Templates by BIGtheme NET
Home / বিনোদন / অভিনয়ে আজিজুল হাকিমের চার দশক

অভিনয়ে আজিজুল হাকিমের চার দশক

অভিনয়ে আজিজুল হাকিম ইতিমধ্যে চার দশক পার করতে চলেছেন। দীর্ঘ এই চার দশকে তিনি অভিনয় করেছেন মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের মতো গণমাধ্যমে। চির সবুজ এই অভিনেতা এখনো দাপটের সাথে নিজেকে তিনটি মাধ্যমেই অভিনয়ে ব্যস্ত রেখেছেন। অভিনয়কে নিয়েছেন পেশা হিসেবে। ক্রমাগত নিজেকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন সামনের দিকে।

আজিজুল হাকিমের অভিনয় শুরু ১৯৭৭ সালে মঞ্চ নাটকের মধ্যে দিয়ে। গ্রুপ থিয়েটার ভিত্তিক নাট্যচর্চার দল আরণ্যকের সদস্য হয়ে তিনি প্রথম অভিনয় করেন ওই দল প্রযোজিত ‘ওরা কদম আলী’ নাটকে। পরে একে একে তিনি অভিনয় করেন ‘ওরা আছে বলেই’, ‘ইবলিস’, ‘গিনিপিগ’, ‘নানকার পালা’, ‘পাথর’, ‘মানুষ’, ‘আদিম’, ‘অববাহিকা’, ‘কোরিওলেনাস’, ‘আগুনমুখা’, ‘জয়জয়ন্তী’ ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, ‘ওরা কদম আলী’ দ্বিতীয় দফায় মঞ্চস্থ হলে তখন নাটকটির নির্দেশনা দেন আজিজুল হাকিম। এছাড়া আরণ্যক প্রযোজিত পথ নাটক ‘আদাব’ ও ‘ঘুমের মানুষের’ নির্দেশনাও দেন।

আজিজুল হাকিম টিভি নাটকে অভিনয় শুরু করেন ১৯৮১ সালে। তার অভিনীত প্রথম নাটক মামুনুর রশীদের রচনায় ও আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের প্রযোজনায় ‘দিন রাত্রির খেলা’। তবে তার দর্শক পরিচিতি আসে মামুনুর রশীদ রচিত আবদুল্লাহ আল মামুন প্রযোজিত ‘এখানে নোঙর’ নাটকের মধ্যে দিয়ে। আজিজুল হাকিম কেন্দ্রীয় চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন শহীদুল হক খান রচিত প্রথম নাটক ‘তবুও তো সে’ মধ্যে দিয়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- এই নাটকে চিত্রনায়িকা অরুনা বিশ্বাসও প্রথম নায়িকা হয়ে আজিজুল হাকিমের বিপরীতে অভিনয় করেন। এছাড়া প্রযোজক আলাউদ্দিন আহমেদও এই নাটকের মাধ্যমে প্রথম প্রযোজনায় আসেন। চার প্রথমের নাটকটি সে সময় বিটিভি দর্শকদের বেশ আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়।

হাকিম ১৯৮৪ সালে প্রথম ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘সময় অসময়’। এরপর তিনি তারকাখ্যাতি অর্জন করেন ‘সংশপ্তক’, ‘শোধ’, ‘আমাদের গল্পের’ মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে।

১৯৯৪ সালে প্যাকেজ নাটক নির্মাণ শুরু হলে হাকিমের ব্যস্ততা ও জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। শুরুর দিকেই তিনি অভিনয় করেন ‘নাটের গুরু’, ‘তিথি’, ‘মহামৃত্যু’, ‘কোথায় সেজন’, ধারাবাহিক ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘দানব’, ‘শিল্পী’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য নাটকে।

আজিজুল হাকিম নাটক ছাড়াও অভিনয় করেছেন ভিন্ন আঙ্গিকের কয়েকটি চলচ্চিত্রেও। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র মোরশেদুল ইসলামের স্বল্পদৈর্ঘ্য ‘বৃষ্টি’। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে‘ শঙ্খনীল কারাগার’, ‘পদ্মানদীর মাঝি’ ও ‘জয়যাত্রা’।

বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে আজিজুল হাকিম অভিনীত একাধিক নাটক। শুটিংয়েও তিনি সমানতালে ব্যস্ত। দীর্ঘ চার দশকের অভিনয়ে নিজের সফলতা ও ব্যর্থতা বর্ণনা করতে গিয়ে আজিজুল হাকিম বলেন, আমি আমার অভিনয়ের সবচেয়ে একজন বড় সমালোচক। আর এই সমালোচনাই আমাকে প্রতিনিয়ত শোধরানোর সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।

হাকিম বলেন, আমি শুরু থেকে এ পর্যন্ত অভিনয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছি এবং এখনো অভিনয়ে টিকে আছি। আমার মনে হয়, আমার এই টিকে থাকাটাই একটা বড় সফলতা। ব্যর্থতার কথা বলতে গিয়ে হাকিম বলেন, যেহেতু আমি পেশাদার অভিনেতা তাই মাঝে মাঝে আমাকে নাটকের মানের সাথে আপোষ করে অভিনয় করতে হয়। আবারও কখনো গিলতে হয় অনুরোধের ঢেঁকি। আমার এই অনিচ্ছাসত্ত্বেও মানহীন নাটকে অভিনয় করাটাই ব্যর্থতার একটা অংশ। আসলে পেশাদারিত্ব টেকাতে হলে মাঝে-মধ্যে ভালোমন্দ মিলিয়েই কাজ করে যেতে হয়। তবে মন্দ নাটকে অভিনয় করলেও আমি কখনো আমার অভিনয়ের ক্ষেত্রে আপোষ করিনি। আমি বরাবরই আমার চরিত্র সাধ্যমতো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে। পুরনো ইমেজ ভেঙে নতুন ইমেজ গড়তে।

পেশা হিসেবে অভিনয়ের উপর নির্ভরশীলতা প্রসঙ্গে আজিজুল হাকিম বলেন, আমি এখন পেশা হিসেবে অভিনয় নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। তাছাড়া নতুন যে কেউই নিজেকে তৈরি করে নিয়ে অভিনয়ে খুব সহজেই পেশা গড়তে পারেন। তিনি বলেন, এখন প্রচুর চ্যানেল, প্রচুর নাটক এবং সুযোগ-সুবিধাও অনেক। শুধু মেধা ও শ্রমের বিনিয়োগ করে এখানে ক্যারিয়ার গড়া কঠিন কিছু নয়।

টিভি নাটকে অভিনয় করতে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে হাকিম বলেন, অভিনয়ের সূতিকাগার হচ্ছে মঞ্চ। যারা মঞ্চের অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনয়ে আসেন তাদের স্থায়ীত্ব হয় দীর্ঘদিনের এবং পাকা। তবে অনেকে আজকাল ভিন্নমত পোষণ করলেও তারা তা করছেন সম্পূর্ণ না জেনে। টিভি ও মঞ্চ দু’টি আলাদা ক্ষেত্র হলেও দু’টির মাঝেই একটি যোগসূত্র অবশ্যই আছে। এখনও যারা দাপটের সঙ্গে অভিনয়ে টিকে আছেন তারা সবাই মঞ্চের অভিজ্ঞতা থাকাতেই পারছেন। নতুনরা এসে স্থায়ী হতে না পারার কারণ বর্ণনা করে বলেন, নতুনদের মধ্যে সবসময়ই একটা অস্থিরতা কাজ করে। তারা সবসময় কেবল তারকাখ্যাতি অর্জনের আশায় সময় পার করে। দু’চারটি নাটকে তারকাখ্যাতি পাওয়ার পর পরই অভিনয়ে অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে ক্যারিয়ারে ধস নামিয়ে ছিটকে পড়ে।

আজিজুল হাকিম অন্য আরেকটি প্রশ্নের জবাবে বলেন, তার পারিবারিক উৎসাহ ও প্রেরণা না থাকলে তিনি আজকের এই আজিজুল হাকিম হতে পারতেন না। তিনি বলেন, আমার অভিনয়ের প্রথম দিকে আমার বাবা-মা, ভাই-বোনসহ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশিরা বেশি উৎসাহ দিয়েছেন। পরবর্তিতে স্ত্রী-কন্যাসহ সহকর্মীদের প্রচুর প্রেরণা ও ভালোবাসা আমাকে ক্রমশ শীর্ষে উঠার যোগান দিয়েছে। এছাড়া আমার মেধা, শ্রম যথাযথ ব্যবহারে আমাকে একজন অভিনেতা হিসেবে অনেকের মাঝে স্থান করে দিয়েছে।

আজিজুল হাকিম তার পরিবার, পরিজন ও বন্ধু বান্ধবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কর্তার পেশার প্রতি যদি তার পারিবারিক সাপোর্টই না থাকে তাহলে কর্তা কখনোই সে পেশায় সাফল্য পায় না। আজিজুল হাকিম আজীবন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান দর্শকের ভালোবাসা নিয়ে। তবে তিনি বয়স অনুযায়ী চরিত্রে অভিনয় করতে চান।

অভিনয়ের পাশাপাশি আজিজুল হাকিম এ পর্যন্ত কয়েকটি নাটক পরিচালনাও করেছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথম ‘যা হারিয়ে যায়’ মেগা সিরিয়ালের পরিচালনা করেন। এটি এটিএন বাংলায় প্রচার হয়। পরে তিনি ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’সহ অনেকগুলো ধারাবাহিক, একক ও টেলিফিল্ম পরিচালনা করেন।

আজিজুল হাকিমের ভবিষ্যৎ ইচ্ছা চলচ্চিত্র নির্মাণের। সে জন্য ইতিমধ্যেই তিনি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আমি ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যস্ত হবো। তবে টিভি নাটকে অভিনয় করে যাব নিয়মিত। চলচ্চিত্র নির্মাণটা আমি খুব শিগগিরই শুরু করতে চাই। সেজন্য আমি বেশ কয়েকজন লেখকের গল্প-উপন্যাস পড়ছি। আমি নতুন কোনো গল্পের চিত্রনাট্য করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবো না। আমার সবগুলো চলচ্চিত্রই নির্মিত হবে বিখ্যাত লেখকদের গল্প-উপন্যাস অবলম্বনে। আমি অন্তত আমার চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যাপারে কোনো আপোষ করতে চাই না।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful