা গেছেন। অন্যান্য স্থানে শতাধিক আহত হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
বরগুনা সদর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা দিনভর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালান। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ৩০ জন আহত হন। পুলিশ সাতজনকে আটক করে। রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন। দুপুরে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল আহসান ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন এবং শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী সৈয়দ আবুল মনসুরের ওপর প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চট্টগ্রাম জেলার ১০টি পৌরসভায়ই পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন গতকাল বিকেলে চট্টগ্রামে তাঁর বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারা, ব্যালট বাক্স ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা, ভোটকেন্দ্রে হামলা প্রভৃতি ঘটনা ঘটিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যাপক জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানকার বিএনপির মেয়র প্রার্থী এ বি এম জিলানী অভিযোগ করেছেন, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহেরের কয়েক শ ক্যাডার আগের রাতেই রায়পুরে অবস্থান নেয়। সকালে তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রগুলো দখল করে ব্যালটে সিল মারে। বেলা ১১টার মধ্যে ব্যালট বাক্স ভরে যায়। মুন্সিগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে আটজন গুলিবিদ্ধ ও কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন সাংবাদিকও রয়েছেন। এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভায়ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
নির্বাচন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন সার্বিকভাবে সুষ্ঠু হয়েছে। ছোটখাটো যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে পুরো নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
নির্বাচনে মেয়রের পদ ৯৪৩, সাধারণ কাউন্সিলরের ২ হাজার ১৯৩টি পদের জন্য ৮ হাজার ৭৪৬ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ৭৩১টি পদের জন্য ২ হাজার ৪৮০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful